কী কী নিয়ম মেনে ঠাকুর ঘর পরিষ্কার করা উচিত জানা আছে?

Written By:
Subscribe to Boldsky

ঠাকুর ঘর হল বাড়ির সবথেকে পবিত্রতম অংশ, যেখানে ভগবানের বাস। তাই এই অংশটির পবিত্রতা যাতে কোনওভাবে ক্ষুন্ন না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। না হলে কিন্তু গৃহস্থের অন্দরে নেগেটিভ শক্তির প্রভাব বাড়তে শুরু করবে। সেই সঙ্গে আশঙ্কা বাড়বে একের পর এক খারাপ ঘটনা ঘটার। তাই কী কী নিয়ম মেনে ঠাকুর ঘর পরিষ্কার করা উচিত, সে বিষয়টি খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। না হলে কিন্তু...!

শাস্ত্র মতে ঠাকুর থেকে ঠাকুর ঘর, সব কিছুই পরিষ্কার করতে হবে পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন নিয়ম করে ঠাকুর ঘর এবং দেব-দেবীদের মূর্তি বা ছবি পরিষ্কার করে তবেই পুজো শুরু করা উচিত। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই নিয়ম না মানলে ভগবান অপবিত্র থেকে যান। ফলে তার ক্ষমতা কমতে শুরু করে। আর এমনটা হলে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে, তেমনি আরও নানাবিধ সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, কর্মক্ষেত্র থেকে পরিবারিক জীবন, সব ক্ষেত্রেই নানা বাঁধা আসতে শুরু করে। তাই এমনটা আপনার সঙ্গেও ঘটুক যদি না চান, তাহলে বাকি প্রবন্ধটি পড়ে ফেলে জনে নিন কী কী নিয়ম মেনে পরিষ্কার করা উচিত ঠাকুর ঘর।

প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখা জরুরি, সেগুলি হল...

১. তামার ঠাকুরের মূর্তি:

১. তামার ঠাকুরের মূর্তি:

অনেকেই এমন ধরনের মূর্তি জল দিয়ে ধুয়ে থাকেন। এমনটা করলে মূর্তির গায়ে লেগে থাকা ময়লা বা ধূলো ঠিক মতো পরিষ্কার হয় না। ফলে অপবিত্রই থেকে যান সর্বশক্তিমান। আর এমনটা হলে কী ক্ষতি হতে পারে, তা তো এতক্ষণে জেনেই গেছেন। এখন প্রশ্ন হল, তামার মূর্তি কীভাবে পরিষ্কার করতে হবে? এক্ষেত্রে অর্ধেক লেবুর গায়ে অল্প পরিমাণ নুন লাগিয়ে তামার মূর্তির গায়ে ভাল করে ঘষতে হবে। তারপর গরম জল দিয়ে মূর্তিটা ধুয়ে ফললেই দেখবেন ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত, লেবু এবং নুনের সঙ্গে যদি কয়েক ফোঁটা ভিনিগার মেশাতে পারেন, তাহলে আরও সুন্দরভাবে পরিষ্কার হয় তামার মূর্তি।

২. রূপোর বাসন এবং মূর্তি:

২. রূপোর বাসন এবং মূর্তি:

অনেকেই ঠাকুর ঘরে রূপোর প্রদীপ বা থালা-বাসন ব্যবহার করে থাকেন। এইসব উপকরণ পরিষ্কার করতে কাজে লাগাতে হবে টুথপেস্টকে। একেবারেই ঠিক শুনেছেন! অল্প পরিমাণ টুথপেস্ট, রূপোর বাসন, প্রদীপ অথবা মূর্তির গায়ে লাগিয়ে কিছু সময় রেখে দিন। তারপর ব্রশ দিয়ে ভাল করে ঘষে নিন। কিছু সময় অপেক্ষা করে গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রসঙ্গত, রূপোর বাসনপত্র ধোয়ার জন্য আরেকটা ঘকোয়া টোটটাকে কাজে লাগাতে পারেন। কী সেই পদ্ধতি? একটা পাত্রে গরম জল নিয়ে তাতে অল্প পরিমাণে বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। তারপর রুপার পুজা সামগ্রি নিমজ্জিত করে ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৩. পেতলের মূর্তি:

৩. পেতলের মূর্তি:

খেয়াল করে দেখবেন অনেকেই ঠাকুর ঘরে পেতলের গণেশ মূর্তি রেখে থাকেন। এমন মূর্তি কীভাবে পরিষ্কার করতে হবে জানা আছে? এক্ষেত্রে অর্ধেক লেবু নিয়ে তাতে অল্প পরিমাণ বেকিং সোডা লাগিয়ে পেতলের ঠাকুরের মূর্তির গায়ে লাগিয়ে ভাল করে ঘষতে থাকুন। কয়েক সেকেন্ড ঘষার পর পরিষ্কার একটা কাপড়, গরম জলে ভিজিয়ে ভাল করে মুছে ফেলুন মূর্তিটা। এমনটা করলে দেখবেন মূর্তিটা সুন্দরভাবে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

৪. ঠাকুর ঘরের মেঝে:

৪. ঠাকুর ঘরের মেঝে:

অনেকেই ঠাকুর ঘর পরিষ্কার করে থাকেন সেই একই ঝাঁটা দিয়ে , যা ঘরদোর পরিষ্কার করার কাজে লাগিয়ে থাকেন। এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়। শাস্ত্র মতে অপরিষ্কার কেনও কিছুই ঠাকুর ঘরের অন্দরে প্রবেশ করা চলবে না। এমনটা করলে নানাবিধ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যাবে বেড়ে। তাই ঠাকুর ঘরের মেঝে পরিষ্কার করতে হবে পরিষ্কার কাপড়ের সাহায্যে। এক্ষেত্রে গরম জলে পরিমাণ মতো বেকিং সোডা এবং লেবুর রস মিশিয়ে সেই মিশ্রন দিয়ে ভাল করে মুছে নিতে হবে ঠাকুর ঘরের মেঝে এবং দেওয়াল। এমনটা করলে দেখবেন গৃহস্থের সবথেকে পবিত্রতম জায়গাটি পরিষ্কার তো হবেই, সেই সঙ্গে পবিত্রতাও বজায় থাকবে।

৫. পুজোর ঘরের দরজা:

৫. পুজোর ঘরের দরজা:

বেশিরভাগ বাড়িতেই পুজো ঘরের দরজা কাঠের হয়ে থাকে। এই ধরনের দরজা পরিষ্কার করার জন্য কাজে লাগাতে পারেন অলিভ অয়েলকে। এক্ষেত্রে তুলোর সাহায্যে অলিভ অয়েল দরজায় লাগিয়ে ভাল করে ঘষতে হবে। তাহলেই দেখবেন সমস্ত ময়লা পরিষ্কার হয়ে গেছে।

৬. ঠাকুরের জামা কাপড়:

৬. ঠাকুরের জামা কাপড়:

এক্ষেত্রে একটি জিনিস মাথায় রাখা জরুরি যে প্রতিদিন পরিষ্কার জামা-কাপড় পরাতে হবে ঠাকুরকে। ভুলেও অপরিষ্কার কাপড় পরিয়ে রাখবেন না। এমনটা করলে দেবের পবিত্রতা ক্ষুন্ন হবে। ফলে শক্তি কমবে সর্বশক্তিমানের। প্রসঙ্গত, ঠাকুরের জামা-কাপড় পরিষ্কার করতে হবে পরিষ্কার সাবান জল দিয়ে। তারপর তা ধুয়ে ফেলতে হবে পরিষ্কার গরম জলের সাহায্যে।

Read more about: ধর্ম
English summary

ঠাকুর ঘর হল বাড়ির সবথেকে পবিত্রতম অংশ, যেখানে ভগবানের বাস। তাই এই অংশটির পবিত্রতা যাতে কোনওভাবে ক্ষুন্ন না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। না হলে কিন্তু গৃহস্থের অন্দরে নেগেটিভ শক্তির প্রভাব বাড়তে শুরু করবে।

If you’re a believer, then you already know that a home without a pooja room is just a dwelling. One of the most important places in the house, the pooja room, is the center of all the energy. And since it’s a place of worship, your pooja items need to be cleaned regularly.Here we tell you how to clean your pooja room with easy peasy home remedies.
Story first published: Monday, March 19, 2018, 10:36 [IST]