বাড়ির সদর দরজার সামনে পঞ্চমুখি হনুমানজির ছবি বা মূর্তি রাখলে কী কী উপকার পাওয়া যায় জানা আছে?

শাস্ত্র মতে মঙ্গলবার হল হনুমানজির দিন। তাই তো আজই পঞ্চমুখি হনুমানজির একটা ছবি বা মূর্তি এনে বাড়ির সদর দরজার সামনে রাখুন। তারপর দেখুন কেমন বদলে যায় আপনার জীবন।

শাস্ত্র মতে মঙ্গলবার হল হনুমানজির দিন। তাই তো আজই পঞ্চমুখি হনুমানজির একটা ছবি বা মূর্তি এনে বাড়ির সদর দরজার সামনে রাখুন। তারপর দেখুন কেমন বদলে যায় আপনার জীবন।

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে হনুমানজির এই অবতারের অন্দরে এত মাত্রায় শুভ শক্তি মজুত থাকে যে আপনার বাড়ির ধারে কাছে খারাপ শক্তি ঘেঁষতে পারে না। ফলে কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি মেলে আরও অনেক উপকার, যে সম্পর্কে এই প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তবে তার আগে দেবের পঞ্চমুখি অবতারের অবির্ভাব ঘটল কীভাবে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়াটা একান্ত প্রয়োজন।

রাম-রাবণের যুদ্ধ চলাকালীন রাক্ষস রাজ রাবণ, পাতাল দেবতা অহিরাবণের সাহায্য চান। সেই মতো পাতাল দেবতা রাম এবং লক্ষণকে অপহরণ করে নিয়ে যান পাতালপুরীতে। এদিকে চারিদিক খুঁজেও যখন রাম-লক্ষণের খোঁজ পাওয়া যায় না, তখন মারুথি নিজ শক্তিবলে জানতে পারন দশরথ পুত্ররা রয়েছেন পাতালের অন্ধকারে। এর পর পরই তিনি পাতালপুরীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছান, তখন দেখেন অহিরাবণের প্রাণ পাঁচটি প্রদীপের মধ্যে রয়েছে, যাদেরকে একসঙ্গে নেভালে তবেই মারা পরবে পাতাল রাজ। কিন্তু সেই পাঁচটি প্রদীপ রয়েছে আলাদা আলাদা জায়গায়। তাহলে উপায়? এই ভাবতে ভাবতে হনুমানজি পাঁচটি অবতারে আবির্ভাব হয়ে একসঙ্গে পাঁচটি প্রদীপকে নিভিয়ে দেন। মৃত্যু হয় অহিরাবণের। অবশেষে মুক্তির স্বাদ পান রাম এবং লক্ষণ। শাস্ত্রে বলে পাঁচটি শক্তিশালী অবতারের প্রাণকেন্দ্র হল পঞ্চমুখি হনুমানজি। তাই তো এই অবতারের অন্দরে এত মাত্রায় শক্তি মজুত রয়েছে যে তাকে যদি ঠিক ঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে জীবনের ছবিটা বদলে যেতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, পূরণ হয় মনের ছোট থেকে ছোট ইচ্ছাও। তাই তো বন্ধু দুঃখ-কষ্টের জীবনকে ভুলে যদি সুখে-শান্তিতে বাকি জীবনটা কাটাতে চান, তাহলে এই প্রবন্ধটি পড়তে ভুলবেন না যেন!

প্রসঙ্গত, বাড়ির সদর দরজায় পঞ্চমুখি হনুমানজির স্টিকার লাগাতে পারেন অথবা মূল ফটকের সামনে রাখতে পারেন দেবের মূর্তি। এমনটা যদি করেন, তাহলে যে যে সুফলগুলি পাওয়া যায়, সেগুলি হল...

১.দুঃখ-কষ্ট কমতে শুরু করে:

১.দুঃখ-কষ্ট কমতে শুরু করে:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে বাড়িতে পঞ্চমুখি হনুমানজির মূর্তি এনে রাখলে গৃহস্থের অন্দরে এত মাত্রায় পজেটিভ শক্তির বিকাশ ঘটতে শুরু করে যে অশুভ শক্তি ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। ফলে কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি সুখের ঝাঁপি খালি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। শুধু তাই নয়, পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সম্ভাবনাও কমে।

২.মনের জোর বাড়ে:

২.মনের জোর বাড়ে:

কথায় বলে মনের ক্ষমতা যত বাড়তে থাকে, তত জীবন সোজা হয়ে যায়। কারণ মন হল সেই শক্তির আধার, যা আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়, দুঃখের সময় মাথা নাওয়াতে মানা করে এবং জীবনযুদ্ধে জয়লাভ করার রসদ জোগায়। তাই তো বলি বন্ধু মনের ক্ষমতাকে বাড়াতে হনুমানজির এই বিশেষ অবতারের ছবি বা মূর্তি বাড়িতে নিয়ে আসতে দেরি করবেন না যেন! এমনটা করলে দেখবেন মনের জোর এতটা বেড়ে যাবে যাবে যে জীবন পথে চলতে চলতে সামনে আসা কোনও বাঁধাই আর বাঁধা মনে হবে না। ফলে সফলতা আপনার রোজের সঙ্গী হয়ে উঠবে।

৩. গ্রহদোষ কেটে যাবে:

৩. গ্রহদোষ কেটে যাবে:

আপনি কি কোনও গ্রহদোষে ভুগছেন? তাহলে আজই বাড়িতে পঞ্চমুখি হনুমানজির ছবি বা মূর্তি এনে রাখুন, দেখবেন গ্রহের কু-প্রভাব কমতে শুরু করবে। ফলে কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমবে, তেমনি জীবনে কঠিন সময়ের সম্মুখিন হওয়ার সম্ভাবনাও যাবে কমে। প্রসঙ্গত, যারা মঙ্গল এবং শনির দোষে দুষ্ট, তারা আজ থেকেই পঞ্চমুখি মারুথির আরাধনা শুরু করেন। দেখবেন ফল পাবেন একেবারে হাতে-নাতে!

৪. চরম সফলতা লাভের সম্ভাবনা বাড়ে:

৪. চরম সফলতা লাভের সম্ভাবনা বাড়ে:

কর্মক্ষেত্রে চটজলদি পদন্নতি চান নাকি? তাহলে মারুথির এই বিশেষ অবতারের ছবি এনে বাড়িতে রাখুন, দেখবেন স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগবে না। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে হনুমানজির আশীর্বাদে মন এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতা এতটা বাড়তে থাকে যে চরম সফলতা লাভ করতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও রোজের সঙ্গী হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, শাস্ত্র মতে পঞ্চমুখি হনুমানজির ছবি বাড়ির মূল ফটকের উপর লাগিয়ে রাখলে কোনও ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে।

৫. রোগ-ব্যাধি দূরে পালায়:

৫. রোগ-ব্যাধি দূরে পালায়:

একেবারে ঠিক শুনেছেন! এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে পঞ্চমুখি হনুমানজির ছবি বা মূর্তির সামনে প্রদীপ বা ধূপ জ্বালালে দেবের আশীর্বাদ লাভ করতে সময় লাগে না। আর এমনটা হলে কঠিন থেকে কঠিনতর রোগের প্রকোপ কমে যায়। সেই সঙ্গে শরীরের ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে রোগভোগের আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। আর যেমনটা আপনাদের সবাই জানা আছে যে শরীর যখন চাঙ্গা হয়ে ওঠে, তখন জীবনে সুখ-শান্তির ছোঁয়া লাগতে সময় লাগে না।

৬. এনার্জির ঘাটতি দূর হয়:

৬. এনার্জির ঘাটতি দূর হয়:

নিয়মিত হনুমানজির পুজো করা শুরু করলে চারিপাশে পজেটিভ এনার্জির মাত্রা এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে শরীরের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, দেহের পাশাপাশি মস্তিষ্কের অন্দরে এমন বদল আসতে শুরু করে যে খারাপ চিন্তা গ্রাস করার সম্ভাবনাও যায় কমে। সেই সঙ্গে স্ট্রেস লেভেলও কমতে শুরু করে।

Story first published: Tuesday, May 29, 2018, 11:06 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion