উপর দিয়ে ওড়ে না পাখি-বিমান, ছায়া পড়ে না মাটিতে, জগন্নাথ মন্দির ঘিরে এ কী রহস্য?

By Bhagysree Sarkar

চার ধামের যাত্রার অন্যতম হল পুরী। প্রতি বছর পুরীতে অনুষ্ঠিত হয় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। তাঁর এই রথযাত্রা বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। তবে শুধু পুরীতেই নয়, মহা ধুমধামে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয় রাজ্যের প্রায় সকল প্রান্তেই। সনাতন ধর্ম অনুসারে, এই উৎসবে উপস্থিত থাকলে মোক্ষ লাভ হয়। বছরে একবার এই রথে চড়ে নগর পরিক্রমায় বেরোন জগন্নাথদেব। সঙ্গে থাকেন দাদা বলরাম ও বোন সুভদ্রা। তাঁদের সঙ্গে প্রতিবছর অংশ নেন দেশ এবং বিদেশ থেকে লক্ষাধিক মানুষ।

আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়াতে পুরীতে শুরু হয় ভগবান জগন্নাথের রথযাত্রা এবং শেষ হয় দশমী তিথিতে। এবছর জগন্নাথ রথযাত্রা শুরু হবে ৭ ই জুলাই এবং শেষ হবে ১৬ ই জুলাই। তবে প্রচুর লোককথা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই জগন্নাথ দেবের মন্দিরকে ঘিরে। শুধু এদেশে নয়, বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে প্রভুর অদ্ভুত লীলাকাহিনি। সঙ্গেই কিছু রহস্য। যা আজও ভেদ করতে পারেননি কেউই। চলুন আজ জগন্নাথ দেবের মন্দির ঘিরে যেসমস্ত প্রচলিত লোকবিশ্বাস রয়েছে, সেই সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক-

jagannath

কথিত আছে, মন্দিরের উপর দিয়ে কিছু যেতে পারে না। কোনো পাখিকেও কখনও এই মন্দিরের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে দেখা যায়নি। কোনও বড় মন্দির বা বাড়ির উপর দিয়ে পাখিরা ওড়েনি, এমন কখনও হয়নি। তবে ব্যতিক্রম শুধু এই পুরীর মন্দির। লোকমুখে শোনা যায়, এখনও পর্যন্ত একটি পাখি বা বিমান এই মন্দিরের উপর দিয়ে উড়তে দেখা যায়নি। অথচ সরকারের তরফে যে বিশেষ কোনও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাও না। তবু কেন বিমান ওড়ে না এই মন্দিরের উপর দিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর কারও কাছেই নেই।

পুরীর সমুদ্রের কাছেই স্থাপিত জগন্নাথ মন্দির। কিন্তু একবার মন্দিরের সিংহ দরজার ভিতরে পা রাখলেই চারিদিক শান্ত, নিশ্চুপ হয়ে যায়। অত্যাধুনিক কারিগরি নাকি দৈবের লীলা, কীভাবে এমনটা সম্ভব হয় তার উত্তর মেলেনি আজও। তবে ব্রহ্মরা বলে থাকেন, সুভদ্রাদেবী চেয়েছিলেন মন্দিরের ভেতরে যেন সবসময় শান্তি বিরাজ করে। তাই কোনো প্রকার শব্দ মন্দিরের শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে না। এইজন্যই কোনও শব্দ শোনা যায় না।

শোনা যায়, সূর্যের অবস্থান যেদিকেই থাকুক, মাটিতে মন্দিরের চূড়ার কোনো ছায়া পরিলক্ষিত হয় না। কিন্তু দিনের আলোয় বড় গাছ, বড় বাড়ি কিংবা মন্দিরের ছায়া পড়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। ব্যতিক্রম পুরীর জগন্নাথ মন্দির।

জগন্নাথ মন্দিরের ওপরের অংশটিতে রত্নমূর নামের একটি বৃহৎ অদ্ভুত চৌম্বক শক্তি রয়েছে। যেটি মন্দিরটিকে যে কোনওরকমের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।

এছাড়াও মন্দিরের চূড়ায় যে ধ্বজা বা পতাকা রয়েছে, তা প্রতিদিন ভোরে লাগানো হয়। কিন্তু এই পতাকাটি অলৌকিক ভাবেই সবসময় হাওয়ার বিপরীতে উড়তে দেখা যায়। এর কারণ এখনও জানা যায়নি।

Story first published: Monday, June 24, 2024, 13:36 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion