চাঞ্চল্যকর তথ্য! লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রিটার্ম বার্থের সংখ্যা, নিরাপত্তার জন্য কী কী করবেন

By Bhagysree Sarkar

পরিবারের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত যখন একজন নতুন অতিথির আগমন হয়। নবজাতকের জন্ম বাবা-মা সহ গোটা পরিবারের জীবনে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই আনন্দে বাধা হয়ে দাঁড়ায় শিশুর অসুস্থতা, বা প্রিম্যাচিউর বার্থ। শিশুর শারীরিক জটিলতা মা-বাবা সহ গোটা পরিবারের চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে। তাই এই বিষয়ে আপনাদের বাড়তি সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন আছে।

চিকিৎসকদের মতে, মূলত ৩৭-৪২ সপ্তাহের গর্ভকালীন সময়কে বলা হয় টার্ম প্রেগনেন্সি। তবে ৩৭ সপ্তাহের আগে বাচ্চা জন্ম নিলে একে বলা হয় প্রিটার্ম বার্থ বা প্রিম্যাচিউর বার্থ। আবার ৪২ সপ্তাহের পর যদি বাচ্চার জন্ম হয়ে, তা পোস্ট টার্ম প্রেগনেন্সি। ২৮ দিন বা তার কম দিনে শিশুমৃত্যুর কারণগুলির মধ্যে এই প্রিটার্ম বার্থ অন্যতম। গবেষণায় বলছে, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপি ১ কোটি ৩৪ লক্ষ শিশু সময়ের আগেই জন্মেছে। হু এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন বাচ্চার মধ্যে ১ জন বাচ্চা নির্ধারিত সময়ের পূর্বে জন্মেছে। ২০১৯ সালে প্রায় ৯ লক্ষ বাচ্চার মৃত্য হয়েছে এই কারণে।

ছবি সৌজন্য- pexels

প্রিটার্ম বার্থ শিশুদের মধ্যে যে সমস্যাগুলি থাকে, তা হল -
শিশুর জন্ম থেকেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে। হৃদস্পন্দনও দ্রুত থাকে।
শিশুদের সারা গা লোমে ঢাকা থাকে, যাকে বলা হয় ল্যানুগো হেয়ার।
ফুসফুস সেভাবে পরিণত হয় না। তাই শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সমস্যা হয়।
এমনকি দুধ টেনে খেতেও কষ্ট হয়। তাই আইভি চ্যানেল মারফৎ খাওয়াতে হয় শিশুকে।
শরীরের গঠন মাথার আয়তনের থেকে ছোট হয়।

প্রিটার্ম বার্থ এর কারণ কী-
প্রথমত, বাল্য-বিয়ে ও কম বয়সে মা হওয়া এর অন্যতম কারণ।
এছাড়া, মায়ের স্বাস্থ্যহীনতা, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ, গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ ও রক্ত স্বল্পতা এর কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টুইন বা মাল্টিপল প্রেগনেন্সির কারণে আগে আগেই ডেলিভারি পেইন উঠতে পারে। আবার মা যদি গর্ভাবস্থায় ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখেন, সহজেই সংক্রমিত হন যা কিনা প্রিম্যাচিউর লেবারের দিকে ঠেলে দেয়।

এইসব শিশুর জন্য প্রয়োজন বিশেষ যত্নের। কীভাবে নেবেন-
অবশ্যই হাসপাতালে ডেলিভারি নিশ্চিত করা। হাসপাতালে বাচ্চাদের জন্য আই সি ইউ আছে কিনা সেটাও জেনে নিন। জন্মের পর পর বাচ্চাকে ওয়ার্ম রাখা, যতটা সম্ভব মায়ের সংস্পর্শে রাখার চেষ্টা করুন। ইনফেকশন এড়িয়ে চলার জন্য বাচ্চাকে হ্যান্ডলিং করার আগে হাত পরিষ্কার করে নিন। জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ দিন।

Story first published: Saturday, June 8, 2024, 16:19 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion