একমাত্র ফোন হাতে দিলেই মুখে ভাত তুলছে শিশু, জেনে নিন কী ভয়ানক বিপদ ডেকে আনছেন!

By Bhagysree Sarkar

বর্তমানে সমস্ত কিছুই প্রায় মুঠো ফোনে আবদ্ধ। বেশিরভাগ কাজই এখন ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হয়। যার ফলে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং ল্যাপটপের মতো ডিভাইসের ব্যবহার অত্যধিক মাত্রায় বেড়েছে। এমনকি শিশুরাও এইসব ডিভাইস ব্যবহার করছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিন দেখছে। তবে আপনার জেনে রাখা ভালো, এই অভ্যাস আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই ভালো নয়। তাই মা-বাবা হিসাবে আপনার শিশুর স্ক্রিন টাইমের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যাতে তার কোনও শারীরিক সমস্যা না দেখা যায়।

রিপোর্ট অনুসারে, ০ থেকে ২ বছর বয়সী শিশুদের একেবারেই এই স্ক্রিন দেখানো উচিত নয়। এমনকি সামান্য স্ক্রিন টাইমও এই বয়সে নিরাপদ বলে মনে করা হয় না। ২ বছর থেকে ১২ বছরের মধ্যে শিশুদের স্ক্রিন টাইম দিনে সর্বোচ্চ 1 ঘণ্টা হওয়া উচিত। যেখানে ১২ বছরের বেশি বয়সীদের দিনে ২ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন দেখা উচিত নয়। এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও এটি সুরক্ষিত নয়। তাদের দিনে স্ক্রিন টাইম ২ ঘণ্টা হওয়া উচিত। কাজের কারণে অনেকের স্ক্রিন টাইমিং বাড়তে পারে, তবে তা কমানোর চেষ্টা করা উচিত।

ছবি সৌজন্য- pexels

বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, স্ক্রিন টাইম বাচ্চাদের নতুন জিনিস শিখতে, সৃজনশীলতা বিকাশ করতে এবং সামাজিক সংযোগ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। কিন্তু অত্যধিক স্ক্রিন টাইম আপনার শিশুর বিকাশ এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে বেশিরভাগ শিশু পর্যাপ্ত ঘুম পায় না এবং তাদের খাদ্যাভাসও প্রভাবিত হতে শুরু করে। অনেক শিশু স্ক্রিন দেখে খুব বেশি খায়, আবার কিছু শিশু পর্দার কারণে ঠিকমতো খায় না। ইন্টারনেটে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন দেখে শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যেতে পারে। তই সতর্ক হতে হবে।

অনেক গবেষণায় আবার দেখা গিয়েছে, ভাল স্বাস্থ্যের জন্য শিশুদের প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট শারীরিক কার্যকলাপ করা উচিত। এজন্য অভিভাবকদের উচিত তাদের শিশুদের প্রতিদিন পার্কে নিয়ে গিয়ে শারীরিক কার্যকলাপের জন্য উৎসাহিত করা। তবে যদি আপনার শিশু প্রতিদিন পর্যাপ্ত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ করে, তবে এটি তাদের ঘুমের উন্নতি করবে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করবে। আপনার সন্তানের বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন সময় সীমা সেট করুন। কোথায়, কখন এবং কিভাবে স্ক্রিন ব্যবহার করা হবে, তা নির্ধারণ করুন। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে।

এছাড়াও গবেষণা বলছে, একটি শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম পাওয়ার ক্ষমতা স্ক্রিনে ব্যয় করা সময় দ্বারা প্রভাবিত হয়। চিকিৎসকমহল বলছে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সব মানুষেরই পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। কম ঘুমের কারণে আমাদের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ঘেরলিন ও লেপটিনের ভারসাম্য নষ্ট হতে থাকে। যারফলে মানুষের ক্ষুধা বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই এর ফলে শিশুরা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। যে শিশুরা ঘরের ভিতরে স্ক্রিন দেখার জন্য বেশি সময় কাটায়, তারা বাইরে যাওয়া বন্ধ করে এবং শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকে। এটি তাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। তাই আপনার দরকার শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে তাদের বাইরে খেলাধুলা করানোর জন্য উৎসাহিত করা।

Story first published: Wednesday, August 14, 2024, 19:53 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion