গর্ভাবস্থায় শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখুন এই সুপারফুডগুলি!

By Bhagysree Sarkar

একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য সব সময়ই পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। তাই গর্ভাবস্থার খাদ্য়তালিকায় বাড়তি নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। গর্ভাবস্থার শুরু থেকে অবশ্যই পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। যাতে গর্ভের শিশু সহ মা প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভাবস্থা হল স্বাস্থ্যকর খাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সময়।

এই সময় প্রতিটি মাকে তাঁর নিজের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যও খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কিছু আশ্চর্যজনক সুপারফুড রয়েছে, যা একজন মা এবং শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিসম্পন্ন। যেমন-

pregnancy
  • ডিম

ডিম অন্যান্য সবকিছুর থেকে কিছুটা সস্তা হলেও এটি বহুবিধ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার। এজন্য ডিম সুপারফুড হিসেবে পরিচিত। ডিমে প্রয়োনীয় পুষ্টি উপাদান যেমন- প্রোটিন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, ডি ও কিছু বি কমপ্লেকস রয়েছে। এগুলি বাচ্চার মস্তিষ্কের গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গর্ভাবস্থায় ডিম ভাজা, সিদ্ধ, অথবা রান্না যেকোনও ভাবেই খেতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন ডিম যেন কোন অবস্থাতেই কাঁচা না থাকে। কারণ কাঁচা ডিমে একপ্রকার ব্যাক্টেরিয়া থাকে যেটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

  • ফল এবং শাক সবজি

ফল ও সবুজ শাক সবজি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গর্ভবতী মা এবং বাড়ন্ত শিশু উভয়ের জন্য সুপারফুড ফল ও সবুজ শাক সবজি। তাই প্রতিদিনের খাবারে টাটকা শাক সবজি অব্যশই থাকা জরুরি। সবুজ শাক সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা মা ও গর্ভের বাচ্চার সুস্থতার জন্য খুব জরুরি। এছাড়াও ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার, আয়রন এবং ভিটামিনের সহজ উৎস হল বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাক সবজি। গর্ভাবস্থায় বেশিরভাগ মহিলাই রক্তশূণ্যতায় ভুগে থাকেন, তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন গ্রহণ করতে হবে, যাতে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে না পারে। ভিটামিন সি আয়রনের শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়, তাই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। যেমন- আমলকি, পেয়ারা, কমলা লেবু ও লেবুজাতীয় ফল খেতে হবে।

  • মাছ ও মাংস

গর্ভস্থ শিশুর সঠিক বৃদ্ধি এবং পেশীর গঠনের জন্য গর্ভবতী মায়ের প্রচুর পরিমাণে মাছ ও মাংস খাদ্য়তালিকায় রাখতে হবে। তবে চর্বি ছাড়া মাংসই বেছে নেবেন। কারণ এতে প্রোটিনের পাশাপাশি আয়রন ও ভিটামিন বি৬, বি১২ থাকে। যা শিশুর মস্তিকের বিকাশ, রক্তসল্প্তা দুর করতে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা নেয়। এছাড়াও মাছের তেল খেতে পারেন। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রোটিন। মনে রাখবেন, এই সময় সামুদ্রিক মাছ এড়িয়ে চলাই ভালো।

  • দুগ্ধজাত খাবার

দুধ এবং দই গর্ভস্থ শিশু ও গর্ভবতী মায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। এতে রয়েছ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ফসফরাস এবং প্রোটিন। যা মা ও বাচ্চা উভয়ের হাড়্র এবং পেশির গঠনের জন্য আবশ্যক। দুধ খেতে না পারলে এর বদলে দই বা পনির খেতে পারেন।

  • বাদাম এবং ডাল

বাদাম এবং ডাল জাতীয় খাবারে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং মিনারেল। গর্ভাবস্থায় অনেক সময় মাছ মাংস খেতে ভাল লাগে না তাই বিকল্প হিসেবে খেতে পারেন ডাল জাতীয় খাবার। এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন বাদাম খেলে প্রিম্যচিউর বাচ্চা ডেলিভারি আশঙ্কা কমে এবং গর্ভস্থ বাচ্চার ওজন বৃদ্ধি পায়।

Story first published: Wednesday, June 26, 2024, 12:35 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion