ভগবত গীতায় লেখা এই ৬ টি মত আপনার জীবনকে করে তুলবে সুখময়!

By Nayan
Subscribe to Boldsky

যুদ্ধক্ষেত্রে দুই বন্ধুর কথোপকথনই হল আমাদের পরিচিত ভগবত গীতা। এক বন্ধুর সামনে দাঁড়িয়ে তার আপনজনেরা। তাদেরকেই একে একে খতম করতে হবে। তবেই মিলবে সিংহাসন, মিলবে বহু কাঙ্খিত বিজয়! কিন্ত ক্ষমতা লাভের আশায় নিকট আত্মীয়দের হত্যা করা কি আদৌ ঠিক? এই প্রশ্ন নিয়েই বীর অর্জুন যখন শ্রী কৃষ্ণের সম্মুখিন, তখন তিনি যা উত্তর দিয়েছিলেন তাই লেখা রয়েছে গীতাতে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন আজকের জীবনে যেখানে স্ট্রেস এবং মানসিক চাপ জীবনকে গ্রাস করছে, সেখানে গীতার এই বাণী মানব জীবনকে যে সুখের সন্ধান দেবেই, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাই যদি বাকি জীবনটা আনন্দে থাকতে চান, তাহলে এই প্রবন্ধে একবার চোখ বোলাতে ভুলবেন না যেন!

যিশু খ্রিষ্টের জন্মের বহু আগে লেখা এই বইয়ে নানা কঠিন সময়ে জীবন রথকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তারই বর্ণনা করা হয়েছে। সেই কারণেই তো বলা হয়, "যা ঘটেছে ভারতে, তাই ঘটছে ভারতে"। অর্থাৎ মহাভারতে, বিশেষত করুক্ষেত্রের যুদ্ধ ময়দানে যা যা পরিস্থিতর সম্মুখিন হতে হয়েছে একজন যোদ্ধাকে, আজকের ভারতেরও আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হয় এবং মাঝে মাঝে এমন সব সময়ে কী করলে ঠিক হয়, তা আমরা অনেকেই ভেবে উঠতে পারি না। তাই তো এই লেখায় ভগবত গীতা থেকে এমন ৬ টি সিদ্ধান্তের উল্লেখ করা হল, যা মেনে চললে জীবনযদ্ধে জয়লাভ করতে আপনাকে কেউই আটকাতে পারবে না।

তাহলে আর অপেক্ষা কেন, স্ট্রেস, মানসিক অবসাদ এবং অসফলতার বিষকে হারিয়ে হাসিকে আরও চওড়া করতে পড়ে ফেলুন বাকি প্রবন্ধটা...!

১. শুধু নিজের কথা ভাবা বন্ধ করুন:

১. শুধু নিজের কথা ভাবা বন্ধ করুন:

খেয়াল করে দেখবেন আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা শুধু নিজের কথা ভেবে থাকেন। আমার কীসে ভাল হবে, কীভাবে আমার উন্নতি ঘটবে, কীভাবে আমি সুখে থাকবো, এমন ভাবনাকে সঙ্গী বানিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। কিন্তু যদি সুখে থাকতে চান, তাহলে "আই" নয়, "উই" কে গুরুত্ব দিন। অর্থাৎ আমাদের আশেপাশে যারা রয়েছে তাদের কীভাবে খুশি রাখা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। সবার মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন। তাহলেই দেখবেন আপনার জীবন আপনা থেকেই সুন্দর হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে সহজ একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ধরুন কেউ আমাদের ভালবাসবে কিনা, তা আমরা নির্ধারণ করতে পরি না। কিন্তু আমরা কাউকে পাগলের মতো ভালবাসবো কিনা, তা কিন্তু আমরা ঠিক করতে পারি। তাই কাউকে ভালবেসে যদি খুশি থাকা যায়, তাহলে ভালবাসা না পাওয়ার দুঃখ যে আমাদের ছুঁতেও পারবে না, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

২. টাকা টাকা করা ছাড়ুন:

২. টাকা টাকা করা ছাড়ুন:

যারা ভাবেন টাকাই শান্তি এনে দিতে পারে, তারা ভুল ভাবেন। কারণ টাকা কামানোর চিন্তায় যারা সারক্ষণ মশগুল থাকেন, তাদের মন এবং মস্তিষ্ক এতটাই বিচলিত থাকে যে শান্তি ধারে কাছে ঘেঁষারও সুযোগই পায় না। ফলে জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। তাই তো গীতায় বলা হয়েছে টাকা কামান, শক্তির ভরকেন্দ্রে নিজেকে নিয়ে যান, কিন্তু সেই সঙ্গে প্রতিদিন মেডিটেশন করতে ভুলবেন না! কারণ প্রাণায়ামই পারে এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের মনকে শান্ত রাখতে। আর মন যখন শান্ত থাকে, তখন স্ট্রেস এবং মানসিক অবসাদ যে ঘিরে ধরতে পারে না, সে কথা কি আর বলে দিতে হবে!

৩. লোভে পাপ-পাপে মৃত্যু:

৩. লোভে পাপ-পাপে মৃত্যু:

টাকা চাই, বিলাসবহুল বাড়ি চাই, বড় গাড়ি চাই, আরও কত কী যে চাই, তার লিস্ট যেন খতম হতেই চায় না। আর এইসব আশা পূরণ করার চক্করে আমরা কোনও কোনও সময় এতটাই নিচে নেমে যাই যে জীবনে দুঃখ ছাড়া সুখের সন্ধান পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই তো শ্রী কৃষ্ণ বলছেন, এমন প্রলভনময় দুনিয়ায় সুখে থাকতে গেলে দর্শক হয়ে থাকতে হবে। আশা-আকাঙ্খার আঁচ যেন গায়ে না লাগে, সে দিকে খেয়াল করতে হবে। কেউ বড় বড় আশা করতেই পরেন, কিন্তু আপনি করবেন না। তাহলেই দেখবেন সুখ আপনার কোনও সময়ই সঙ্গ ছাড়বে না। কারণ চাহিদা যেখানে কম, সেখানে শান্তির মাত্রা সব সময়ই বেশি থাকে।

৪. ধর্মের পথ বেছে নিন:

৪. ধর্মের পথ বেছে নিন:

আমরা অনেকেই ধর্ম বলতে পুজো-অর্চনাকে বুঝে থাকি। কিন্তু স্পিরিচুয়ালিটি মানে কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা পুজো করা নয়, বরং মনকে সমৃদ্ধ করে বৃহত্তর সমাজের স্বার্থে নিজেকে উজাড় করে দেওয়া। এক্ষেত্রে স্বামী বিবেকানন্দের কথা বলা যেতেই পারে। স্বামীজি বলতেন জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। অর্থাৎ সাধারণ মানুষকে ভগবান ভেবে পুজো করলেই দেবের পুজো হয়ে যায়, মন্দির স্থপনের কোনও প্রয়োজনই পরে না। তাই স্পিরিচুয়াল রাস্তায় হাঁটা শুরু করুন। হাতে সময় থাকলে গীতাপাঠ করুন। দেখবেন জীবন খুব সহজ হয়ে যাবে। কমবে কষ্টও।

৫. সম্মানকে বিসর্জন দেবেন না যেন!

৫. সম্মানকে বিসর্জন দেবেন না যেন!

জন্মেছি আমরা খালি হতে, মরবো যখন, তখনও আমরা খালি হতেই যাবো। তাই তো মাঝের সময়ে শুধুমাত্র পার্থিব সুখের কথা ভেবে নিজের আত্মাকে বিক্রি করে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। বরং টাকার পিছনে না ছুটে সম্পর্কে বিনিয়োগ করা উচিত। কারণ এমনটা করলে মৃত্যুর পর স্থুল শরীর ছাই হয়ে যাবে ঠিকই, কিন্তু আমাদের প্রিয় মানুষেরা তাদের ভাবনায় আমাদের বাঁচিয়ে রাখবে। সুক্ষ শরীরে আমরা থেকে যাবো এই পৃতিবীতেই। একথায় মরে যাওয়ার পরেও আমাদের অস্তিত্ব থেকে যাবে। তাই সব কিছুর থেকে পরিবারকে, প্রিয় মানুষদের আগে রাখুন। যতটা সম্ভব তাদের সঙ্গে সময় কাটান। তাদের সবাইকে খুশি রাখুন। এমনটা করলে দেখবেন আপনার জীবন তার হরিয়ে যাওয়া মানে ফিরে পাবে।

৬. যা ঘটছে তা ভালর জন্যই ঘটছে:

৬. যা ঘটছে তা ভালর জন্যই ঘটছে:

এই ভাবনাটাকে যদি একটিবার মনের মণিকোঠায় জায়গা করে দিতে পারেন, তাহলে দেখবেন সুখের চাবিকাঠি আপনাকে ধরা দেবেই। কারণ ভগবান যখন আমাদের এই পৃথিবীতে এনেছেন, তখন তার মর্জি মতই সব হচ্ছে। আর যদি একথা ঠিক হয়, তাহলে উনি আমাদের ক্ষতি করবেন, একথা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। তাই তো যখন খারাপ সময় চলছে, তখন জানবেন, কোনও ভাল ঘটনা আপনার সঙ্গে ঘটতে চলেছে বলেই এই মুহূর্তে আপনি খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া একবার যখন নিজেকে সর্বশক্তিমানের দরবারে সোঁপে দিয়েছেন, তখন আর ভয় কিসের! মনে মনে যে ভগবানকে মানেন, তার নাম জপ করুন। দেখবেন "জীবন কি নাইয়া" ঠিক পার হয়ে যাবেই, যেমনটা অর্জনের হয়েছিল শ্রী কৃষ্ণের হাত ধরে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: ধর্ম
    English summary

    আজকের জীবনে যেখানে স্ট্রেস এবং মানসিক চাপ জীবনকে গ্রাস করছে, সেখানে গীতার এই বাণী মানব জীবনকে যে সুখের সন্ধান দেবেই, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাই যদি বাকি জীবনটা আনন্দে থাকতে চান, তাহলে এই প্রবন্ধে একবার চোখ বোলাতে ভুলবেন না যেন!

    The Bhagavad Gita is one of the greatest Religious Spiritual Book. Considered to be a doctrine of universal truth, it has long been influencing people not only of India but also overseas. As sage Ved Vyasa is known for writing Mahabharata, Gita being part of it is also ascribed to him. In the epic Mahabharata, when cousin brothers Pandava and Kaurava are about to fight among themselves for the throne of Hastinapur, Pandava prince Arjuna feels weak in the battleground when he sees his relatives, teachers and friends in the opposition. When the supreme personality of Godhead, Lord Krishna sees him loosing strength and willingness to fight, he gives him what is known as “Gita Gyan”.
    Story first published: Friday, February 9, 2018, 12:39 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more