Dry Eyes in Children: আপনার সন্তান শুষ্ক চোখের সমস্যায় ভুগছে না তো? বুঝবেন কী ভাবে?

বাচ্চা থেকে বয়স্ক, বেশিরভাগ মানুষই আজকাল চোখের হাজারো সমস্যায় ভুগছেন। খুব কম বয়স থেকেই নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে চোখে। চোখের অসুখ বলতে সাধারণত পাওয়ারের সমস্যাই বোঝেন মানুষ। তবে এই সমস্যা বাদে আরও অনেক রোগ দেখা দিতে পারে চক্ষুদ্বয়ে। ড্রাই আইজ হল এমনই এক জটিল অসুখ।

বাচ্চাদের মধ্যে ড্রাই আই বা শুষ্ক চোখের সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। চোখ যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল তৈরি করতে পারে না বা খুব দ্রুত বাষ্প হয়ে যায়, তখন চোখে শুষ্কভাব, জ্বালা, প্রদাহ এবং দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, বাচ্চাদের ড্রাই আইজ হওয়ার কারণ, উপসর্গ এবং প্রতিরোধের উপায় -

Dry Eyes in Children

বাচ্চাদের ড্রাই আই হওয়ার কারণ কী?

ড্রাই আই সিন্ড্রোমে বা চোখের শুষ্কতার (Dry eye syndrome) কারণে বাচ্চাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা পড়ে। পড়াশোনা, কম্পিউটার ব্যবহার এবং খেলাধূলা ঠিকমতো করতে পারেন না। এ ছাড়াও, মাঝেমধ্যে চোখে জ্বালা ও চুলকানি, ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলা, ক্লাসে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়। বাচ্চাদের শুষ্ক চোখের (dry eyes) পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন -

১) চোখে কোনও ধরনের অ্যালার্জি থেকে ড্রাই আইজের সমস্যা হতে পারে

২) কন্ট্যাক্ট লেন্স পরা

৩) কনজাক্টিভাইটিস (pink eye) এর কারণেও ড্রাই আই হতে পারে

৪) শরীরে পুষ্টির ঘাটতি, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব থেকে ড্রাই আইজ হতে পারে

৫) স্মার্টফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের অত্যধিক ব্যবহার, এর ফলে চোখের পলক কম পড়ে

৬) অতিরিক্ত অ্যান্টিহিস্টামাইন সেবন করা

৭) চোখের ক্লান্তিও এর একটি লক্ষণ। চোখে জল কমে গেলে বার বার পলক ফেলে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। ফলে চোখে ক্লান্তি ভাব আসে।

শুষ্ক চোখের উপসর্গ

বাচ্চাদের শুষ্ক চোখের কিছু সাধারণ লক্ষণ হল -

  • ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলা
  • চোখে লালচে ভাব
  • অনবরত চোখ ঘষা
  • আলো থেকে দূরে থাকা
  • চোখের ভিতরে এবং চারপাশে জ্বালা, চুলকানি
  • ঝাপসা দৃষ্টি
  • বই পড়তে ও লিখতে অসুবিধা
  • দৃষ্টি মনোযোগ প্রয়োজন এমন কাজ করতে অসুবিধা
  • চোখে শুকনো ভাব
  • চোখ থেকে অনবরত জল পড়া

শুষ্ক চোখের ঘরোয়া চিকিৎসা

ড্রাই আইজের সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যান এবং তাঁর পরামর্শ মেনে চলুন। এ ছাড়া, আপনি বাড়িতেও কিছু ব্যবস্থা নিতে পারেন -

১) ধুলো, ধোঁয়া এড়িয়ে চলা। চোখ জ্বালা করে এমন জিনিস থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখুন।

২) প্রচন্ড রোদে সানগ্লাস পরান বাচ্চাকে। টুপি বা ছাতা ব্যবহার করুন। এগুলো চোখকে রোদ, বাতাস, ধুলোবালি ও ময়লা থেকে রক্ষা করতে পারে।

৩) স্ক্রীন টাইম কমান।

৪) কন্ট্যাক্ট লেন্সের ব্যবহার কমান।

৫) ডাক্তারের পরামর্শ মেনে বাচ্চাকে ওষুধ খাওয়ান। তবে বাচ্চার যদি কোনও ওষুধে সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

৬) আর্টিফিশিয়াল টিয়ার্স আই ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে।

৭) প্রতিদিন সকালে প্রায় ৫ মিনিট বাচ্চার চোখের পাতার উপর উষ্ণ, স্যাঁতসেঁতে কাপড় রাখুন। তারপর চোখের পাতা হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন। এটি চোখের আর্দ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৮) বাচ্চাকে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ান। পর্যাপ্ত জল, ফলের রস এবং টাটকা ফল খাওয়ান। গাজর, পেঁপে এবং ভিটামিন এ যুক্ত অন্যান্য খাবার খেতে হবে। এ ছাড়াও, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।

Disclaimer: এই আর্টিকেলটি সাধারণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন।

X
Desktop Bottom Promotion