জন্ম কুষ্টির কোন ঘরে বিরাজ করছেন শনি দেব তার উপরই কিন্তু নির্ভর করে আপনার ভালো-মন্দ!

জন্ম কুষ্টিতে শনির অবস্থান জোড়ালে হলেই যে খারাপ সময় শুরু হয়ে যায়, এমন নয় কিন্তু! আসলে কুষ্টির কোন ঘরে শনি গ্রহ অবস্থান করছে, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে থাকে। যেমন ধরুন...

একথা তো সবারই জানা আছে যে বৈদিক অ্যাস্ট্রোলজিতে শনি গ্রহকে সবথেকে ভয়ের চোখে দেখা হয়। কারণ কারও উপর শনির বক্র দৃষ্টি পরলে একের পর এক সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে লেজুড় হয় মানসিক অশান্তিও। ফলে জীবনের প্রতিটি দিন যে দুঃখের কালো মেঘে ঢেকে যায়, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে না! শুধু তাই নয়, ভয়ের বিষয়টা হল একবার শিন গ্রহের প্রভাবে একবার সাড়ে সাতির প্রকোপ শুরু হয়ে গেলে তা কম করে সাত বছর পর্যন্ত থাকে। অর্থাৎ এক-দুই বছর নয়, টানা সাত বছর জীবনে আনন্দের প্রবেশাধিকার রদ হয়ে যায়। তাই তো বলি বন্ধু, শনি দেব যাতে কখনও রুষ্ট না হন সেদিকে নজর রাখা কিন্তু একান্ত প্রয়োজন।

তবে এক্ষেত্রে একটা জিনিস জেনে রাখা দরকার। তা হল জন্ম কুষ্টিতে শনির অবস্থান জোড়ালে হলেই যে খারাপ সময় শুরু হয়ে যায়, এমন নয় কিন্তু! আসলে কুষ্টির কোন ঘরে শনি গ্রহ অবস্থান করছে, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে থাকে। আর যদি ঠিক ঠিক জায়গায় শনি গ্রহ অবস্থান করে তাহলে তো ক্ষতি হয়ই না, উল্টে দেবের আশীর্বাদে কর্মক্ষেত্র থেকে সামাজিক জীবন সব ক্ষেত্রেই সম্মান বৃদ্ধি পায় চোখে পরার পর। সেই সঙ্গে রোগ-ব্যাধি সব দূরে পালানোর কারণে আয়ুও বাড়া চোখে পরার মতো। তাই তো বলি বন্ধু, এখনই একবার জন্ম কুষ্টিটা খুলে দেখে নিন কোন ঘরে রয়েছে শনি!

এখন প্রশ্ন হল কুষ্টির ঘর অনুসারে শনির অবস্থান ভেদে আমাদের জীবনের উপর কেমন প্রভাব পরে?

১. কুষ্টির প্রথম ঘর বা

১. কুষ্টির প্রথম ঘর বা "ফার্স্ট হাউজ":

আপনার শরীরের গঠন কেমন হবে, কেমন ভাবেই বা আপনি কথা বলবেন, তা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে কুষ্টির প্রথম ঘরটি দ্বারা। তাই তো এই ঘরে শনি দেবে ঢুকে গেলে যে যে ঘঠনাগুলি ঘটতে শুরু করে, সেগুলিকে কোনও ভাবে খারাপ বলা চলে না। কারণ এমনটা হলে একদিকে যেমন শরীরের গঠন বেজায় মজবুত হয়, তেমনি সামাজিক সম্মানও বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো। সেই সঙ্গে ছোট-বড় সব রোগ দূরে পালাতে শুরু করে। ফলে আয়ু বাড়ে চোখে পরার মতো। তবে কিছু কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যেমন ধরুন কুষ্টির প্রথম ঘরে শনি দেবের প্রবেশ ঘটলে নানাবিধ হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, বিশেষত আর্থ্রাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা যায় বেড়ে। শুধু তাই নয়, ভাই-বোনের সঙ্গে সম্পর্কটাও একেবারে ভাল যায় না। ফলে একাকিত্ব কখন-সখনও জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। তাই তো যাদের প্রথম ঘরে শনি থাকে, তাদের নীলা পরার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে কর্কট এবং সিংহরাশির ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানলে কিন্তু চলবে না। প্রসঙ্গত, জ্যোতিষ শাস্ত্র নিয়ে যারা চর্চা করেন, তাদের মতে যাদের জন্ম কুষ্টির এই বিশেষ স্থানে শনি দেব অবস্থান করেন, তাদের বড় কোনও সরকারি চকরি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২. দ্বিতীয় ঘর বা সেকেন্ড হাউজ:

২. দ্বিতীয় ঘর বা সেকেন্ড হাউজ:

অর্থনৈতিক দিক থেকে কে কতটা উন্নতি করবে, পারিবারিক জীবনই বা কেমন যাবে অথবা জীবনে চলের পথে কী কী সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে সেই সব সম্পর্কে জানা যায় কুষ্টির দ্বিতীয় ঘর বিশেষণ করে। তাই তো এই ঘরে শনি দেব যদি অবস্থান করেন, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ! কারণ সেক্ষেত্রে মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন বেড়ে যায়, তেমনি নানাবিধ পারিবারিক ঝামেলায় মানসিক শান্তি দূরে পালাতেও সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, শনির প্রভাব যত দিন না কাটছে, ততদিন বেশিরভাগ সমায়ই একাকিত্বে ভোগার আশঙ্কাও থাকে। সেই সঙ্গে ছোট ছোট কারণে সামাজিক সম্মানহানীর যোগও সুদৃঢ় হয়। তাই তো বলি বন্ধু, আপনার জন্ম কুষ্টির দ্বিতীয় ঘরে যদি শনির প্রবেশ ঘটে, তাহলে নানাবিধ বিপদ থেকে বাঁচতে কতগুলি বিষয় নজরে রাখা একান্ত প্রয়োজন। যেমন ধরুন- মায়ের শরীরের দিকে নজর রাখতে হবে, ভুলেও পকেটে কয়েন রাখা চলবে না এবং লোহার জিনিসপত্র কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রসঙ্গত, এই নিয়মগুলি মানলে দেখবেন কিচুটা হলেও অশান্তি দূর থাকবে।

৩. তৃতীয় বা থার্ড হাউজ:

৩. তৃতীয় বা থার্ড হাউজ:

জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে কুষ্টির তৃতীয় ঘরে শনি গ্রহের প্রবেশ ঘটলে কথায় কথায় মেজাজ হারিয়ে ফেলার সম্ভবনা থাকে। ফলে ছোট ছোট কারণে পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া-ঝাটিতে জড়িয়ে পরার আশঙ্কাও যায় বেড়ে। সেই সঙ্গে নানাবিধ সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার করণে সুখ-শান্তির ঝাঁপি খালি হয়ে যেতেও সময় লাগে না। তবে কিছু কিছু সুফলও পাওয়া যায়। যেমন ধরুন- পড়াশোনা এবং কর্মক্ষেত্রে উন্নতি লাভের সম্ভাবনা বাড়ে এবং সেই সঙ্গে নানা জায়গায় ঘোরার একের পর এক সুযোগও আসতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, তৃতীয় ঘরে শনি দেব অবস্থান করলে সাধারণত যে যে খারাপ ঘটনাগুলি ঘটার আশঙ্কা থাকে, সেগুলিকে এড়াতে নিয়মিত হনুমান চল্লিশা পাঠ করতে করতে হনুমানজির পুজো করতে হবে, সেই সঙ্গে সুযোগ পেলেই লোহার জিনিস কিনতে হবে। এমনটা করলে দেখবেন খারাপ সময় কেটে যেতে সময় লাগবে না। তবে এই সব রেমেডিগুলি ছাড়াও আরও বিশেষ কিছু নিয়ম আছে যা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললে কুষ্টির যে ঘরেই শনি দেব অবস্থান করুন না কেন, কোনও ক্ষতি হওয়ায় আশঙ্কাই থাকে না। তাই তো বলি বন্ধু, শনি দেবকে সন্তুষ্ট করতে যদি চান, তাহলে যে যে নিয়মগুলি মেনে চলতে হবে, সেগুলি হল...

১. অশ্বত্থ গাছের পুজো করতে ভুলবেন না যেন:

১. অশ্বত্থ গাছের পুজো করতে ভুলবেন না যেন:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে শনিবার করে অশ্বত্থ গাছের পুজো করলে জীবনে পজেটিভ শক্তির প্রভাব বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে শনি দেবও খুব খুশি হন। ফলে খারাপ কোনও ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যায় কমে।

২.প্রতি শনিবার শনি মন্ত্র জপ করে দেবের অরাধনা করতে হবে:

২.প্রতি শনিবার শনি মন্ত্র জপ করে দেবের অরাধনা করতে হবে:

"ওম নীলাঞ্জন সমভাহাসাম রাবি পুত্রাম ইয়ামাগরাজান চায়া মার্তান্ডা-সামভুতাম তাম নমামি শানিশভারাম", এই মন্ত্রটি যদি নিয়মিত পাঠ করতে পারেন, তাহলে শনিদেব এতটাই প্রসন্ন হন যে শনির মহাদশার খপ্পরে পরার আশঙ্কা কমে।

৩. হাত খুলে গরীব মানুষদের দান করতে হবে:

৩. হাত খুলে গরীব মানুষদের দান করতে হবে:

শনি দেব হলেন কর্মের দেবতা। তাই তাঁর প্রকোপ থেকে যদি বাঁচতে চান, তাহলে মন খুলে লোকের সেবা করুন। সেই সঙ্গে ক্ষমতা অনুসারে দান-ধ্যানও খরুন। এমনটা করলে শনি দেব তো প্রসন্ন হবেনই, সেই সঙ্গে সুকর্মের প্রভাবে জীবন সুন্দর হয়ে উঠতে দেখবেন সময় লাগবে না।

৪. কালো তিল:

৪. কালো তিল:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রতি শনিবার দুধের সঙ্গে কালো তিল মিশিয়ে শিব লিঙ্গের অভিষেক করলে শনির সাড়ে সাতি কাটতে শুরু করে। আসলে যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে ভগবান শিবের ভক্ত হলেন শনি। তাই গুরুর পুজো করলে শিষ্যের প্রভাব কাটতে সময় লাগে না।

৫. সরষের তেলে শনির পুজো:

৫. সরষের তেলে শনির পুজো:

শাস্ত্র মতে একটি বাটিতে পরিমাণ মতো সরষের তেল নিয়ে তাতে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে যদি তা দান করা যায়, তাহলে শনি দেবের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। এই কাজটি করতে হবে প্রতি শনিবার, তবেই মিলবে ফল।

৬. শনিবার করে খিচুরি খেতে হবে:

৬. শনিবার করে খিচুরি খেতে হবে:

শনির সাড়েসাতি চালাকালীন প্রতি শনিবার খিচুড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে। শুধু তাই নয়, খেয়াল করে সেদিন সব ধরনের নিরামিষ খাবার থেকেও দূরে থাকতে হবে। এমনটা যদি নিয়মিত করতে পারেন। তাহলে দেখবেন শনি দেবের প্রভাব কাটতে সময় লাগবে না। কারণ এই বিশেষ সময়ে শনি দেব, জাতক-জাতিকাদের জীবনের সবথেকে কঠিন সময়ের সামনে এসে দাঁড় করান, যাতে তারা আগামী দিনে যে কোনও ধরনের পরিস্থিতিতে মানিয়ে চালার মতো মানসিকতা তৈরি করতে পারেন। তাই তো শনিদেবকে যদি প্রসন্ন করতে চান, তাহলে এই সময় সাত্ত্বিক আহার করতে ভুলবেন না যেন!

৭. শিব ঠাকুরের পুজো করা মাস্ট:

৭. শিব ঠাকুরের পুজো করা মাস্ট:

শাস্ত্র মতে শনিদেব হলেন ভগবান শিবের ভক্ত। তাই তো শনির মহাদশা চলাকালীন যদি নিয়মিত ভগবান শিবের পুজো করা যায় তাহলে শনি দেবের প্রভাব কমতে সময় লাগে না। তাই আপনার বার্থ চার্টে যদি শনির মহাদশার যোগ থাকে, তাহলে সময় নষ্ট না করে ভগবান শিবের পুজো করা শুরু করুন। সেই সঙ্গে সোম এবং শনিবার দুধ এবং জল দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করুন। দেখবেন উপকার পাবেই পাবেন।

৮. হনুমান জির পুজো করতে হবে:

৮. হনুমান জির পুজো করতে হবে:

প্রাচীন শাস্ত্রে একটি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। একবার রাবন তার পুত্র মেঘনাথকে অজেয় বানানোর আশীর্বাদ লাভের উদ্দেশ্যে কঠোর তপস্যা শুরু করেছিলেন। কিন্তু এমন আশীর্বাদ রাবনের পুত্রকে একেবারেই দিতে চাইছিলেন না শিব এবং বিষ্ণু। এ খবর রাবনের কানে পৌঁছানো মাত্র তিনি নটি গ্রহকে অপহরণ করে লঙ্কার এক গোপন স্থানে বন্দি করে রাখেন। এই সময়ই শ্রী হনুমান মা সীতার খোঁজে লঙ্কায় এসে পৌঁছান। আর ঘটনা চক্রে খোঁজ পেয়ে যান সেই গোপন কুঠুরির। সব কথা শোনার পর তিনি মুক্তি দেব নব গ্রহদের, যার অন্যতম ছিলেন শনি দেব। এমন সাহায্যে করার জন্য শনি দেব এতটাই প্রসন্ন হয়েছিলেন যে শ্রী হনুমানকে অশীর্বাদ করেন যে তাঁর এবং তাঁর শিষ্যদের উপর কোনও দিন শনির খারাপ প্রভাব পরবে না। তাই তো শনির মহাদশা থেকে বাঁচতে মারুথির পুজো করাটা জরুরি। এক্ষেত্রে প্রতি মঙ্গল এবং শনিবার হনুমান জি-এর পুজো করা শুরু করতে হবে। সেই সঙ্গে হনুমান চল্লিশা পাঠ করলে ফল মিলবে আরও দ্রুত।

৯. কালো উরাদ ডাল দান করতে হবে:

৯. কালো উরাদ ডাল দান করতে হবে:

শনিবার গরিব মানুষদের কালো উরাদ ডাল দান করলে শনি দেব খুব প্রসন্ন হন। ফলে তার প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। এই কারাণেই যাদের কুষ্টিতে শনির মহাদশার উল্লেখ রয়েছে, তাদের এই উপদেশটি দেওয়া হয়ে থাকে। প্রসঙ্গত, কালো উরাদ ডাল দান করার পাশাপাশি নদিতে যদি অল্প করে এই বিশেষ ডালটি ভাসানো যায়স তাহলে দারুন উপকার মেলে।

Story first published: Saturday, September 29, 2018, 12:08 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion