প্রতিদিন ভাগ্য সঙ্গ দিক এমনটা চাইলে সপ্তাহের ৭ দিন এই ৭ ধরনের নিয়ম মেনে চলতে ভুলবেন না যেন!

কে বললো ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়...! আপনি যদি চান তাহলে প্রতিদিন সৌভাগ্য আপনার সঙ্গে দেবে। তবে তার জন্য এই প্রবন্ধটি পড়ে ফেলতে হবে একবার।

ভাগ্য! ছোট্ট শব্দ। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এর গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ ভাগ্য সহায় না হলে যতই পরিশ্রম করুন না কেন, সফলতা লাভের সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে। এমনকি কোনও না কোনও সময় মৃত্যু পর্যন্ত দোরগোরায় এসে ফিরে যায় এই ভাগ্যের জোরেই। এই যেমন বেন ক্র্যাম্পটারের কথাই ধরুন না। পঙ্গু এই ছেলেটি তার হুইল চেয়ারে বসে একদিন রাস্তা পার হচ্ছিল। আর ঠিক তখনই দ্রুত গতিতে একটা ট্রাক তার সামনে এসে যায়। ভাগ্যক্রমে তার হুইল চেয়ারের হাতলটা আটকে যায় ট্রাকের সামনের মাডগার্ডে। এই অবস্থাতেই কিছুটা এগিয়ে যায় ট্রাকটা। সঙ্গে বেনও। হুইল চেয়ারটা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বেনের শরীরে একটা ছোট আঘাত পর্যন্ত লাগে না। এমন ঘটনাকে ভাগ্য ছাড়া আর কি বলা যায় বলুন! ভাগ্যের জোরে জীবন বদলে যাওয়ার আরও ভুরিভুরি উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল ভাগ্যকে তো আর আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, তাহলে গুড লাক সহায় হবে কীভাবে?

কে বললো ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়...! আপনি যদি চান তাহলে প্রতিদিন সৌভাগ্য আপনার সঙ্গে দেবে। তবে তার জন্য এই প্রবন্ধটি পড়ে ফেলতে হবে একবার। আসলে এই লেখায় এমন কিছু নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যা মেনে চললে খারাপ সময় কেটে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে গুড লাক রোজের সঙ্গী হয়ে ওঠার কারণে মনের ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূরণ হতেও সময় লাগে না। সেই সঙ্গে আরও অনেক সুফল মেলে!

এত দূর পড়ার পর যদি প্রশ্ন করেন এই নির্দিষ্ট নিয়মগুলির সঙ্গে ভাগ্যের সম্পর্কটা ঠিক কোথায়, তাহলে বলবো বন্ধু, বৈদিক অ্যাস্ট্রোলজির উপর লেখা প্রাচীন বইগুলির দিকে একটু নজর ফেরান, তাহলেই উত্তর পেয়ে যাবেন। আসলে জ্যোতিষশাস্ত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে যে ভাগ্য হল এমন একটা শক্তি, যাকে ইচ্ছা হলেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তবে তার জন্য সোম থেকে রবি কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে, তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে! প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে, সেগুলি হল...

১. সোমবার যে নিয়মগুলি মানতে হবে:

১. সোমবার যে নিয়মগুলি মানতে হবে:

হিন্দু শাস্ত্র মতে সোমবার হল ভগবান শিবের আরাধনা করার দিন। তাই এদিনটা শুরু করতে হবে দেবের অরাধনা করার মধ্যে দিয়ে। সেই সঙ্গে আরও কতগুলি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন ধরুন- সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে সাদা জামা-কাপড় পরার চেষ্টা করবেন। ভুলেও যেন কালো কিছু পরবেন না। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে সোমবার দেবাদিদেবর অরাধনা করার পাশাপাশি যদি সাদা রংকে সঙ্গে রাখা যায়, তাহলে খারাপ সময় কেটে যেতে সময় লাগে না। তবে এখানেই শেষ নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে এদিন বাড়ি থেকে বেরনোর আগে যদি আয়নায় একবার নিজেকে দেখে নেওয়া যায়, তাহলে দিনটা দারুনভাবে কাটে। সেই সঙ্গে যে কাজই শুরু করা হোক না কেন তাতে সফলতা লাভের সম্ভাবনাও যায় বেড়ে।

২. মঙ্গলবারের নিয়ম:

২. মঙ্গলবারের নিয়ম:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রতি মঙ্গলবার কার্তিক ঠাকুরের পুজো করার মধ্যে দিয়ে যদি দিনের শুরুটা করা যায়, তাহলে যে কোনও সমস্যা মিটে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে উন্নতির পথও প্রশস্ত হয়। শুধু তাই নয়, আমাদের আশেপাশে উপস্থিত খারাপ শক্তির প্রভাবও কমতে শুরু করে দেয়। আর যদি চান মঙ্গলবার আপনার সহায় হোক ভাগ্য, তাহলে এদিন লাল জামা-কাপড় পরতে ভুলবেন না। সেই সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরনোর আগে মনে করে অল্প করে ধনে পাতা খেয়ে নেবেন। এমমনটা করলে দেখবেন যে কাজই করুন না কেন তাতে কোনও বাঁধাই আসবে না।

৩. বুধবার যে যে নিয়মগুলি মানতে হবে:

৩. বুধবার যে যে নিয়মগুলি মানতে হবে:

এদিন কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করার আছে নাকি? তাহলে বাড়ি থেকে বেরনোর আগে ভগবান বিষ্ণুর নাম নিতে ভুলবেন না যেন! এমনটা করলে সফলতা দেখবেন আপনার সঙ্গী হয়ে উঠবেই উঠবে। সেই সঙ্গে ভাগ্য ফেরাতে এদিন সবুজ জামা-কাপড় পরতে হবে এবং বাড়ি থেকে বেরনোর সময় মনে করে খেতে হবে চিনি বা মিষ্টি জাতীয় কিছু। এমনটা করলে দেখবেন উপকার পাবেই পাবেন! আর ভাল সময় একবার সঙ্গ নিলে দিনের প্রতিটা মুহূর্ত যে আনন্দে ভরে উঠবে, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে না বন্ধু!

৪. বৃহস্পতিবারের নিয়ম:

৪. বৃহস্পতিবারের নিয়ম:

মনের সব ইচ্ছা পূরণ হোক, সেই সঙ্গে অনেক অনেক টাকায় ভরে উঠুক মানিব্যাগ, এমন স্বপ্ন যারা দেখেন তারা প্রতি বৃহস্পতিবার মা লক্ষ্মীর আরাধনা করতে ভুলবেন না যেন! আসলে শাস্ত্র মতে বৃহস্পতিবার মা লক্ষ্মীর আরাধনা করার দিন। তাই তো এদিন দেবীর পুজো করলে তাঁর আশীর্বাদে ভাগ্য ফিরতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে বড়লোক হয়ে ওঠার স্বপ্নও পূরণ হয়। প্রসঙ্গত, এমনটাও বিশ্বাস করা হয় যে প্রতি বৃহস্পতিবার যদি হলুদ বা অফ-হোওয়াট জামা-কাপড় পরা হয় এবং বাড়ি থেকে বেরনোর সময় অরহর ডাল অথবা পেঁপে বা ঘি ভাত খাওয়া যায়, তাহলে ব্যাড লাক ধারে কাছেও আসতে পারে না। ফলে কোনও বিপদ ঘটার বা দিনটা খারপা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

৫. শুক্রবার:

৫. শুক্রবার:

সপ্তাহের এই বিশেষ দিনে মনের সব ইচ্ছা পূরণ হোক, এমনটা যদি চান, তাহলে দিনের শুরুটা করুন দেবী ভুবনেশ্বরীর পুজো করার মধ্যে দিয়ে। সেই সঙ্গে হালকা নীল বা সাদা রঙের জামা-কাপড় পরুন। আর বাড়ি থেকে বেরনোর আগে দই খেয়ে বেরন। দেখবেন যে কাজেই হাত দিন না কেন সফল হবেই হবেন। সেই সঙ্গে গুড লাক সঙ্গী হয়ে ওঠার কারণে মনের ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছাও পূরণ হবে চোখের পলকে।

৬. শনিবারের নিয়ম:

৬. শনিবারের নিয়ম:

এদিন শনি ঠাকুরের আরাধনা করার দিন। তাই দিনের শুরুটা করুন দেবের অরাধনা করার মধ্যে দিয়ে। তিল এবং সরষের তেল নিবেদন করে শনি ঠাকুরের পুজো করার পর বাড়ি থেকে বেরন। তবে তার আগে কতগুলি কাজ করতে ভুল ভুলবেন না যেন! যেমন ধরুন এদিন বাড়িতে বেগুনি রঙের কোনও ফুল এনে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে কালো জমা-কাপড় পরতে হবে। তাহলেই দেখবেন সুভাগ্যের প্রভাবে আপনার জীবনটাই বদলে যাবে। প্রসঙ্গত, এমনও বিশ্বাস রয়েছে যে শনিবার বাড়ি থেকে বেরনোর আগে যদি অল্প করে ঘি খাওয়া যায়, তাহলে নাকি দিনটা অনন্দে ভরে ওঠে।

৭. রবিবারের নিয়ম:

৭. রবিবারের নিয়ম:

শাস্ত্র মতে সপ্তাহের এদিনটা হল সূর্য দেবের আরাধনা করার দিন। তাই তো এদিন দেবের অরাধনা করলে যে কোনও ধরনের সমস্যা মিটে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে বহুদিন ধরে আটকে থাকা কাজও পুনরায় হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে যে কাজেই হাত দিন না কেন তাতে সফলতা লাভের সম্ভবনা যায় বেড়ে। প্রসঙ্গত, এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে রবিবার সূর্য দেবের অরাধনা করার পাশাপাশি যদি গোলাপী বা মেরুন রঙের জামা-কাপড় পরা যায় এবং বাড়ি থেকে বেরনোর আগে যদি পান খেতে পারেন, তাহলে খারাপ সময় কেটে যেতে সময় লাগে না।

সবশেষে একটা কথাই বলার বন্ধু। কিছু কিছু নিয়ম হয়তো শুনতে আজব লাগতে পারে, কিন্তু বিশ্বাস করে একবার মেনে চলুন। দেখবেন ফল পাবেই পাবেন।

Story first published: Friday, November 16, 2018, 11:39 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion