গর্ভাবস্থায় ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাচ্ছেন তো? না খেলেই কিন্তু বিপদ!

By Bhagysree Sarkar

অনেকেই মা হতে পারছেন না ভিটামিন ডি-এর অভাবে। হ্যাঁ, শুনতে ভয়ানক লাগলেও এটাই সত্যি। কারণ, গর্ভাবস্থায় ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি শরীরের জন্য ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই উপাদান মায়েদের হাড়ের স্বাস্থ্য প্রসবের সময় এবং পরে ভালো রাখে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মায়ের জরায়ুতে যখন নতুন জীবন নেমে আসে তখন এই ভিটামিনের ঘাটতি অনেক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে প্রি-একলামশিয়া, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এবং ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের প্রবণতা।

এছাড়াও এটি বাড়িয়ে দেয় সিজারিয়ান অপারেশনের হার। নবজাতকের হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তাই এই সময় ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়। গর্ভাবস্থায় দিনে ২০০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। শুধু মায়ের নয়, জন্ম নেওয়ার পর ওই শিশুটিরও হতে পারে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি, খিঁচুনি। সঙ্গেই আবার রয়েছে টাইপ-১ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি।

Pregnancy

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, গর্ভাবস্থায় শুধু নয়, ক্যালসিয়াম আমাদের প্রত্যেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে গর্ভাবস্থা প্রোজেস্টেরন এবং অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে একটি অত্যন্ত বিপাকীয় অবস্থা। এই সময় মা ও শিশু, উভয়ের জন্যই ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা বেশি থাকে। যেকোনও ধরনের অস্টিওপোরোসিস এড়াতে ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার এই সময় খাওয়া উচিত। সন্তান জন্মের পর ইস্ট্রোজেনের মাত্রা আরও কমে যায়। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় মেরুদণ্ড, নিতম্ব এবং কব্জিতে।

ইস্ট্রোজেন, যা হাড়কে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে, গর্ভাবস্থায় এই ইস্ট্রোজেন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এই দুইয়ের অভাবে কিছু মহিলার গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। সেইসঙ্গে সাধারণত প্রসবের সময় বা প্রসবের ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে হাড়ে ভাঙনও ধরা শুরু হয়। তাই গর্ভাবস্থার আগে এবং গর্ভাবস্থার সময় শরীরের সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তাই নয়, সঙ্গে একজন অভিজ্ঞ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

ডেলিভারির পর স্ট্রেচমার্কের সমস্যায় ভুগছেন, দাগ আটকাতে মানুন এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলি

তাই এই সময় দুগ্ধজাত দ্রব্য (যেমন- দুধ, দই, পনির) খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি-এর চমৎকার উৎস এগুলি। এতে হাড়ের স্বাস্থ্য এবং পেশী বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক উপাদান থাকে। এছাড়াও বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়। এগুলিতে থাকে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন এবং খনিজ যেমন ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্ক সরবরাহ করে, যা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে অবদান রাখে।

Story first published: Tuesday, June 25, 2024, 13:06 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion