শীতে আপনার সন্তান প্রচণ্ড ভোগে? এই ৫ নিয়ম মেনে চললে রোগবালাই ছুঁতে পারবে না বাচ্চাকে!

আবহাওয়ার বদল হলেই নানা অসুখ-বিসুখ হাজির হয়। বিশেষ করে শীতকালে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে বাচ্চারা। হঠাৎ ঠান্ডা লাগা, টনসিলের সংক্রমণ, জ্বর, সর্দি, হাঁচি-কাশির মতো সমস্যা লেগেই থাকে। তাই এই সময় তাদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়।

বাচ্চারা সব সময় মুখ ফুটে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারে না। সে ক্ষেত্রে আগে থেকে সতর্ক থাকতে হবে বাবা-মায়েদের। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলেই শারীরিক অসুস্থতা থেকে দূরে রাখা যাবে খুদেদের। জেনে নিন, শীতে কী ভাবে যত্ন নিলে ফিট থাকবে আপনার সন্তান।

winter health tips

নিজে থেকে ওষুধ দেবেন না

মরশুম বদলালে অনেক বাচ্চাই জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভোগে। এ রকম হলে কখনই বাচ্চাকে নিজে থেকে কোনও ওষুধ খাইয়ে দেবেন না। তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। বরং ডাক্তার দেখিয়ে তাঁর পরামর্শমতো ওষুধ দিন বাচ্চাকে। চিকিৎসক না বললে নিজে থেকে কখনওই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো উচিত নয়।

প্রচুর জল খাওয়ান

শীতে জল কম খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। তেষ্টা কম পায় বলেই আর জল খাওয়ার কথা মনে থাকে না। ফলে শরীরে জলের পরিমাণ কমতে থাকে। তাই জল খাওয়া কমালে চলবে না। সারা দিনে প্রচুর জল পান করতে হবে।

তবে শীতকালে ঠান্ডা জল পান করলে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ হতে পারে। ঠান্ডা লেগে গিয়ে গলা ব্যথা, সর্দি, কাশি হতে পারে। তাই বাচ্চাকে হালকা গরম জল খাওয়ান। পর্যাপ্ত জল পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যায়।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ান

শীতকালে ছোটো থেকে বড় সবারই মুখরোচক খাবার খেতে মন চায়। বাচ্চারা বেশি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, পিৎজা, পাস্তা, বার্গার বা অন্যান্য ডিপ ফ্রায়েড খাবারের জন্য বায়না করে। কিন্তু এই সব খাবার বাচ্চাকে না দেওয়াই ভালো। এতে শরীর খারাপ হতে পারে। বরং প্রোটিন, ভিটামিন, আয়রন এবং জিঙ্কের মতো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ খাবার বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। তাই রোজের ডায়েটে এগুলো অবশ্যই রাখুন।

খেলাধুলার জন্য বাইরে নিয়ে যান

সূর্য থেকেই মেলে শরীরের জন্য অপরিহার্য ভিটামিন ডি। এই ভিটামিন আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, নানা সংক্রমণ এবং রোগ-ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জোগায়। হাড় এবং দাঁত মজবুত রাখতেও ভিটামিন ডি-র জুড়ি মেলা ভার।

কিন্তু শীতকালে সূর্যালোকের অভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি দেখা দেয়। তাই দিনের বেলায় বাচ্চাকে খেলাধুলার জন্য বাইরে নিয়ে যান। এতে বাচ্চার শরীরচর্চাও হবে, অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে পারবে এবং পর্যাপ্ত সূর্যের আলোও পাবে।

পর্যাপ্ত ঘুম

পর্যাপ্ত ঘুম বাচ্চাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ঘুম ভালো হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। অন্তত ৮ ঘণ্টা টানা ঘুম হওয়া জরুরি। তাহলে বাচ্চারা সারা দিন আরও অ্যাক্টিভ এবং মনোযোগী থাকবে।

Disclaimer: এই আর্টিকেলে উল্লিখিত সমস্ত তথ্য পরামর্শস্বরূপ। কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ অথবা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন ও সেইমতো নিয়ম মেনে চলুন।

Story first published: Friday, January 19, 2024, 22:53 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion