Mahalaya Amavasya 2023: মহালয়ার দিনে অবশ্যই করুন এই সব টোটকা, ঘুরে যাবে ভাগ্যের চাকা!

Mahalaya Amavasya 2023: চলতি বছর ১৪ অক্টোবর, শনিবার মহালয়া। পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনার জন্য করে থাকা শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও পিণ্ডদানের শেষ দিন। শাস্ত্র অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের শেষে অমাবস্যা তিথিতে পালিত হয় মহালয়া। এই তিথি সর্বপিতৃ অমাবস্যা নামেও পরিচিত। এই দিনে প্রয়াত সব পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যেই তর্পণ ও শ্রাদ্ধ কর্ম করা যায়।

কথিত আছে, পিতৃপক্ষের শেষ দিন বলে মহালয়ায় পূর্বপুরুষেরা তাঁদের বংশধরদের কাছ থেকে অন্ন ও জল গ্রহণ করতে মর্ত্যলোকে নেমে আসেন। বংশধরেরা তর্পণ অথবা পিন্ডদানের মাধ্যমে সেই কাজ সম্পন্ন করে থাকেন।

Mahalaya Amavasya 2023

মহালয়ার পুণ্য তিথিতে এমন কিছু কাজ রয়েছে, যা করলে আমাদের জীবন থেকে সব বিপদ কেটে গিয়ে সৌভাগ্য ফিরতে পারে। তর্পণ ও শ্রাদ্ধের কাজ ছাড়াও এমন কিছু সহজ টোটকা রয়েছে, যা এ দিন করতে পারলে বদলে যেতে পারে আপনার ভাগ্যের চাকা।

সূর্যকে অর্ঘ্য নিবেদন

মহালয়ার দিন সকালে উঠে স্নান সেরে নিন। তারপর গায়ত্রী মন্ত্র জপ করতে করতে সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে জলের অর্ঘ্য নিবেদন করুন। এতে প্রসন্ন হন পূর্বপুরুষরা।

শ্রাদ্ধ কর্ম

হিন্দু ধর্মে, মহালয়া অমাবস্যার দিনে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ ও শ্রাদ্ধ করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। এই তিথিতে পূর্বপুরুষদের নামে দানও করা উচিত। এ দিন কাক, গোরু, বেড়াল, কুকুর, পিঁপড়েকে খাবার খাওয়ানো উচিত। এর ফলে পূর্বপুরুষরা প্রসন্ন হন।

ঘন ঘন শঙ্খ বাজান

সারা বছরই সকাল ও সন্ধে বেলা পুজো করার পর আমরা শঙ্খ বাজিয়ে থাকি। তবে মহালয়ার দিন বাড়িতে ঘন ঘন শঙ্খ বাজানো খুব শুভ বলে মানা হয়। তবে যত বারই আপনি শঙ্খ বাজান না কেন, তা যেন তিন বারের বেশি না হয়। অর্থাৎ বার বার শঙ্খ বাজাতে হবে তিন বার করে। প্রচলিত বিশ্বাস, এই দিন ঘন ঘন শঙ্খ বাজালে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি ফেরে।

অশ্বত্থ গাছে জল দিন

কথিত আছে, অশ্বত্থ গাছেই বাস করেন প্রয়াত পিতৃপুরুষরা। তাই পিতৃপক্ষের শেষ দিন অর্থাৎ মহালয়ায় অশ্বত্থ গাছের গোড়ায় জল দিন। জলের সঙ্গে কালো তিল মিশিয়ে গাছে নিবেদন করতে পারেন। এ দিন বিকেলে অশ্বত্থ গাছের নীচে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখুন।

প্রদীপ জ্বালাতে হবে

মহালয়ার দিন থেকে শুরু করে পর পর নয় দিন ঘরে মাটির প্রদীপ জ্বালাতে হবে। প্রতি দিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে বাড়ির সদর দরজার বাম দিকে একটি প্রদীপ জ্বালাতে হবে। পরের দিন সকালে সেই প্রদীপটি সরিয়ে, আবার নতুন প্রদীপ জ্বালাতে হবে। এই ভাবে পর পর নয় দিন এই প্রক্রিয়া করলে জীবনের সকল সমস্যা কেটে যাবে। বাধা-বিপত্তি দূর হবে।

ব্রাহ্মণ ভোজন করান

এ দিন ব্রাহ্মণকে অন্নদান ও আপনার সাধ্যমতো কিছু জিনিস দান করুন। রূপো দান করতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

সুখ সমৃদ্ধি ফেরানোর উপায়

মহালয়ার দিন সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরিধান করুন। এর পর একটি তামার ঘটিতে গঙ্গা জল, কালো তিল, আতপ চাল, দুধ ও সাদা ফুল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। বাড়ির কোনও ফাঁকা জায়গায় গিয়ে মাথার ওপর থেকে পিছন দিকে তিন বার এই জল ফেলতে হবে। জল ফেলার সময় 'ওঁ কুলোদেবতায় নমঃ' মন্ত্রটি তিন বার জপ করুন। এতে জীবনে সুখ-সৌভাগ্য ফিরবে।

পূর্বপুরুষদের কাছে ক্ষমা চান

মহালয়ার দিন সন্ধ্যায় বাড়ির দক্ষিণ দিকে একটি প্রদীপ জ্বালান। বাড়ির প্রবেশদ্বারের দু'দিকে দু'টি প্রদীপ জ্বালিয়ে দিন। তারপর পূর্বপুরুষদের কাছে জ্ঞানত-অজ্ঞানত হয়ে থাকা ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

শালপাতার বাটিতে খাবার রাখুন

এ দিন একটি শালপাতার বাটিতে করে কিছু খাবার নিয়ে সদর দরজার পাশে রেখে দিন। এতে আপনার সংসারের উপর সর্বদা পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ থাকবে এবং কখনও কোনও অভাব দেখা দেবে না।

দান করুন

মহালয়া তিথিতে তর্পণ ও শ্রাদ্ধ কর্মের পর দরিদ্র ও অসহায়দের ভোজন করান। তারপর পূর্বপুরুষদের নামে আপনার সাধ্যমতো দান করুন। এতে পূর্বপুরুষরা তুষ্ট হবেন এবং সংসারের সমস্ত সমস্যা দূর করেন। আর্থিক সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।

Disclaimer: এই আর্টিকেলটি ইন্টারনেটে উপলব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। এই তথ্য ধর্মীয় আস্থা ও লৌকিক মান্যতার উপর আধারিত। এর সত্যতার দাবি করে না বোল্ডস্কাই বাংলা।

X
Desktop Bottom Promotion