কোন কোন গাছের পাতা দিয়ে পুজো না করলে শিব ঠাকুর মারাত্মক রুষ্ঠ হয় জানা আছে!

হাজারো জন্ম পেরিয়ে যখন এই মানব জন্ম পেয়েছেন, তখন এই জীবনকে দুঃখে-কষ্টে ভরাবেন কেন! বরং আনন্দে ভরিয়ে তুলুন মন-প্রাণ। আর এমনটা করতে এই প্রবন্ধে আলোচিত পাতাগুলিকে নিবেদন করে শুরু করুন দেবের পুজো।

শিব ঠাকুর হলেন সর্বশক্তির আধার। তাই দেবাদিদেবকে যদি একবার প্রসন্ন করতে পারেন, তাহলেই কেল্লা ফতে! পুরাণ খুলে দেখুন। অসুর এবং রাবণও শিবের এই সরলতাকে কাজে লাগিয়ে এমন সব বর পয়েছিলেন যে দেবতাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল। এমন বদ লোকেরা যদি সর্বশক্তিমানের নেক নজরে আসতে পারেন, তো আপনি বর পাবেন না কেন বলুন তো!

না না চিন্তা নেই! বর পেতে ঘন্টার পর ঘন্টা ধ্যান করতে হবে না। শুধু প্রতিদিন সকালে উঠে এক মনে দেবদিদেবের পুজো করতে হবে। আর এই সময় তাঁকে নিবেদন করতে হবে এই প্রবন্ধে আলোচিত গাছের পাতাগুলিকে। তাহলেই দেখবেন আপনার জীবন বদলে যেতে শুরু করেছে। কারণ শিব পুরান অনুসারে যারা "ওম নমঃ শিবার", এই মন্ত্রটি জপ করে দেবের আরাধনা করে থাকেন, তাদের জীবনে কোনও দিন দুঃখের সম্মুখিন হতে হয় না। শুধু তাই নয়, কর্মজীবন থেকে সামাজিক জীবন, সব ক্ষেত্রেই চরম শান্তি এবং সমৃদ্ধির খোঁজ মেলে। তাই হাজারো জন্ম পেরিয়ে যখন এই মানব জন্ম পেয়েছেন, তখন এই জীবনকে দুঃখে-কষ্টে ভরাবেন কেন! বরং আনন্দে ভরিয়ে তুলুন মন-প্রাণ। আর এমনটা করতে এই প্রবন্ধে আলোচিত পাতাগুলিকে নিবেদন করে শুরু করুন দেবের পুজো। দেখবেন জীবন বদলে যেতে সময় লাগবে না।

এখন প্রশ্ন হল কী কী উপাদান নিবেদন করতে হবে শিব ঠাকুরের পুজো করার সময়?

১. বেল পাতা এবং দুধ:

১. বেল পাতা এবং দুধ:

শাস্ত্র মতে নিয়মিত দেবের পুজো করার সময় বেল পাতা এবং ঠান্ডা দুধ যদি নিবেদন করতে পারেন তাহলে শিব ঠাকুর এতটাই প্রসন্ন হন যে জীবন পথে আসা সব বাঁধা পেরিয়ে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে মেলে অপার শান্তি। আর একথা তো সাবারই জানা আছে যে মন শান্ত হবে তো স্টেস কমতে থাকবে। আর স্ট্রেস কমলে একাধিক রোগও দূরে থাকতে বাধ্য হবে। এবার বুঝেছেন তো দেব-দেবীদের পুজো করার সঙ্গে আমাদের জীবনের প্রতিটি ধাপের কতটা গভীর যোগ রয়েছে।

২. পিপল পাতা:

২. পিপল পাতা:

স্কন্দ পুরাণ অনুসারে ভগবান ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বর এই গাছের পাতায় অধিষ্ঠান করেন। তাই তো দেবাদিদেবের আরাধনা করার সময় পিপল গাছের পাতা নিবেদন করা হলে মহেশ্বর বেজায় খুশি হন। তাই হাতের কাছে যদি বেল পাতা না পান, তাহলে পিপল গাছের পাতা দিয়েও পুজো করতে পারেন। প্রসঙ্গত, শাস্ত্র মতে নিয়মিত পিপল গাছের পাতা দিয়ে দেবাদিদেবের পুজো করলে শনির দোষ কেটে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে নানাবিধ গ্রহ দোষের প্রভাবও কমতে থাকে।

৩. বট গাছ:

৩. বট গাছ:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে বট গাছের পাতা দিয়ে শিব ঠাকুরের পুজো করলে রোগভোগের আশঙ্কা কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকবাবেই আয়ু বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো। তবে এখানেই শেষ নয়, শাস্ত্র মতে বট গাছের পাতা দেবাদিদেবকে নিবেদন করলে বিবাহ সংক্রান্ত নানাবিধ সমস্যা কমে যেতেও সময় লাগে না। তাই বন্ধু আপনি যদি মনের মতো জীবনসঙ্গীর খোঁজে থাকেন, তাহলে এই নিয়মটি মেনে সর্বশক্তিমানের পুজো করতে ভুলবেন না যেন!

৪. অশোক পাতা:

৪. অশোক পাতা:

শিব পূরণ অনুসারে সকাল সকাল স্নান সেরে পরিষ্কার জামা কাপড় পরে অশোক পাতার সাহায্যে যদি শিব ঠাকুরের পুজো করা যায়, তাহলে দারুন সব উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বাবা-মা হয়ে ওঠার স্বপ্ন যেমন পূরণ হয়, তেমনি চরম সফলতার স্বাদ পেতেও সময় লাগে না। তাই তো কর্মক্ষেত্রে যদি চটজলদি পদন্নতি করতে চান, তাহলে দেবাদিদেবকে অশোক পাতা নিবেদন করতে ভুলবেন না যেন! প্রসঙ্গত, পুজোর সময় আশোক পাতা ব্যবহার করলে গৃহস্থের অন্দরে পজেটিভ শক্তির প্রভাব বাড়তে শুরু করে। ফলে কোনও ধরনের খারাপ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যায় কমে।

৫. আম পাতা:

৫. আম পাতা:

একেবারেই ঠিক শুনেছেন আম গাছের পাতা দেবাদিদেব খুব পছন্দ করেন। তাই তো আম পাতা সহযোগে যদি শিবের পুজো করা যায়, তাহলে প্রচুর পরিমাণ অর্থের মালিক হয়ে উঠতে সময় লাগে না। তাই তো বলি বন্ধুরা চটজলদি পকেট ভর্তি টাকার মালিক যদি হয়ে উঠতে চান, তাহলে নিয়মিত ঠাকুররে পুজো করার সময় আম পাতা নিবেদন করতে ভুলবেন না যেন! প্রসঙ্গত, আম পাতা দিয়ে বানানো মালা যদি বাড়ির সদর দরজায় লাগাতে পারেন, তাহলে গৃহস্থের অন্দরে খারাপ শক্তির প্রবেশ আটকে যায়। ফলে কোনও বাজে ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যায় কমে।

৬. বেদানা পাতা:

৬. বেদানা পাতা:

শুনে অবাক হচ্ছেন তো? কিন্তু বিশ্বাস করুন শাস্ত্রে এমনটা উল্লেখ রয়েছে যে শিব ঠাকুরের পুজো করার সময় বেদানা গাছের পাতা নিবেদন করা যেতে পারে। আর এমনটা করলে যে কোনও ধরনের কষ্ট কমে যেতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, এমনটা করলে কোনও দুঃখজনক ঘটনাই ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। ফলে অফুরন্ত খুশির সন্ধান পাওয়া যায়।

X
Desktop Bottom Promotion