প্রতি শুক্রবার উপোস করে সন্তোষী মায়ের পুজো করা উচিত কেন জানা আছে?

শুক্রবার উপোস করে যদি সন্তোষী মায়ের আরাধনা করতে পারেন, তাহলে গৃহস্থের প্রতিটি কোণায় পজেটিভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে একের পর এক উপকার মিলতে শুরু করে।

একথা নিশ্চয় সবারই জানা আছে যে হিন্দু শাস্ত্রে সপ্তাহের প্রতিটি দিন কোনও না কোনও দেব-দেবীর আরধনা করার জন্য বরাদ্দ করা রয়েছে। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে সেই সব নির্দিষ্ট দিনে সর্বশক্তিমানের আরাধনা করলে দারুন সব উপকার পাওয়া যায়। যেমন ধরুন শুক্রবার উপোস করে যদি সন্তোষী মায়ের আরাধনা করতে পারেন, তাহলে গৃহস্থের প্রতিটি কোণায় পজেটিভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে একের পর এক উপকার মিলতে শুরু করে, যে সম্পর্কে বাকি প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

হিন্দু শাস্ত্রের উপর লেখা একাধিক বই থেকে জানা যায় আজ থেকে বহু বছর আগে এক ছোট্ট গ্রামে তিন বন্ধু থাকতেন। এক বন্ধু ছিলেন রাজ পরিবারের সদস্য, একজন ব্যবসায়ী পরিবারের এবং তৃতীয় জন ছিলেন ব্রাহ্মণ। সময়ের সাথে সাথে তারা বড় হন এবং কালের নিয়ম মেনে তাদের বিবাহ হয়ে যায়। কিন্তু বিবাহের পর ব্রাহ্মণ এবং রাজ পরিবারের যে দুজন ছেলে ছিলেন তারা তাদের বইকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু যে ব্যবসায়ী ছেলেটির বউ তার বাপের বাড়িতেই থেকে যান। এর পর থেকে যখনই তিন বন্ধ দেখা করতেন তারা নিজেদের বউয়ের প্রশসংসা করতেন এবং তৃতীয় বন্ধুকে উপদেশ দিতেন বউকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য এবং বলতেন বিয়ের পর তাদের জীবন কেমনভাবে বদলে গেছে, সে সম্পর্কে। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ী বন্ধুকে অনুরোধ করতেন বাকি দুজনের সেও যেন বউকে বাড়িতে নিয়ে আসে। এই সব কথা দিনের পর শুনতে শুনতে একদিন সেই ব্যবসায়ী ছেলেটি সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেন যে অনেক হয়েছে, আর নেয়। এবার সে বউকে নিয়ে আসবেই আসবে! কিন্তু বাঁধ সাধেন ছেলের বাবা-মা। তাঁরা বলেন যখন শুক্রের প্রভাব ঠিক না থাকলে শশুরবাড়ি থেকে বউকে আনা ঠিক নয়, বরং দুদিনে ভাল সময় শুরু হবে, তখন যেন সে গিয়ে বউকে বাড়ি নিয়ে আসে। কিন্তু কারও কথা না শুনেই ছেলেটি তার শশুরবাড়ি পৌঁছে যান। সব কথা শোনার পর মেয়ের মা-বাবা একই উপদেশ দেন। কিন্তু কারও কথা না শুনে ছেলেটি তার বউকে নিয়ে বেরিয়ে পরেন। রাস্তায় এক দুর্ঘটনায় তারা আহাত হওয়ার পরেও ছেলেটি তার ছাত্রা থামায় না। এর পরে ডাকাতের খপ্পরে পরেন তারা। বেজায় মার খায় ছেলেটি। এর মধ্যেই একটি বিষাক্ত সাপ এসে কামড় বসার ছেলেটিকে। ব্যবসায়ী ছেলেটি মারাই যেতেন, হঠাৎ করেই এই সব ঘটনা সম্পর্কে তার দুই বন্ধু জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়ে ছেলেটি এবং তার বউকে উদ্ধার করে মেয়ের বাড়িতে নিয়ে আসেন। শুরু হয় চিকিৎসা। এর এক দিন পরে শুক্র গ্রহের অবস্থানে বদল আসলে ছেলেটির স্ত্রী উপোস করে সন্তোষী মায়ের অরাধনা শুরু করেন। এর পর থেকেই সব ঠিক হতে শুরু করে। ছেলেটিও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। সেই থেকে এমন বিশ্বাস ছড়িয়ে পরে যে প্রতি শুক্রবার উপোস করে মায়ের অরাধনা করলে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। কথাটা যে একেবারে ভুল এমন নয়। কারণ...

১. শুক্র গ্রহের সুপ্রভাব পরে:

১. শুক্র গ্রহের সুপ্রভাব পরে:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে শুক্রবার উপোস করে দেবীর পুজো করলে শুক্র গ্রহের সুপ্রভাবে পরতে শুরু করে। সেই সঙ্গে জন্মকুষ্টিতে শুক্রের খারাপ প্রভাব কাটতে শুরু করে। ফলে রোগ-ব্যাধির প্রকোপ যেমন কেটে যায়, তেমনি পরিবারে সুখ এবং সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগতেও সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, শুক্রের প্রভাবে বৈবাহিক জীবনও অনন্দে ভরে ওঠে। সেই সঙ্গে পরিবারের কারও সঙ্গে কোনও খারাপ কোনও ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও যায় কমে। তাই তো বলি বন্ধু, সুখে-শান্তিতে থাকতে প্রতি শুক্রবার উপোস করতে ভুলবেন না যেন!

picture courtesy

২. ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূর হয়:

২. ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূর হয়:

শাস্ত্রে এমনটা বলা হয়েছে যে প্রতি শুক্রবার সন্তোষী মায়ের অরাধনা করলে দেবী এতটাই প্রসন্ন হন যে গুড লাক রোজের সঙ্গী হয়ে ওঠে। ফলে মনের অন্দরে জমতে থাকা ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগে না। আর এমনটা যখন হয় তখন জীবনের সামগ্রিক ছবিটাই যে বদলে যায়, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে!

৩. কোনও বিপদ ঘটার আশঙ্কা কমে:

৩. কোনও বিপদ ঘটার আশঙ্কা কমে:

মা সন্তোষী হলেন সর্বশক্তির আধার। তাই তো প্রতি শুক্রবার মায়ের বিশেষ পুজোর আয়োজন করলে বাড়ির প্রতিটি কোণায় পজেটিভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। আর এমনটা যখন হয়, তখন খারাপ শক্তি ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। ফলে কোনও বিপদ ঘটার আশঙ্কা কমে।

৪. যে কোনও সমস্যা মিটে যায়:

৪. যে কোনও সমস্যা মিটে যায়:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে শুক্রবার উপোস করে এক মনে মায়ের নাম নিলে যে কোনও ধরনের সমস্যা মিটে যেতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, কোনও ধরনের অর্থনৈতিক সমস্যা থাকলে তা মিটে যেতেও সময় লাগে না। এবার নিশ্চয় বুঝতে পরেছেন বন্ধু, সপ্তাহের এই বিশেষ দিনে উপোস করার প্রয়োজন কতটা!

কীভাবে করতে হবে এই বিশেষ পুজো?

কীভাবে করতে হবে এই বিশেষ পুজো?

এদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে চানা এবং গুড়, দুটো থালায় সাজিযে মায়ের সামনে রাখতে হবে, তবে তার আগে পরিষ্কার একটি কাপড় দিয়ে মায়ের ছবি বা মূর্তি পরিষ্কার করে নিন। সেই সঙ্গে মাকে ফুল দিয়ে সাজিয়ে ধূপ-ধুনো জ্বালিয়ে নিন। এবার শুরু করুন মায়ের পুজো। এই সময় এক মনে মায়ের নাম নিন। পুজো শেষ হলে প্রসাদ নিবেদন করতে ভুলবেন নাযেন! প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে, তা হল সারা দিন উপোস করে সূর্যাস্তের পর খাবার খেতে হবে, তা আগে ভুলেও কিছু খেয়ে নেবেন না যেন!

উপোসের নিয়ম:

উপোসের নিয়ম:

শুক্রবার উপোস করে যারা মায়ের আরাধনা করবেন, তারা ভুলেও এদিন টক জাতীয় কোনও খাবার খাবেন না যেন! সেই সঙ্গে আরও কতগুলি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, যেমন ধরুন এদিন সাদা জামা-কাপড় পরতে হবে এবং সাদা ফুল দিয়ে করতে হবে দেবীর পুজো।

Story first published: Friday, August 3, 2018, 11:31 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion