নতুন মা হতে চলেছেন? প্রসব বেদনা এবং জল ভাঙা সম্পর্কে এই তথ্য জানতেই হবে

মা হওয়া জীবনের এক অন্যতম সুন্দর সময়। কিন্তু এই সময়েই অনেক শারীরিক প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় মেয়েদের। অনেক সময় সঠিক তথ্য না থাকার কারনে সামান্য সমস্যা বড় আকার ধারন করতে পারে। মাতৃত্বের স্বাদ চুটিয়ে উপোভোগ করার আগে সব তথ্য সঠিকভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন নতুন অভিজ্ঞতাকে উপলব্ধি করার জন্য যা জরুরি।

প্রসব বেদনা এবং জল ভাঙা সম্পর্কে এই তথ্য জানতেই হবে

১. কী এই জল ভাঙা

১. কী এই জল ভাঙা

গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন একজন মায়ের পেটের ভিতর তার শিশু যেখানে থাকে তাকে চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হয় আমনিয়টিক স্যাক। আর এর মধ্যে যে তরল থেকে তাকে বলা হয় আমনিয়টিক তরল। এই তরল যেমন শিশুর ফুসফুস এবং পাচনতন্ত্রের গঠনে ভূমিকা নেয়, ঠিক তেমনি শিশুর দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থার দ্বিতীয়ার্ধে শিশুর ইউরিন বা মূত্র এই তরল গঠনে সাহায্য করে যাতে হরমোন এবং অন্যান্য অ্যান্টিবডি থাকে যা বাইরের প্রতিকূলতা থেকে শিশু কে রক্ষা করে। প্রসবের দিন বা তার আগে বা প্রসব বেদনা থাকা কালীন এই স্যাক বা থলি ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্যাখ্যা থাকলেও সেই ভাবে অনেকেই সঠিক কারণ বলে সঠিক সময় বলতে পারেন না যে এই থলি কখন ফেটে যেতে পারে।

২. কী বোধ হয় যখন স্যাক ফেটে যায়

২. কী বোধ হয় যখন স্যাক ফেটে যায়

যারা নতুন মা হচ্ছেন তাদের কাছে এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা। যেখানে কৌতূহলের সাথে ভয় মিশে একটা মিশ্র অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি যারা মা হওয়ার অভিজ্ঞতা আগে পেয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। বিভিন্ন মায়েরা তাদের এই অভিজ্ঞতা বিভিন্ন ভাবে ব্যক্ত করেছেন। কেউ বলেছেন যে তাদের হঠাৎ করে পেটের মধ্যে যেন কেউ কোনো তরল ঢেলে দিলো বলে মনে হচ্ছে। নড়াচড়া করতে গেলে এই তরল যেনো আরো বেশি মাত্রায় বেরোতে থাকে। কারণ অনেক সময় স্যাকের মধ্যে থাকা শিশুর মাথা তরল বের হওয়ার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে যা পজিশন অনুযায়ী পরিবর্তন হয়। তাই কারুর ক্ষেত্রে এই তরল বেরোনোর পরিমাণ ও ধরন আলাদা হয়। তাই চিকিৎসকেরা বলেন যে এরকম অবস্থা হলে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার এবং সম্ভব হলে একটা তোয়ালে রাখা দরকার যাতে ফ্লুইড ছড়িয়ে না যায় চারিদিকে। এই তরলের কোনো গন্ধ থাকে না এবং রং জলের মতই বা হালকা হলুদ।

৩. জল ভাঙা হলে কী হয়?

৩. জল ভাঙা হলে কী হয়?

সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষ লগ্নে মানে প্রায় ৩৬ সপ্তাহের পর থেকে এই তরল তৈরি হওয়ার প্রবণতা হ্রাস পেতে থাকে। তার আগে পর্যন্ত তৈরি হয়। তাই ধরে নেওয়া যায় যে এই স্যাক বা থলি ফেটে গেলে প্রসব বেদনা শুরু হতে পারে। সেই মত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অনেক মহিলার সময়ের আগে ফেটে যায় এই স্যাক। খুব বেশি হলে আট থেকে দশ শতাংশের এরকম হয়। সেক্ষেত্রে শিগগিরই নিজের চিকিৎসকের সাথে কথা বলা দরকার। অনেকেই এই সময় অস্থির হয়ে পড়েন যে কবে শিশুর মুখ দেখবেন। এটা বলা সম্ভব নয় কারণ ব্যক্তি বিশেষে এই সময় পরিবর্তিত হতে পারে। মনে করা হয় যে স্যাক ফেটে যাওয়া আর প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার মধ্যে যত সময় বেশি হবে ততো সেটা চিন্তার বিষয় হতে পারে।

৪. কখন আপনার চিকিৎসক কে জানাবেন

৪. কখন আপনার চিকিৎসক কে জানাবেন

এটা কখনোই পরিস্থিতি না জেনে বলা সম্ভব নয়। তাও ৩৬ মাসের পর থেকেই নিয়মিত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখুন। আপনি নিজে থেকে কখনোই জানতে পারবেন না যে কখন স্যাক ফাটবে বা কোন থেকে প্রসব বেদনা শুরু হবে। তবে কোনো ভাবে যদি প্রসব বেদনা ৩৭ মাসের পরেও শুরু না হয় এবং ৩৭ মাসের আগে যদি স্যাক ফেটে যায় তাহলে অতি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. যদি আপনার জল ভাঙা না হয়

৫. যদি আপনার জল ভাঙা না হয়

যদি আপনার স্যাক না ফেটে সময়কালীন তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত যার কাছে প্রথম থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাজাইনাল পথ দিয়ে এই স্যাক ফাটিয়ে দেওয়া হয় যদি দেখা যায় পরিস্থিতি অনুকূল আছে এবং সময় হয়েছে। এটা কোনো অপারেশন না বা ভোয় পাওয়ার মতো কিছু না। এতে কোনো ব্যাথা লাগে না বা অসুবিধার সৃষ্টি হয় না। এভাবে ফাটিয়ে ফেলার কিছুক্ষণ পর থেকেই প্রসব বেদনা নতুন মায়ের অনুভব করা উচিত।

Story first published: Thursday, May 23, 2019, 11:00 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion