ঝামেলা এড়াতে শিশুর হাতে ফোন তুলে দিচ্ছেন? অজান্তেই কী সর্বনাশ ডেকে আনছেন জানুন

By Bhagysree Sarkar

বর্তমানে আধুনিক দুনিয়ায় মানুষ মুঠো ফোনেই আবদ্ধ। যাবতীয় কাজ এখন অনলাইনে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্মার্টফোনের প্রচলন দিন দিন বাড়ছে। এই স্মার্টফোনের অত্যাধিক ব্যবহারে নানান কুপ্রভাব পড়েছে আমাদের জীবনে। শুধু বয়স্ক বা প্রাপ্ত বয়স্করাই নয়, এই সমস্যায় ভুগতে পারে বাড়ির সবথেকে ছোট সদস্যরাও। তাই আপনার দরকার এই বিষয় সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হওয়ার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার শিশুর বয়স যদি ৬ বছরের নিচে হয়, তাহলে তাকে মোবাইল ও টিভি পর্দা থেকে দূরে রাখুন। এটি যদি না করেন, তবে ভবিৎষ্যতে আপনাকেই আফসোস করতে হতে পারে। স্ক্রিন টাইম এবং স্ক্রিন এক্সপোজারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। একটি সমীক্ষায় অনলাইন ও অফলাইন জরিপে প্রায় চার শতাধিক অভিভাবক ও তাদের শিশুদের সামিল করা হয়।

Mobile

সেই সমীক্ষায় দেখা যায়, স্ক্রিনের অত্যধিক এক্সপোজার ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের মানসিক বিকাশের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। স্ক্রিন টাইম এবং স্ক্রিন এক্সপোজারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য খুব গুরুতর হতে পারে, কারণ এটি তাদের শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিডিও কলিংয়ের মতো বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা উচিত। দেখে নেওয়া যাক, কী কী কুপ্রভাব পড়ে-

  • মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সের শিশুদের মস্তিষ্ক দ্রুত বিকাশ লাভ করে, কিন্তু স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার তাদের জ্ঞানীয় এবং ভাষাগত বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। শুধু তাই নয়, ভাষা ও সামাজিক দক্ষতা শেখানোর জন্য শিশুদের ব্যক্তিগত মিথস্ক্রিয়া প্রয়োজন, যা স্ক্রিন টাইম দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। যে স্ক্রিনের পর্দার সামনে অত্যধিক সময় ব্যয় করে তারা কথোপকথন এবং অন্যান্য মানুষের সাথে সামাজিক সম্পর্ক গঠনে পিছিয়ে থাকতে পারে।

  • ঘুমেও প্রভাব ফেলে

স্ক্রিন এক্সপোজার শিশুর ঘুমকেও প্রভাবিত করতে পারে, যা শিশুদের ঘুমের রুটিন এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। শুধু তাই নয়, স্ক্রিন টাইমের কারণে শিশুরা শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকে, যা তাদের শারীরিক সক্ষমতা এবং পেশী বিকাশের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • এইজন্য আপনার শিশুর স্ক্রিন ব্যবহার সীমিত করুন

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের পর্দা থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখার চেষ্টা করুন। এমনকি যদি স্ক্রিনটি ব্যবহার করা হয়, তবে এটি ভিডিও কলিংয়ের মতো সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিয়াকলাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত। বরং শিশুদের খেলনা, বই ও শারীরিক খেলায় ব্যস্ত রাখুন, যাতে তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঠিকমতো হয়। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো। এছাড়াও কথা বলা, গান গাওয়া, গল্প বলার মত কার্যকলাপ করতে পারেন। তাদের প্রতিক্রিয়া উৎসাহিত করুন। এটি তাদের ভাষা এবং সামাজিক দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করবে।

  • ঘুমের রুটিনও বজায় রাখুন

আপনার শিশুর জন্য একটি ঘুমের সময়সূচী স্থাপন করুন এবং নিশ্চিত করুন যে তারা ঘুমানোর আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকে। ঘুমানোর আগে তাদের একটি শান্ত এবং আরামদায়ক পরিবেশ প্রদান করুন। শিশুদের পর্দা থেকে দূরে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে পরিবারের সকল সদস্যকে সচেতন হতে হবে। নিশ্চিত করুন যে তারা বাচ্চাদের সামনে স্ক্রিন ব্যবহার কম করে।

Story first published: Thursday, September 12, 2024, 14:00 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion