গর্ভাবস্থায় কঠোর উদর কারণসমূহ

By Super Admin

গর্ভাবস্থায়, মহিলারা সাধারণত অনেক শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হন| সকল গর্ভবতী নারীরা ক্রমবর্ধমান ও স্ফীতিশীল উদরের সাক্ষী হয়ে থাকেন| আপনার গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় তিনমাসের মধ্যে, জরায়ু অর্ধেক পথ পৌঁছে যাবে এবং আপনার শ্রোণী হাড় এবং নাভির মধ্যে আটকে যাবে|

এই সময় জরায়ুর মাপ বিস্মৃতির সম্ভাবনা বেশি হয় এবং শেষ পর্যন্ত পেটের দেয়ালে চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে , আপনার উদরে কঠিন অনুভূতি হয়| দিন এগোতে থাকলে উদরের এই কঠোরতা বেশ স্বাভাবিক হয়ে যায়| এই অবস্থা অনেক গর্ভবতী মহিলাদের জীবনেই ঘটে থাকে| গর্ভবতী নারীর, গর্ভাবস্থায় কঠিন উদর থাকবে এই সম্পর্কে চিন্তা করার কিছুই নেই|

উদরের চারপাশে কঠিন অনুভূতি হলে বিস্মিত বোধ করবেন না কারণ এটা আপনার ক্রমবর্ধমান জরায়ুর জন্য হয়| কিছু ক্ষেত্রে, এই অনুভূতি গর্ভাবস্থার 12 সপ্তাহ শেষের পরে হতে পারে| গর্ভাবস্থার এই কঠিন উদর, ব্যক্তির দেহের ধরনের উপরেও অনেকটা নির্ভর করে| কখনও কখনও, চরম কঠোরতা অধিকাংশ গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে| এমনকি আপনি মনমরা এবং কোনও কিছুতে মনোযোগ দিতে সক্ষম নাও হতে পারেন|

এই সকল আবেগ আপনি গর্ভবতী অবস্থায় মুখোমুখি হতে পারেন| আপনি যদি মানসিকভাবে অস্বস্তিতে থাকেন, তাহলে অবিলম্বে জন্মপূর্ব যত্ন নিন| কেন গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় তিনমাসের (21 সপ্তাহে)মধ্যে কঠিন উদরের মুখোমুখি হতে হয় আসুন দেখে নিন|

গর্ভাবস্থায় কঠোর উদর

জরায়ু
শিশু জরায়ুতে বড় হতে থাকে, যা মূত্রাশয় এবং মলদ্বার মধ্যে শ্রোণী গহ্বরে অবস্থিত| কটিরেখা প্রসারিত হবে শিশু এবং জরায়ু বড় হওয়ার সাথে সাথে| গর্ভাবস্থায় কঠিন উদরের প্রধান কারণ হল জরায়ু উদরের উপর চাপ প্রয়োগ করা শুরু করে এবং এটি প্রসারিত করতে থাকে| বাস্তবে, প্রথম তিনমাসের সময় এটা ঘটে যখন জরায়ু প্রসারিত হতে শুরু করে| তাছাড়া, যখন দ্বিতীয় তিনমাসের সময় শিশুর বৃদ্ধি ঘটে, পেটে জলের ভলিউম বৃদ্ধি পায় এবং তা কঠিন উদরের সূত্রপাত হতে পারে|

ফিটাল কঙ্কালের বিকাশ
সাধারণত গর্ভবতী মহিলারা দ্বিতীয় তিনমাসের পর অত্যধিক কঠোরতা উপসর্গের সম্মুখীন হন কারণ তখন ভ্রূণের কঙ্কালের বিকাশ ঘটে এবং একই সময়ে বিস্তৃতি পায়| শিশুর শরীরে হাড় আকৃতি নিতে শুরু করলে উদর কঠিন হয়ে যায়| অন্যদিকে, যাহাই হউক না কেন গর্ভাবস্থার শেষের দিকে আপনার উদর শিলার ন্যায় কঠিন হতে শুরু করবেই|

রোগা এবং মোটা মহিলা
গর্ভাবস্থায় রোগা এবং মোটা মহিলাদের কঠিন উদর শরীরের বিভিন্ন ধরনের জন্য বিভিন্ন হতে পারে|প্রধানত, রোগা মহিলারা গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে কঠিন উদর অনুভব করেন এবং মোটা মহিলারা তৃতীয় তিনমাসের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করে থাকেন|

স্ট্রেচ মার্ক্স্
গর্ভবতী মহিলারা এই সময় সাংঘাতিক পেটে ব্যথা অনুভব করে থাকেন এবং এটা শুধুমাত্র প্রসবের পর নিরাময় হতে পারে|ব্যথা তৃতীয় তিনমাসের মধ্যে অনুভূত হলে তা স্বাভাবিক হিসেবেই গণ্য করা হয়, যা শিশুর বৃদ্ধি ও জরায়ুর বিস্মৃতির জন্য ঘটে থাকে| আপনি যদি ক্রমাগত ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে জন্মপূর্ব যত্ন নিন| এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, পেট শক্ত হওয়ার আরেকটি কারণ হল স্ট্রেচ মার্ক্স্ গঠন| ভিটামিন এ ক্রিম যেমন রেটিনা এ দিয়ে পেটের ওপর মৃদু মালিশে স্ট্রেচ মার্ক্স্ দূর করা যেতে পারে|

কোষ্ঠকাঠিন্য
কঠিন উদরের অন্যান্য মূল কারণ অপরিযাপ্ত খাদ্য ও অনুপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস, যেমন খুব দ্রুত খাবার খাওয়া| খাদ্য দ্রুত খেলে, আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগার সম্ভবনা থাকে| গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কঠিন উদরের আরেকটি সাধারণ কারণ হল কোষ্ঠকাঠিন্য| কোমল পানীয় এবং অন্যান্য পানীয় পেট শক্ত ও ব্যথার কারণ হতে পারে| হজমে সমস্যা এড়াতে, গর্ভবতী মহিলাদের উচ্চ ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত|

Story first published: Wednesday, November 9, 2016, 14:10 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion