Parenting Tips: বাবা-মায়ের কিছু বদঅভ্যাস কেড়ে নিতে পারে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য, জানেন?

By Bhagysree Sarkar

Parenting Tips: প্রত্যেক অভিভাবকদের কাছে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন কাজ কী? তাহলে উত্তর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাওয়া যাবে শিশুর সঠিক মানুষ করা। হ্যাঁ, এটি এমন একটি কাজ যা সকল মা-বাবাকেই করতে হয়।

স্বাস্থ্য-শিক্ষা বা অন্য যেকোনও ক্ষেত্রে একটু ভুল হলেই তা সরাসরি প্রভাব ফেলবে আপনার শিশুর উপর। ভুল-ত্রুটি, বোঝা-পড়া সবকিছু নিয়েই শিশুকে মানুষ করতে হয়। এই পথ এতটাই কঠিন যে, সামান্যতম ভুলও আপনার শিক্ষায় আঙ্গুল তুলবে।

parents

তবে শিশুর (Child) শুধু ভরণ-পোষণ নয়, মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করাও একজন বাবা-মায়ের দায়িত্ব। মা-বাবা হিসেবে এমন কোনও কাজ করা যাবে না, যা শিশুর মনে খুব খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আপনিও যদি আপনার শিশুর ছোট ছোট বিষয়কে নিয়ে ঠাট্টা বা মজা করেন, তাহলে সাবধান হন এখনই। আজকের প্রতিবেদনে আপনাকে এমন কিছু বিষয়ে সতর্ক (Parenting Tips) করা হবে, যেগুলি এখনই আপনার বন্ধ করা উচিত। নাহলে আপনার শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের (Child mental health) উপরে পড়বে কুপ্রভাব।

  • সব মা-বাবাই চায় তার শিশুর বুদ্ধি তীক্ষ্ণ হোক। কিন্তু আপনার জানা উচিত প্রতিটি শিশুর বুদ্ধি ক্ষমতা তাদের নিজস্ব স্তরে আলাদা। এই পরিস্থিতিতে আপনার শিশুকে কোনওদিন অন্য কোনও শিশুদের সাথে তুলনা করবেন না। যখন মা-বাবা তাদের শিশুকে তারই বন্ধু বা অন্য শিশুর সাথে তুলনা করে, তখন অনেক শিশুরই মানসিক চাপ তৈরি হয়। হেরে যাওয়া বা পরাজিত বোধ শিশুর মনের উপর চরম প্রভাব ফেলে।
  • অনেক মা-বাবারাই তাদের শিশুর সফলতায় উৎসাহ দেন না। যা একেবারেই ভুল কাজ। প্রতিটি শিশু তার বাবা-মায়ের কথায় প্রাথমিক আত্মবিশ্বাস পেয়ে থাকে। এমতাবস্থায় বাবা-মা যদি শিশুর শারীরিক গঠন এবং চেহারা নিয়েও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, তবে ভাবুন তো, শিশুর মনে কী মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। তাই এই জিনিসগুলি ভুলেও করবেন না। শৈশবেই শিশুর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়া একেবারেই অনুচিত। এই কাজের ফলে আপনার শিশু ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে শুরু করে, সে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা এবং কম বুদ্ধিমান। মা-বাবার এই কাজ শিশুর ভবিষ্যতের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

Parenting Tips: বড় হওয়ার সঙ্গেই অভদ্র হয়ে উঠছে আপনার শিশু? তর্ক না করে মেনে চলুন এই টিপসগুলি

  • এমনও অনেক বাবা-মা আছেন, যারা তাদের শিশুর শৈশব বেলার স্বপ্ন নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে। যা একজন মা-বাবা হিসেবে লজ্জার বিষয়। আপনার উচিত, শিশুর প্রতিটি স্বপ্ন ও কল্পনাকে গুরুত্ব সহকারে বোঝা ও সেগুলি নিয়ে কথা বা আলোচনা করা। হতেই পারে, আপনার এই ছোট পদক্ষেপেই আপনার শিশু হয়ে উঠবে ভালো মানুষ।
  • আমাদের প্রত্যেকের নিজেদের আবেগ দেখানো বা প্রকাশ করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। ঠিক একইভাবে শিশুদেরও আবেগ প্রকাশ করার ধরন আলাদা। অনেক শিশু তাদের আবেগ কেঁদে দেখায়, আবার অনেকে সহ্য করে নেয়। তবে সমস্যা হয়, যারা কেঁদে ফেলে। এইধরনের শিশু নিয়ে শুধু বাবা-মা কেন, আত্মীয়রাও হাসি-ঠাট্টা করে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে মা-বাবা হিসেবে আপনাদেরই উচিত শিশুকে সামলানো, তার সাথ দেওয়া। মনে রাখবেন, সে কিন্তু দুর্বল নয়, তার আবেগ প্রকাশের ধরন এটি।

Story first published: Tuesday, November 5, 2024, 19:00 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion