মা হতে চান, কিন্তু পিসিওএস ও পিসিওডি নিয়ে চিন্তা? জানুন বিশেষজ্ঞদের ডায়েট টিপস

By Bhagysree Sarkar

আধুনিক যুগে মহিলাদের মধ্যে পিসিওএস ও পিসিওডি-এর সমস্যা দৃশ্যমান। এর মূল কারণ বলতে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা। পিসিওএস ও পিসিওডি উভয়ই হরমোন সংক্রান্ত সমস্যা। যা গর্ভধারণেও সমস্যা সৃষ্টি করে। এই অবস্থায় মহিলাদের শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হরমোন তৈরি হতে থাকে। এই হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে পিরিয়ড অনিয়মিত হয়ে যায়। তবে দুঃখের বিষয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিসিওএস ও পিসিওডি-এর সমস্যা কমবয়সী মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখতে পাওযা যাচ্ছে। এর সঠিক চিকিৎসা না হলে নারীর প্রজনন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

চিকিৎসকরা বলেছেন, পিসিওএস ও পিসিওডি-এ আক্রান্ত অনেক মহিলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই খাবার খান। যা একাবারেই অনুচিত। এতে করে তাদের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এমতাবস্থায় পিসিওএস ও পিসিওডি-এর সমস্যায় ভুক্তভুগি নারীদের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। এতে তাদের পিরিয়ডের উন্নতি হবে। সঙ্গে স্থূলতা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এখন প্রশ্ন হল, পিসিওএস ও পিসিওডি থাকলে কী খাবেন?

Pregnancy
  • ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার

পুষ্টিবিদদের মতে, যেসব মহিলাদের পিসিওএস ও পিসিওডি-এর সমস্যা রয়েছে, তাদের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই অবস্থায় গোটা দানা বা অপরিশোধিত বাজরা ইত্যাদি খেতে পারেন। এই ধরনের ডায়েট হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

  • সবুজ-লাল শাক

আয়রন এবং ক্যালসিয়াম পূরণ করতে সবুজ-লাল শাক খাওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এসব খেলে আপনার শরীর প্রায় সব ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট পাবে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স উন্নত হবে। একই সময়ে, যাদের ভিটামিন ডি-এর অভাব রয়েছে, তাদের মধ্যে ইনসুলিন প্রতিরোধ শুরু হয়। তাই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে প্রথমে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • ডাল খান

পিসিওএস ও পিসিওডি-এর ক্ষেত্রে প্রোটিন সমৃদ্ধ জিনিস খাওয়া জরুরি। আপনার ১২০০ থেকে ১৪০০ ক্যালরির প্রায় ১৫ শতাংশ শুধুমাত্র ভাল প্রোটিন হওয়া উচিত। এজন্য দিনে যতটা সম্ভব খোসা ছাড়ানো ডাল, সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল খান।

  • বেকারি পণ্য এড়িয়ে চলুন

পুষ্টিবিদরা বলছেন, সমস্ত বেকারি পণ্যে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। যা আপনার শরীরে স্থূলতা বাড়াতে সক্ষম। এমন পরিস্থিতিতে বেকারি পণ্য খাওয়া এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এর বদলে শুকনো ফলের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খান এবং স্বাস্থ্যকর তেলে রান্না করা খাবার বানান।

এছাড়াও, ডায়েটের কথা মাথায় রেখে নিয়মিত ব্যায়ামের কথা কখনোই ভুলে যাবেন না। প্রকৃতপক্ষে, নিয়মিত ব্যায়াম পিসিওএস ও পিসিওডি-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

  • তবে কীভাবে বুঝবেন যে আপনি পিসিওএস ও পিসিওডি-এ আক্রান্ত?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার পিসিওএস ও পিসিওডি হলে মুখে অতিরিক্ত চুল গজাবে, সময়মতো পিরিয়ড না হওয়া বা অনিয়ন্ত্রিত হলে, পিরিয়ডের সময় ব্যথা, মুখে অতিরিক্ত ব্রণ বিশেষ করে চিবুকের চারপাশে এবং পেটের নিচের দিকে খুব বেশি চর্বি এসব উপসর্গ দেখা যাবে।

Story first published: Monday, July 29, 2024, 20:31 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion