প্রতি মঙ্গল এবং শনিবার বাজরাঙ্গি বান পাঠ না করলে কিন্তু ভুল করবেন! কেন জানেন?

প্রতি মঙ্গল এবং শনিবার এক মনে "বাজরাঙ্গি বান" পাঠ করলে হনুমানজি এতটাই প্রসন্ন হন যে জীবন পথে চলতে চলতে সামনে আসা যে কোনও বাঁধার পাহাড় সরে যেতে যেমন সময় লাগে না।

আজকের দিনে আমরা কম-বেশি সবাই নানাবিধ দুঃখ-কষ্টের মারে জর্জরিত। কেউ মনের মতো চাকরি না পেয়ে দুখি, তো কেউ কেউ টাকার অভাবে নিজের চুল ছিড়ছেন। কারও কারও তো প্রবলেম আরও সিরিয়াস। এমন পরিস্থিতিতে সবাই মনের শান্তি তো খুঁজছেন, কিন্তু কীভাবে মিলবে সেই শান্তি অথবা যে যে কারণে আজ আমরা সবাই দুখি, সেই দুঃখ মেটার রাস্তাও বা মিলবে কীভাবে তা জানা আছে কি!

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আপনাকে প্রাচীন কালে লেখা কিছু বইয়ের দিকে নজর ফেরাতে হবে। সেই সব প্রাচীন পুঁথিতে এমন দাবি করা হয়েছে যে প্রতি মঙ্গল এবং শনিবার এক মনে "বাজরাঙ্গি বান" পাঠ করলে হনুমানজি এতটাই প্রসন্ন হন যে জীবন পথে চলতে চলতে সামনে আসা যে কোনও বাঁধার পাহাড় সরে যেতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি ছোট-বড় সব দুঃখ দূরে পালায় চোখের পলকে। সেই সঙ্গে মনের মণিকোঠায় সাজানো সব ইচ্ছাও পূরণ হয়। তবে ভাববেন না এখানেই শেষ। এমনটাও বিশ্বাস করা হয় যে শ্রদ্ধা সহকারে বাজরাঙ্গি বান নামক মন্ত্রটি পাঠ করলে আরও অনেক উপকার পাওয়া যায়, যেমন ধরুন...

১. যে কোনও সমস্যা মিটে যাবে চোখের পলকে:

১. যে কোনও সমস্যা মিটে যাবে চোখের পলকে:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রতি মঙ্গল এবং শনিবার অশ্বত্থ গাছের সামনে বসে এক মনে বাজরাঙ্গি বান পাঠ করলে হনুমানজি এতটাই প্রসন্ন হন যে বায়ু পুত্রের আশীর্বাদে যে কোনও ধরনের সমস্যা মিটে যেতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি নানাবিধ দুঃখও দূর হয় চোখের পলকে। শুধু তাই নয়, দেবের আশীর্বাদে অফুরন্ত আনন্দে ভরে ওঠে জীবন। তাই তো বলি বন্ধু, এমন কষ্টকর জীবন থেকে যদি মক্তির সন্ধান পেতে চান, তাহলে হনুমানজির শরণাপন্ন হতে দেরি করবেন না যেন!

২. রাহু, কেতু এবং শনির দোষ কেটে যায়:

২. রাহু, কেতু এবং শনির দোষ কেটে যায়:

শাস্ত্র মতে প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে হনুমানজির ছবি বা মূর্তির সামনে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে যদি কম করে তিন বার বাজরাঙ্গি বান পাঠ করা যায়, তাহলে নাকি রাহু-কেতুর দোষ তো কাটেই, সেই সঙ্গে শনির দশা কেটে যেতেও সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, যারা ইতিমধ্যেই শনির সাড়ে সাতিতে ভুগছেন, তারা যদি এই স্তোত্রটি নিয়মিত পাঠ করা শুরু করেন, তাহলে শনির প্রকোপ সময়ের আগেই কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা যায় বেড়ে। প্রসঙ্গত, এমনও বিশ্বাস রয়েছে যে বাজরাঙ্গি বান এতটাই শক্তিশালী যে পাঠ করা মাত্র অন্যান্য নানাবিধ গ্রেহের দোষও কেটে যায়। তাই তো বলি বন্ধু, যাদের কুষ্টিতে নানা গ্রহ বক্রভাবে অবস্থান করছে, তারা প্রতিদিন হনুমানজির এই বিশেষ মন্ত্রটি পাঠ করতে ভুলবেন না যেন!

৩. কর্মক্ষেত্রে উন্নতি লাভের পথ প্রশস্ত হয়:

৩. কর্মক্ষেত্রে উন্নতি লাভের পথ প্রশস্ত হয়:

অল্প সময়েই প্রমোশনের সিঁড়িতে তড়তড়িয়ে উঠতে চান নাকি? তাহলে বন্ধু হনুমানজির শরণাপন্ন হতেই হবে। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রতি মঙ্গলবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে, পরিষ্কার জামা-কাপড় পরে হনুমানজির ছবি বা মূর্তির সামনে বসে এক মনে বাজরাঙ্গি মন্ত্র পাঠ করলে কর্মক্ষেত্রে উন্নতির পথ তো প্রশস্ত হয়ই, সেই সঙ্গে চাকরি হারানোর ভয়ও দূর হয়।

৪. টাকা-পয়সা সংক্রান্ত নানা ঝামেলা মিটে যায়:

৪. টাকা-পয়সা সংক্রান্ত নানা ঝামেলা মিটে যায়:

একেবারেই ঠিক শুনেছেন বন্ধু! এই বিশেষ মন্ত্রটি পাঠ করার মধ্যে দিয়ে হনুমানজির অরাধনা করলে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত যে কোনও ঝামেলা যেমন মিটে যেতে শুরু করে, তেমনি এমন সব সুযোগ আসতে শুরু করে যে চরম অর্থনৈতিক উন্নতির স্বাদ পেতেও সময় লাগে না। এবার নিশ্চয় বুঝেতে পেরেছেন বন্ধু, এই হনুমান মন্ত্রটির নিয়মিত পাঠ করাটা কতটা জরুরি।

৫. অসুস্থতার প্রকোপ কমে:

৫. অসুস্থতার প্রকোপ কমে:

বাড়ির কোনও সদস্য কি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ? তাহলে দয়া করে নিয়মিত সকাল-বিকাল বাজরাঙ্গি বান পাঠ করা শুরু করুন। এমনটা করলে দেবের আশীর্বাদে বাড়ির প্রতিটি কোণায় উপস্থিত খারাপ শক্তির প্রভাব কমতে শুরু করবে, বাড়বে পজেটিভ শক্তির মাত্রা। ফলে রোগ-ব্যাধি তো দূরে পালাবেই, সেই সঙ্গে শরীর এবং মনও বেজায় চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

৬. বাস্তুদোষ কটে যায়:

৬. বাস্তুদোষ কটে যায়:

বাড়িতে কোনও দোষ দেখা দিলে একের পর এক ঝামেলা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। বিশেষত পারিবারের সদস্যদের মধ্যে ছোট ছোট বিষয়ে ঝামেলা দেখা দেয়, সেই সঙ্গে লেজুড় হয় অর্থনৈতিক সমস্যা। এমন পরিস্থিতিতে বাস্তু দোষ কাটাতে বাজরাঙ্গি বান পাঠ করা মাস্ট! কারণ এমনটা করলে যে কোনও ধরনের দোষ তো কাটেই, সেই সঙ্গে গৃহস্থের প্রতিটি কোণায় পজেটিভ শক্তির মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কা তো কমেই, সেই সঙ্গে যে কোনও ধরনের মানসিক অশান্তিও দূর হয়।

৭. যে কোনও কাজে সফলতা মেলে:

৭. যে কোনও কাজে সফলতা মেলে:

এমন বিশ্বাস রয়েছে যে নতুন কোনও কাজ শুরুর আগে হনুমানজির পুজো করার পাশাপাশি যদি এই বিশেষ মন্ত্রটি পাঠ করা যায়, তাহলে সেই কাজে সফলতা মেলার সম্ভাবনা যায় বেড়ে। শুধু তাই নয়, কাজটি করার সময় কোনও ধরনের বাঁধা আসার আশঙ্কাও থাকে না।

৮. মনের জোর বাড়ে:

৮. মনের জোর বাড়ে:

হনুমানজি হলেন শক্তির আরেক রূপ। তাই তো সপ্তাহের বিশেষ বিশেষ দিনে তাঁর আরাধনা করলে যে কোনও ধরনের ভয় তো দূর হয়ই, সেই সঙ্গে মনের জোর বাড়ে চোখে পরার মতো। ফলে যে কোনও সমস্যা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে কোনও সময়ই লাগে না।

৯. কালো যাদুর প্রভাব কমে:

৯. কালো যাদুর প্রভাব কমে:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে নিয়মিত বাজরাঙ্গি বান পাঠ করলে আশেপাশে পজেটিভ শক্তির মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে খারাপ শক্তির প্রভাব কমতে সময় লাগে না, বিশেষত কালো যাদুর প্রভাব কমে চোখে পরার মতো। তাই তো বলি পাঠক বন্ধু, আজকের প্রতিযোগিতাময় পরিবেশে যেখানে সবাই সবার ক্ষতি করার জন্য মুখিয়ে রয়েছে, সেখানে নিজেকে এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের নানাবিধ বিপদ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হনুমানজির নাম নেওয়াটা যে জরুরি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Story first published: Tuesday, November 13, 2018, 11:27 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion