ভালোবাসাই পারে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ দ্রুততর করতে, জেনে নিন পদ্ধতিগুলো

শিশুর শরীরের যথাযথ বৃদ্ধির সঙ্গে মস্তিষ্কের উন্নতির দিকেও নজর রাখেন সব বাবা মায়েরা। মস্তিষ্কের উন্নতি বা কর্মক্ষমতা বলতে ঠিক কী কী বোঝান বিশেষজ্ঞরা ? তাঁদের মতে, শিশু তার পরিবেশ থেকে কতটা প্রভাবিত হচ্ছে, হাসি, কান্না, কৌতুহল ইত্যাদি সময়মত প্রকাশ পাচ্ছে কি না, বাবা মায়ের কোনও ইঙ্গিতের উত্তরে সাড়া দিচ্ছে কি না, এই সবই মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের উন্নত করে। ভালোবাসার মাধ্যমে, সন্তানকে যথেষ্ট সময় দেওয়ার মাধ্যমেই তা সম্ভব। তাই শিশুর খাওয়া দাওয়া ও স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার পাশাপাশি স্নেহভরে খেয়াল রাখতে হবে তার ছোটখাটো সমস্ত আবেগের । তার আবেগের যথাযথ বিকাশই তার মস্তিষ্ককে পরিনত হতে সাহায্য করে।

 শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ দ্রুততর করবেন কী করে?

১। প্রতিটি চালচলনে নজর রাখুন

১। প্রতিটি চালচলনে নজর রাখুন

শিশু চার থেকে ছয়মাস বয়স হওয়ার পর থেকেই হাত পা ছোড়াছুড়ি, নানাপ্রকার অঙ্গভঙ্গি করে থাকে। এই সময় সন্তানের প্রতিটি ভঙ্গিতেই নজর রাখুন ও পজিটিভ ভাবে হাসিমুখে তার প্রত্যুত্তর দিন। এতে সে আপনার সঙ্গে আরও একাত্মবোধ করবে, একইসঙ্গে উৎসাহও পাবে তার নতুন নতুন কার্যকলাপে।

 ২। মজা করুন

২। মজা করুন

শিশুর খাওয়ানো থেকে পরানো বা কোনও নতুন জিনিস শেখানো, যাই করুন চেষ্টা করুন সবকিছুতেই মজার ভাগ রাখতে। মজা বা হাসির রস থাকলে যেকোনও কঠিন সমস্যার সহজে সমাধান করা সম্ভব। শিশুরা অনেকটাই ছোট, পৃথিবীটাই তাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। তাই মজার মাধ্যমে তাদের প্রতিদিনের রুটিনের সবকিছু যদি চলতে থাকে তবে পৃথিবীটা তাদের কাছে কঠিন হয় না। এই থেকেই তাদের কৌতুহল ও মানসিক দৃঢ়তা আরও বৃদ্ধি পায়। এই মানসিক দৃঢ়তা মস্তিষ্কগঠনে ও তার কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

 ৩। শেখানোর সময় পজিটিভ থাকুন

৩। শেখানোর সময় পজিটিভ থাকুন

নতুন কিছু শেখার সময় শিশুরা সবসময়ই কৌতূহল প্রকাশ করে। তার প্রথম অবাক হয়ে দেখা, আনন্দ হলে হাসা, খারাপ লাগলে ভয় পেয়ে সরে যাওয়া এসবই তার মস্তিষ্কের কোশগুলোকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। শেখার সময় তেমনই নতুনকিছু যখন তাকে বলা হয়, তা তার মস্তিষ্কের কোশে গিয়ে জমা হয়। শুধু শেখানো জিনিসটি নয়, যে পদ্ধতিতে শেখানো হয় তাও তার মনে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। তাই কোনওকিছু শেখানোর সময় চেষ্টা করুন মুখে হাসি ধরে রাখতে। আপনার হাসি দেখেই আপনার জুনিয়র সাহস পাবে নতুন জিনিস শেখার। ভুল হলেও আপনার হাসি দেখেই সে চেষ্টা করবে নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার।

 ৪। নতুন ধরনের খেলা শেখান

৪। নতুন ধরনের খেলা শেখান

শিশুকে এমনধরনের খেলা শেখান যা খেলতে খেলতে সে শিখবে অনেক নতুন জিনিস। সে নিজে থেকে আবিষ্কার করতে শিখবে নতুনকিছু। যেমন সন্তানের এক বছর বয়স হলে তাকে অক্ষরের ছাঁদ কিনে দিয়ে শেখাতে পারেন ওয়ার্ড মেকিং। আবার সহজ পাজল কিনে দিয়ে সাজাতে দিতে পারেন তাকে। এইগুলো নিয়ে খেলার পাশাপাশি সে মাথাও খাটাবে, যাতে আখেরে মস্তিষ্কেরই উন্নতি।

 ৫। বইয়ের প্রতি টান জাগান

৫। বইয়ের প্রতি টান জাগান

বই পড়া অত্যন্ত ভালো অভ্যাস। তাই বইয়ের প্রতি শিশুর ছোট্ট বয়স থেকেই টান থাকা ভালো। ছয় সাতমাস বয়স হলেই তার জন্য কিনে আনুন মস্ত ছবিসমেত গল্পের বই। আপনি নিজে শিশুকে সেসব গল্প মুখে নানা অঙ্গভঙ্গি করে পড়ে শোনান। ছবিগুলোর ইমপ্রেসন শিশুর মস্তিষ্কে নতুন নতুন কৌতুহল তৈরী করে ও আপনার বলা গল্পের ধরন শিশুর মনে বিস্ময় জাগায়। এই অনুভূতিগুলো মস্তিষ্ককে সংবেদনশীল করে তোলে।

৬। গান শোনান

৬। গান শোনান

যখন শিশু কাঁদছে বা কোনওকারণে বিরক্তবোধ করছে তখন তাকে শান্ত করার জন্য হালকা সুরের স্নিগ্ধ গান শোনান‌। একইভাবে ঘুমোনোর সময় নিজের জানা গানগুলো গেয়ে শোষাতে পারেন। হালকা সুরের গান মস্তিষ্কের কোশগুলোকে আরাম করতে সাহায্য করে। এর ফলে সারাদিন হুটোপাটি করা শিশুর মস্তিস্কও যথেষ্ট আরাম পায়।

Story first published: Thursday, May 30, 2019, 13:10 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion