বাচ্চাদেরও হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য! ভয় না পেয়ে জেনে নিন মুক্তির ঘরোয়া উপায়

By Bhagysree Sarkar

বাচ্চার অনিয়মিত মলত্যাগ না করলেই কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে ভাবা ভুল। বরং অনেক বাচ্চা রোজই মলত্যাগ করছে কিন্তু তা স্বাভাবিক নয়, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ বলা চলে। ফলে অভিভাবকরাই সন্তানের কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ বুঝতে দেরি করে ফেলেন। সাধারণত সপ্তাহে তিনবারেরও কম মল ত্যাগ করা বা মল ত্যাগ করা কঠিন হলে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে বাচ্চা অস্বস্তি ও বিরক্তি বোধ করতে পারে।

আবার অনেক অভিভাবকরাই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ছোট বয়স থেকে বাচ্চাকে ওষুধ খাওয়াতে চান না। যার ফলে বাচ্চার কষ্ট বাড়তেই থাকে। তাই আপনার সন্তানের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নজরে এলেই দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই সমস্যা মা-বাবা উভয়ের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ। এই ধরনের সমস্যায় ঘরোয়া প্রতিকার বেছে নিলে ওষুধ ছাড়াই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক বাচ্চার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া কিছু উপায়-

children
  • খাদ্যাভাসে সমস্যা

বাচ্চাকে কৌটার দুধ খাওয়ালে এবং তা সঠিক পদ্ধতিতে তৈরি করতে না পারলে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবেও মায়েরা শিশুকে খুব পাতলা করে দুধ তৈরি করে খাওয়ান। কিন্তু দুধ পাতলা করে তৈরি করলে তাতে পর্যাপ্ত খাদ্যসার থাকে না, ফলে বাচ্চার মল তৈরি হতে পারে না। এছাড়া ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন দানা শস্য, ফলমূল এবং শাক-সবজি তার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন। ফাইবার মল বৃদ্ধি করে, মলত্যাগের উন্নতি করে। ফাইবার সমৃদ্ধ স্ন্যাকস যেমন টুকরো করা আপেল, নাশপাতি বা গাজরও এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

  • হাইড্রেটেড রাখুন

ডিহাইড্রেশন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। বাচ্চাকে পরিমাণের তুলনায় জল কম খাওয়ালে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়বে। হাইড্রেশন মল নরম করতে সাহায্য করে, মল ত্যাগ করা সহজ করে তোলে। জল ছাড়াও ফলের রস, লেবুর শরবত, ডাবের জল খাওয়াতে পারেন।

  • টয়লেটের অভ্যাস

আপনার বাচ্চার একটি নিয়মিত টয়লেট রুটিন ঠিক করুন। তাদের সময়মতো প্রতিদিন একই সময়ে টয়লেট ব্যবহার করতে উৎসাহিত করুন। নিয়মিতভাবে অভ্যাস না করালে সহজেই শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

  • ওষুধের ব্যবহার

কিছু কিছু ওষুধ ব্যবহারের ফলেও আপনার বাচ্চার কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। যেমন- অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ, পেটব্যথার ওষুধ ইত্যাদি। তাই বাচ্চাদের ওষুধ খাওয়ালে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

এছাড়াও যদি এইসমস্ত ঘরোয়া প্রতিকারে কাজ না হয়, তবে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেটে ব্যথা, মলে রক্ত বা ওজন হ্রাসের মতো গুরুতর লক্ষণ থাকলে দ্রুত এখজন শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

মনে রাখবেন-

  • জন্মের পর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
  • ছয় মাস পর বুকের দুধের পাশাপাশি বাচ্চার পরিপূরক খাবারে পর্যাপ্ত ফাইবার ও জল যেন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • বাচ্চার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম আছে কিনা যাচাই করুন।
  • বাচ্চাকে বাইরের জাঙ্ক ফুড না খাওয়ানোই ভালো।

Story first published: Monday, June 24, 2024, 16:21 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion