বর্ষবরণে বাড়িতেই অল্প উপকরণ দিয়ে চটজলদি বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু মিষ্টি, চমকে যাবে সকলেই

Posted By: Bhagysree Sarkar

বাঙালিদের উৎসব যেন শেষ আর হয়না। একেবারে ১২ মাসে ১৩ পার্বন। তবে এরই মধ্যে আসতে চলেছে বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব বাংলা নববর্ষ। এরপর ফের একটা বছর অপেক্ষায় থাকতে হবে।

তাই বাংলা বছরের এই প্রথমদিন মিষ্টিমুখেই শুরু হয়। পরিবারের ছোট থেকে বড়, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন সকলে একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ান। তাই তো কলকাতা সহ অন্যান্য জায়গার নামিদামী মিষ্টির দোকান হোক কিংবা মফস্বলের কোনও গলির দোকান, মিষ্টি কেনার ভিড় সর্বত্র। কিন্তু আদেও সুরক্ষিত সেইসব মিষ্টি আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে, জানেন? জানেন না। তাই চিকিৎসকদের মত, এড়িয়ে চলুন বাইরের যেকোনও খাবার।

তবে বাঙালি বাড়িতে মিষ্টি অত্যন্ত প্রিয় একটি খাবার। মিষ্টি বাদ দিলে হয় নাকি! আবার তা যদি হয় একেবারে বাড়ির বানানো, তাহলে তো কোনও কথাই হবে না। যারা একদম চটজলদি মুখে জল আনার মত মিষ্টি অল্প উপকরণেই বানাতে চান তাঁদের জন্য আজকের এই প্রতিবেদন। আপনি বাড়িতে অতিথিদের গাজরের হালুয়া, গুলাব জামুন অথবা রসমালাই খুব সহজেই বানিয়ে, খাইয়ে অবাক করে দিতে পারেন। বোঝাও যাবে না, এসব মিষ্টি দোকানের নাকি আপনি বানিয়েছেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক-

  • গাজরের হালুয়া-

গাজরের হালুয়া এক প্রকারের মিষ্টি জাতীয় খাদ্য। যা উত্তর ভারত এবং পাকিস্থানে অধিক ব্যবহৃত হয়। গাজর বেটে বা ছেঁচে ক্ষীরের ভিতর দিয়ে তৈরি করা হয়। এর রঙ হয় লাল। এই হালুয়া বেশ সুস্বাদু। এটি বানাতে কী কী লাগবে দেখুন-

উপকরণ-

গাজর- ৫০০ গ্রাম, দুধ- হাফ লিটার, ঘি- ৬০ গ্রাম, দারচিনি গুঁড়ো- পরিমাণ মতো, চিনি- ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম, খোয়া- ১৫০ গ্রাম, কাজুবাদাম ও কিশমিশ পরিমাণ মতো।

কীভাবে বানাবেন-

প্রথমে গাজরগুলিকে ভাল করে ধুয়ে নিয়ে মিহি করে কুরিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি পাত্রে দুধ গরম করতে দিন। দুধ কিছুটা গরম হয়ে এলে কুরিয়ে রাখা গাজর তাতে দিয়ে দিন। খেয়াল রাখুন দুধ যেন অতিরিক্ত ঘন না হয়ে যায়। তারপর অন্য একটি পাত্রে ঘি ও দারচিনি গুঁড়ো দিয়ে দিন। মিনিট পাঁচেক পর খোয়া ভাল করে কুরিয়ে ঢেলে দিন পাত্রে। একটু রান্না হয়ে এলে মিশ্রণটি ঢেলে দিন দুধ ও গাজরের মিশ্রণের মধ্যে। ঘন হয়ে আসা পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে নিয়ে কাজু ও কিশমিশ ছড়িয়ে পরিবেশন করুন জিভে জল আনা গাজরের হালুয়া।

  • গুলাব জামুন-

বর্ষবরণের দিন দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পর পরিবেশন করতে পারেন বাড়িতে হাতে বানানো গুলাব জামুন। কালোজাম বা গুলাব জামুন দক্ষিণ এশিয়ার, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এর একটি জনপ্রিয় মিষ্টি খাদ্য। কালচে-লাল রঙের মিষ্টি। এই মিষ্টি মূল প্রক্রিয়ায় রয়েছে তেলে ভাজা ও সিরাপের মাঝে ভিজিয়ে রাখা। এটি বানাতে কী কী লাগবে দেখুন-

উপকরণ-

ছানা তৈরির জন্য- দুধ ১ লিটার, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, জল ১ কাপ।

চিনির রস তৈরির জন্য- জল ৮ কাপ, চিনি দেড় কাপ।

অন্যান্য উপকরণ- দুধ ১ লিটার, চিনি ১/৪ কাপ, এলাচ গুঁড়ো আধ চা চামচ।

কীভাবে বানাবেন-

প্রথমে একটি বাটিতে খুব ভালো ভাবে খুব ঘন দুধ ক্রমাগত নেড়ে নেড়ে খোয়াতে পরিণত করুন। এবারে একটি বাটিতে পাউডার মিল্ক, খোয়া এবং ময়দা খুব ভালো ভাবে মিশিয়ে মেখে নিন। এরপর ছোট ছোট গুলাব জামুনের আকারের বল তৈরি করে গরম তেলে ভেজে নিন। এবারে একটি পাত্রে চিনি ও জলের সিরাপ তৈরি করে ভেজে রাখা গুলাব জামুনগুলি পরিবেশনের আগে কয়েকঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। লাঞ্চের পর পরিবেশন করুন ঠাণ্ডা অথবা গরম। মন কেড়ে নেবে সকলেরই।

  • রসমালাই-

রসমালাই দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালের একটি জনপ্রিয় মিষ্টি। ছোট ছোট রসগোল্লাকে চিনির সিরায় ভিজিয়ে তার উপর ঘন মিষ্টি দুধ ঢেলে রসমালাই বানানো হয়। বাংলাদেশ রসমালাইয়ের উৎপত্তি স্থল। ১৯০০ সালের দিকে কুমিল্লা অঞ্চলে রসমালাই তৈরি শুরু হয়। তবে এর জনপ্রিয়তা ভারতেও বিশেষভাবে রয়েছে।

উপকরণ-

১ লিটার গরুর দুধ, ২-৩ টেবিল চামচ ভিনেগার, ২০০ গ্রাম চিনি, ১ টেবিল চামচ ময়দা, ১/২ লিটার ফুল ক্রিম দুধ, ১/২ কাপ মিল্ক পাউডার, ২ টেবিল চামচ চিনি, ৩ টেবিল চামচ কাজু বাদাম কুচি, ১০-১২ কেশর, ১ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো।

কীভাবে বানাবেন-

প্রথমে দুধটাকে ফোটাতে হবে। ৩-৪ মিনিট পর ভিনেগার আর জল সমান পরিমাণে মিশিয়ে, জলটা দুধে ঢালতে থাকতে হবে যতক্ষণ না ছানা কাটে। তারপর ছানা জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে চিপে পুরো জল বার করে একটা প্লেটে নিয়ে ভালো করে মাখতে হবে। তারপর ওতে ময়দা মিশিয়ে আবারও মাখতে হবে। তারপর ছোট ছোট লেচি কেটে গোল গোল রসগোলা বানিয়ে রাখতে হবে।

এবার একটা কড়াইতে চিনি আর জল দিয়ে ফোটাতে হবে। যেই ফোটাসুরু হবে তখন তাতে রসগোল্লাগুলি দিয়ে দিতে হবে। এবার ঢাকা দিয়ে ১৫ মিনিট ফোটাতে হবে। রসগোল্লা ঠাণ্ডা হলে একটা ছাকনিতে দিয়ে পুরো সিরাটা বার করে নিতে হবে। এবার একটা কড়াইতে দুধ, মিল্ক পাউডার, আর চিনি দিয়ে নেড়ে নেড়ে খানিকক্ষণ ফোটাতে হবে। যেই একটু ঘন হয়ে যাবে তখন ওতে কেশর দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ফোটাতে হবে। তারপর দুধে কাজু বাদাম কুচি দিয়ে আরেকটু ফুটিয়ে নিতে হবে। সব শেষে ওতে রসগোল্লা আর এলাচ গুরো দিয়ে ৪-৫ মিনিট ফোটাতে হবে। তৈরি আপনার রসমালাই।

[ of 5 - Users]
Story first published: Wednesday, April 10, 2024, 17:57 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion