প্রতিটি বাঙালি বাড়িতে ঠাকুর ঘর স্থাপন করার সময় যদি এই নিয়মগুলি মানা না হয় তাহলে কিন্তু বিপদ!

Written By:
Subscribe to Boldsky

শোয়ার ঘর আর রান্না ঘর ছেড়ে যেখানে মন চায়, সেখানেই ঠাকুর ঘর বা ঠাকুরের আসন রাখার প্রচলন বেশিরভাগ বাঙালি বাড়িতেই লক্ষ করা যায়। অনেকে তো শোয়ার ঘরেও ঠাকুরের আসন স্থাপন করে থাকেন। কিন্তু জানেন কি বাড়িতে এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে ঠাকুরকে রাখা উচিত নয়। এমনটা করলে সর্বশক্তিমাণের ক্ষমতা কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গৃহস্থের অন্দরে জায়গা করে নেয় নেগেটিভ শক্তি। যার প্রভাবে একের পর এক খারাপ ঘটান ঘটার আশঙ্কা যায় বেড়ে।

শাস্ত্র মতে ঠাকুর ঘর হল বাড়ির সবথেকে পবিত্রতম জায়গা। তাই তো বশ কিছু নিয়ম মেনে তবেই ঠাকুর ঘর তৈরি করা উচিত। প্রসঙ্গত, ঠাকুরের আসন পাতার সময়ও মেনে চলা উচিত এই সব নিয়মগুলিকে। কী কী নিয়ম এক্ষেত্রে মেনে চলা উচিত, তাই ভাবছেন নিশ্চয়? এই প্রশ্নের উত্তর পাবেন, তবে তার আগে জেনে নেওয়া উচিত বাড়়িতে ঠাকুরকে প্রতিষ্টিত করা উচিত কেন?

শাস্ত্র মতে মন্দির বা ঠাকুর ঘর হল শান্তি এবং পবিত্রতার প্রতীক, যেখানে সর্বশক্তিমানের অবস্থান। আর যেখানে ভগবান রয়েছেন, সেখানে তো পজেটিভ শক্তিও থাকবে। কী তাই তো? আর একথা তো সাবই জানা আছে যে গৃহস্থের অন্দরে পজেটিভ শক্তির প্রভাব বাড়তে থাকলে পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগে। সেই সঙ্গে যে কোনও বাঁধা, তা সে অর্থনৈতিক হোক, কী কর্মক্ষেত্র সম্পর্কিত, সব সমস্যাই দূরে পালাতে শুরু করে। ফলে আনন্দে ভরে ওঠে জীবন। এই কারণেই তো প্রতিটি বাড়িতে ঠাকুর ঘর স্থাপন করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। আর এমনটা যদি ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে করতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই!

তাহলে আর অপেক্ষা কেন, চুলন জেনে নেওয়া যাক সেইসব নিয়মগুলি সম্পর্কে, যা ঠাকুর ঘর স্থাপন করার সময় মেনে চলতে হবে।

১. বাড়ির কোন অংশে স্থাপন করতে হবে দেব-দেবীদের?

১. বাড়ির কোন অংশে স্থাপন করতে হবে দেব-দেবীদের?

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে পুজোর ঘর সব সময় পূর্ব দিকে মুখ করে থাকা উচিত। আর পুজো করার সময় বসা উচিত পশ্চিম দিকে মুখ করে। এমনটা করলে দেবের আশীর্বাদ মেলে। সেই সঙ্গে পরিবারের অন্দরে পজেটিভ শক্তির প্রভাব এতটা বেড়ে যায় যে সুখ এবং সমৃদ্ধি রোজের সঙ্গী হয়। প্রসঙ্গত, যাদের পক্ষে পূর্বদিকে মুখ করে ঠাকুর ঘর তৈরি করা সম্ভব নয়, তারা অন্তত পশ্চিম দিকে মুখ করে বসে পুজো করার চেষ্টা করবেন। এমনটা করলেও বেজায় সুফল পাওয়া যায়।

২. দেবী-দেবীর মূর্তির মাপ:

২. দেবী-দেবীর মূর্তির মাপ:

প্রাচীন কালে লেখা একাধিক পুঁথি অনুসারে বাড়ির ঠাকুর ঘরে রাখা প্রতিটি মূর্তির সাইজ বুড়ো আঙুলের থেকে বেশি হওয়া উচিত নয়, বিশেষত শিবের মূর্তি। কেন এমনটা হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না গেলেও হিন্দু শাস্ত্রের উপর লেখা বেশ কিছু বইয়ে এমনটা উল্লেখ পাওয়া যায় যে এই মাপের মূর্তি বাড়িতে রাখলে নানাবিধ সুফল পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে ভগবানের আশীর্বাদ থাকার কারণে কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৩. ভুলেও শিব লিঙ্গ রাখা চলবে না:

৩. ভুলেও শিব লিঙ্গ রাখা চলবে না:

অনেকেই বাড়িতে শিব লিঙ্গ স্থাপন করে থাকেন। এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ শাস্ত্র মতে শিব লিঙ্গ হল শক্তির আধার। তাই ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে যদি শিব লিঙ্গের পুজো করা না যায়, তাহলে কিন্তু বিপদ! আর আজকাল সবাই এত ব্যস্ত যে এত নিয়ম মানার সময় কারও হাতেই নেই। তাই যে যাই বলুক না কেন, বাড়ির ঠাকুর ঘরে শিব লিঙ্গ রাখা একেবারেই চলবে না।

৪. ঠাকুর ঘরে যেন সূর্যালোকের প্রবেশ ঘটে:

৪. ঠাকুর ঘরে যেন সূর্যালোকের প্রবেশ ঘটে:

শাস্ত্র মতে বাড়ির এমন জায়গায় ঠাকুরের আসন বা মন্দির স্থাপন করা উচিত যেখানে দিনের কোনও না কোনও সময় সূর্যের আলো প্রবেশ করে। আসলে এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে ঠাকুরের স্থানে যদি আলো-বাতাস না খেলে তাহলে খারাপ শক্তির প্রকোপ বাড়তে থাকে। ফলে নানাবিধ সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যায় বেড়ে।

৪. পুজোর ফুল:

৪. পুজোর ফুল:

ঠাকুরের আরাধনা করার সময় খেয়াল করে তাজা ফুল পরিবেশন করবেন। ভুলে বাসি ফুল বা মালা ব্যবহার করবেন না। কারণ এমনটা করলে ঠাকুর ঘরের পবিত্রতা ক্ষুন্ন হবে। ফলে দেবের শক্তি কমতে থাকবে। আর এমনটা হওয়া যে একেবারেই শুভ নয়, তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না। প্রসঙ্গত, যদি সম্ভব হয়, তাহলে প্রতিদিন তুলসি পাতা এবং গঙ্গা জলের সাহায্যে পুজো করা উচিত। কারণ এমনটা করলে ঠাকুর ঘরের পবিত্রতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে গৃহস্থের অন্দরে পজেটিভ শক্তির প্রভাবও বাড়তে থাকে।

৫. যে যে জিনিস ভুলেও ঠাকুর ঘরে রাখা চলবে না:

৫. যে যে জিনিস ভুলেও ঠাকুর ঘরে রাখা চলবে না:

ঠাকুরর ঘরের সামনে চামড়ার কোনও জিনিস রাখা চলবে না, বিশেষত জুতো এবং চামড়ার ব্যাগ। এখানেই শেষ নয়, এক্ষেত্রে আরও কতগুলি নিয়ম মেনে চলা উচিত। যেমন ধরুন- ঠাকুর ঘরের অন্দরে মৃত ব্যক্তির ছবি রাখা চলবে না। কারণ এমনটা করলে পুজোর ঘরে নেগেটিভ শক্তির প্রভাব বাড়তে থাকবে, যা মোটেও শুভ নয়।

৬. বাথরুমের কাছাকাছি যেন ঠাকুর ঘর না হয়:

৬. বাথরুমের কাছাকাছি যেন ঠাকুর ঘর না হয়:

এমনটা মানা হয় যে বাথরুমের খুব কাছকাছি ঠাকুর ঘর বা ঠাকুরের আসন পাতলে তা বেজায় অশুভ। তাই এমনটা ভুলেও করবেন না। সেই সঙ্গে খেয়াল রাখবেন রান্না ঘরের থেকেও যেন ঠাকুর ঘর একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থাকে। আসলে এই দুই জায়গা একেবারেই পবিত্র নয়। তাই তো এমন জায়গার কাছাকাছি ঠাকুরকে রাখলে তাঁর পবিত্রতাও ক্ষুন্ন হয়।

৭. রাত্রে ঠাকুর ঘর বন্ধ করে দিতে হবে:

৭. রাত্রে ঠাকুর ঘর বন্ধ করে দিতে হবে:

রাত্রে শুতে য়াওয়ার আগে ঠাকুরকে ঘুম পারিয়ে দেবেন। এক্ষেত্রে আলো নিভিয়ে ঠাকুর ঘর বন্ধ করে দিতে পারেন, নয়তো একটা পর্দার সাহায্যে ঠাকুরকে আড়াল করে দিতে পারেন।

৮. ঘন্টার ব্যবহার মাস্ট:

৮. ঘন্টার ব্যবহার মাস্ট:

প্রতিদিন পুজোর শেষে ঘন্টা বাজাতে ভুলবেন না যেন! এমনটা করলে বাড়ির অন্দরে থাকা নেগেটিভ এনার্জি দূরে পালাবে। ফলে কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যাবে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: ধর্ম
    English summary

    শোয়ার ঘর আর রান্না ঘর ছেড়ে যেখানে মন চায়, সেখানেই ঠাকুর ঘর বা ঠাকুরের আসন রাখার প্রচলন বেশিরভাগ বাঙালি বাড়িতেই লক্ষ করা যায়। অনেকে তো শোয়ার ঘরেও ঠাকুরের আসন স্থাপন করে থাকেন। কিন্তু এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়!

    Small but important details need to be considered before installing a temple at home. If followed thoroughly, these small details help to acquire peace and prosperity within a home. Here are 8 tips that need to be followed…
    Story first published: Friday, March 23, 2018, 11:12 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more