দুগ্গা পুজো ২০১৮: পুজোর চারদিন মায়ের পুজো করলে কী কী উপকার মিলতে পারে জানা আছে?

Subscribe to Boldsky

কেউ মনের মতো চাকরি চেয়ে মায়ের নাম নেন, তো কেউ কেউ মনের মতো জীবনসঙ্গী চেয়ে দেবীর শরণাপন্ন হন। তবে মনের ইচ্ছা যাই হোক না কেন, সবার জায়গাই হয় সেই মায়ের চরণেই। আর কেন হবে নাই বা বলুন! হিন্দু ধর্মের উপর লেখা বেশ কয়েকটি প্রাচীন বই, যেমন ধরুন মার্কেন্ডিয় পুরান এবং দেবী ভগবতের মতো বইয়ের কয়েকটা পাতা ওল্টালেই একথা জলের মতো স্পষ্ট হয়ে যায় যে নবরাত্রির সময় মাতৃশক্তির অরাধনা করলে ভক্তের সমস্ত ধরণের মনস্কামনা পূরণ হয়। শুধু তাই নয়, মেলে আরও অনেক উপকার, যে সম্পর্কে এই প্রবন্ধে আলোকপাত করার চেষ্টা করা হবে।

অনেকেরই মনে হয় দুর্গা পুজো করা বেজায় খরচ সাপেক্ষ। কারণ চারদিন করতে হয়। সত্যি বলতে কি কোনও প্রয়োজন নেই জাকজমকের। মায়ের একটা ছবি বা মূর্তি কিনে আনুন। প্রতিষ্টা করুন ঠাকুরের আসনে, আর নিজেই প্রতিদিন ধূপ-ধুনো দিয়ে পুজো করেন, সঙ্গে মনের কথা উজাড় করে বলুন মাকে। দেখবেন সুফল পাবেই পাবেন। এখন যদি প্রশ্ন করেন কী কী সুফল মিলবে। তাহলে বলবো...

১. বড়লোক হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হয়:

১. বড়লোক হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হয়:

৩০ পেরতে না পেরতেই কি অনেক অনেক টাকার মালির হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ করতে চান? তাহলে পুজোর কটাদিন মায়ের পুজো করতে ভুলবেন না যেন। আর সঙ্গে যদি দুর্গা মন্ত্র জপ করতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই! আসলে এমনটা করলে মা দুর্গা তো প্রসন্ন হবেনই, সেই সঙ্গে তাঁর কন্যা, ধন এবং সমৃদ্ধির দেবী মা লক্ষ্মীও বেজায় খুশি হবেন। ফলে আপানার গৃহস্থে তাঁর প্রবেশ ঘটতে দেখবেন সময় লাগবে না। আর যে বাড়িতে মা বিরাজমান হন, সেই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটতে যে সময় লাগে না, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে।

২. মনের ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূর হয়:

২. মনের ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূর হয়:

শাস্ত্রে এমনটা বলা হয়েছে যে দুর্গা পুজোর সময় মায়ের যে কোনও রূপের অরাধনা করারা পাশাপাশি এই নানাবিধ দুর্গা মন্ত্র জপ করা যায়, তাহলে দেবী এতটাই প্রসন্ন হন যে গুড লাক রোজের সঙ্গী হয়ে ওঠে। ফলে মনের অন্দরে জমতে থাকা ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগে না। আর এমনটা যখন হয়, তখন জীবনের সামগ্রিক ছবিটাই যে বদলে যায়, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে!

৩. যে কোনও কাজে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে:

৩. যে কোনও কাজে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে:

এমন বিশ্বাস রয়েছে যে কোনও নতুন কাজ শুরু করার আগে যদি এক মনে মা দুর্গার নাম নেওয়া যায়, তাহলে নাকি মাতৃশক্তি এতটাই জাগ্রত হয়ে ওঠে যে সেই কাজে সফলতা লাভের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। শুধু তাই নয় সামগ্রিকভাবে কর্মক্ষেত্রে চরম উন্নতি লাভের পথও প্রশস্ত হয়।

৪. মনের জোর বারে:

৪. মনের জোর বারে:

নবরাত্রির সময় এক মনে দূর্গা মন্ত্রটি জপ করলে মা দুর্গা, কালি, সরস্বতী এবং লক্ষ্মীর দেবী এতটাই প্রসন্ন হন যে তাদের আশীর্বাদে মনের জোর এতটাই বেড়ে যায় যে ভয় দূর হয়। সেই সঙ্গে স্ট্রেস এবং মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না। আর মন যখন একবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তখন যে কোনও বিপদ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বাড়ে। ফলে জীবন সব দিক থেকেই সুন্দর হয়ে ওঠে।

৫. যে কোনও সমস্যা মিটে যায় চোখের পলকে:

৫. যে কোনও সমস্যা মিটে যায় চোখের পলকে:

যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে মা দূর্গার আশীর্বাদ লাভ করলে ছোট-বড় সব ধরনের সমস্যা মিটে যায় চোখের পলকে। ফলে জীবন আনন্দে ভরে উঠতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে মা কালীর আশীর্বাদে খারাপ শক্তিও দূরে পালায়। ফলে নেগেটিভ শক্তির প্রভাবে কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কাও কমে। আর কারও উপর যখন মা দূর্গা, সরস্বতী এবং মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ থাকে, তখন যে তার কোনও বিষয় নিয়েই চিন্তা থাকে না, তা তো বলাই বাহুল্য!

৬. পরিবারে সুখ-শান্তির ছোঁয়া লাগবে:

৬. পরিবারে সুখ-শান্তির ছোঁয়া লাগবে:

নানা কারণে কি মানসিক শান্তি দূরে পালিয়েছে? তাহলে বন্ধু পুজোর চারদিন এক মনে মায়ের নাম নিতে নিতে দেবীর অরাধনা করুন, দেখবেন হারিয়ে যাওয়া সুখ-শান্তি ফিরে আসবেই। সেই সঙ্গে যে কোনও সমস্যা এবং কলহ মিটে যেতেও দেখবেন সময় লাগবে না। আসলে এই মা দূর্গার পুজো শুরু করা মাত্র গৃহস্তের প্রতিটি কোণায় পজেটিভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে সুখের ঝাঁপি পুনরায় ভরে উঠতে একেবারেই সময় লাগে না।

৭. বুদ্ধির বিকাশ ঘটে:

৭. বুদ্ধির বিকাশ ঘটে:

দেবী দুর্গার আরাধনা করলে মা লক্ষ্মীর পাশপাশি সরস্বতী দেবীও বেজায় প্রসন্ন হন। আর যেমনটা সবারই জানা আছে মা সরস্বতী হলেন জ্ঞান এবং বুদ্ধির দেবী। তাই তো মায়ের আশীর্বাদে লাভ করলে জ্ঞান এবং বুদ্ধি, সেই সঙ্গে মনোযোগ ক্ষমতারও উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। তাই তো বলি বন্ধু, আপনার পরিবারের ছোট সদস্যরা পড়াশোনায় উন্নতি করুক, এমনটা যদি চান, তাহলে পুজোর চারদিন মাতৃশক্তির আরাধনা করতে ভুলবেন না যেন!

৮. রোগ-ব্যাধি দূরে পালাবে:

৮. রোগ-ব্যাধি দূরে পালাবে:

দেবীর অরাধনা করলে দেখবেন আপনার চারিপাশে পজেটিভ শক্তির মাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পাবে যে তার প্রভাবে শরীর এবং মস্তিষ্ক চাঙ্গা হয়ে উটবে। সেই সঙ্গে ছোট-বড় সবহ রোগও দূরে পালাবে। ফলে আয়ু বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো।

৯. গ্রহ দোষ কেটে যায়:

৯. গ্রহ দোষ কেটে যায়:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে নবরাত্রির সময় মা দুর্গার ছবির সামনে বসে এক মনে তাঁর নাম নিলে গ্রহ দোষ কেটে যেতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি খারাপ স্বপ্ন আসার আশঙ্কাও কমে। শুধু তাই নয়, যে কোনও ধরনের ভয় দূর হয় চোখের পলকে। সেই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: ধর্ম
    English summary

    benefits of durga puja during navratri

    arious Hindu Vedic scriptures like 'Devi-Bhagvat' Markandey-Puran', 'Kaalodaya', Nirnay-sindhu' 'Chaturvarg chintamani' says that the power and energy of 'Maa-Durga' is at its peak during these nine days, therefore worshipping during this period bestows the worshipper with more benefits than any other time of the year.
    Story first published: Tuesday, October 16, 2018, 13:00 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more