অল্প বয়স থেকেই শিশুকে সহানুভূতিশীল হয়ে শেখবেন কীভাবে?

রোজকার ব্যস্ত জীবনে কিকরে আপনার সন্তান কে শেখাবেন এই সহমর্মিতা, কিভাবে রোজকার একটু একটু করে শেখার মধ্যে থেকে তার মধ্যে জাগিয়ে তুলবেন একটা দরদি মনুষ্যত্ব বোধ?

রোজকার জীবন প্রতিনিয়ত চলতে থাকে বেঁচে থাকার লড়াই, টিকে থাকার লড়াই। কাজের চাপ, উন্নতি, দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততায় ভুলতে থাকি মনুষ্যত্ব বোধ, সহমর্মিতা বা দায়িত্ববোধ। যার প্রভাব অনেক সময় শুধু আমাদের জীবনে এসে পড়ে না, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের উপরেও আসে। ইঁদুরদৌড় ভুলিয়ে দিতে থাকে শুধু টাকা নয়, মানুষ হতে গেলে একই সাথে দরকার সহানুভূতি বা সহমর্মিতার মতো গুণও। মাদার টেরেসার কথায়, "খিদে শুধু খাবারের জন্যে হয় না, হয় ভালবাসার জন্যেও। কাপড় শুধু উলঙ্গ হলেই দরকার হয় না, দরকার হয় আত্মসম্ভ্রম আর মর্যাদাবোধ এর জন্যেও। মানুষ ছাদহীন শুধু ঘর নেই বলেই হয় না, মানুষ ছাদহীন হয় প্রত্যাখ্যাত হলেও।"

compassionate

কিন্তু রোজকার ব্যস্ত জীবনে কিকরে আপনার সন্তান কে শেখাবেন এই সহমর্মিতা, কিভাবে রোজকার একটু একটু করে শেখার মধ্যে থেকে তার মধ্যে জাগিয়ে তুলবেন একটা দরদি মনুষ্যত্ব বোধ?

আসুন আজ জেনে নি সেরকম কিছু দিক।

১. সহানুভতিশীল হন আর হতে বলুনঃ

১. সহানুভতিশীল হন আর হতে বলুনঃ

আমরা কেউ পারফেকট নই তাই মানুষ মাত্রেই ভুল করে এটা জেনেও অনেক সময় ধৈর্য হারিয়ে খারাপ ব্যাবহার করে ফেলি। তার বদলে যদি আপনার সন্তানের কোন ভুল এ তাকে যদি ক্ষমা করে আর একটা সুযোগ দি শুধরানোর বা কেন ভুল করলো জানতে চাই, হয়ত ভবিষ্যতে তার মধ্যেও এই ক্ষমা করার শিক্ষা থেকে যাবে।

২. ভালো কাজে উৎসাহ দিনঃ

২. ভালো কাজে উৎসাহ দিনঃ

সন্তানকে ভাল কাজে উৎসাহ দিন ছোটবেলা থেকেই। অন্যকে সাহায্য করা, কারুর বিপদে এগিয়ে যাওয়া তে উৎসাহ দিন। সেটা হতে পারে খেলার সঙ্গী কে, বা আপনাকে রোজকার ঘরের কাজে। ছোট ছোট এই কাজ গুলোই তাকে শেখাবে সহানুভূতি। রাস্তায় পথচলতি অনেক সময় চোখে পড়ে কোনও গরীব মানুষ।আপনার সন্তানের সামনে তাকে সাহায্য করুন আর্থিক ভাবে বা খাবার দিয়ে। কথায় আছে, বড়দের দেখেই ছোটরা শেখে। এগুলো আপনার সন্তান কে শেখাবে পরোপকারিতা। বুঝতে শেখাবে তাকে অন্যের দুঃখকষ্ট।

৩.বাড়িতে পুষুন নতুন প্রাণীঃ

৩.বাড়িতে পুষুন নতুন প্রাণীঃ

বাড়িতে পুষুন কুকুর বা বিড়াল বা পাখী। খেলার ছলে আপনার সন্তান শিখতে থাকবে মমত্ববোধ। শর্তহীন ভালবাসা তাকে উদারমনস্ক করে তুলবে। নতুন খেলার সাথীর খেয়াল রাখার দায়িত্ব যে তার ও, সে ব্যাপারে যত্নবান হন। এর মধ্যে দিয়ে আপনার সন্তান শিখবে দায়িত্ববোধ।

৪. দরকার উদারমনস্ক চিন্তাভাবনাঃ

৪. দরকার উদারমনস্ক চিন্তাভাবনাঃ

বয়স্ক দের ভালবাসতে শেখান আপনার সন্তান কে। চেষ্টা করুন আপনার সন্তান যেন একটা ভাল সময় তাদের সাথে কাটাতে পারে। এই সময় গুলো তাকে শেখাবে ভাল শিক্ষা, দেবে সংস্কৃতি। বাড়ির সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ টারও যে তার কাছে থেকে ভালবাসা পাওনা আছে, সেটা বুঝতে দিন। একই সাথে বাড়ির বা একই এলাকার অশক্ত বা পঙ্গু ব্যাক্তিও যে একই সাহায্য বা ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য, সেই শিক্ষা দিন ছোট থেকেই।

৫. সংযোগ মাধ্যম কে কাজে লাগানঃ

৫. সংযোগ মাধ্যম কে কাজে লাগানঃ

আজকের দিনে সব ভাল জিনিসের মধ্যেই রয়েছে খারাপ জিনিস। টিভি, ইন্টারনেট তার বাইরে না। তার মধ্যেও যতটা সম্ভব পরবর্তী প্রজন্ম কে দিন এই সংযোগ মাধ্যম এর সীমিত আর পরিশীলিত ব্যাবহার। কারন আজ সে যা দেখবে, কাল তাই শিখবে।

Story first published: Tuesday, January 29, 2019, 14:00 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion