রাশি চক্র: আপনার চরিত্রের সব থেকে দুর্বল দিকগুলি কী কী সে সম্পর্কে জানা আছে?

মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা একেবারেই ডিপ্লোম্যাটিক হন না। বরং অতিরিক্ত মাত্রায় সোজাসাপটা হওয়ার কারণে এদের প্রতিপক্ষের সংখ্যা যেমন মাত্রাছাড়া হয়, তেমনি বন্ধু সংখ্যাও হয় বেজায় হাতে গোনা।

বিখ্যাত ইতালিয়ান ডিপ্লোম্যাট নিকোলো মেকিয়াভেলি তার প্রিন্স বইয়ে এমনটা দাবী করেছিলেন যে কাউকে যদি যুদ্ধে হারাতে হয়, তাহলে তার শক্তি সম্পর্কে জ্ঞান থাকাটা জরুরি। কিন্তু প্রথমে জেনে নিতে হবে সেই ব্যক্তির দুর্বল দিকগুলি সম্পর্কে। কারণ দুর্বল দিকে প্রথমে আক্রমণ করলে, খুব সহজেই যুদ্ধে জয় মেলে। তাই তো বলি বন্ধু নিজেকে যদি অপ্রতিরোধ্য বানাতে হয়, তাহলে নিজের চরিত্রের খারাপ বা বলতে পারেন দুর্বল দিকগুলি সম্পর্কে জেনে ফেলাটা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজটি করবেন কীভাবে?

এক্ষেত্রে এই প্রবন্ধটি আপনাকে সাহায্য করতে পারে। কারণ রাশি অনুযায়ী কোন মানুষের চরিত্রের দুর্বল দিকগুলি কী কী, সে সম্পর্কে এই লেখায় বিস্তারিত আলোচনা করা হল। তাই তো বলি বন্ধু নিজেকে ভিতর থেকে চিনে ফেলতে যদি চান, তাহলে পাঁচ মিনিট খরচ করে এই লেখায় একবার চোখ রাখতে ভুলবেন না যেন!

১. মেষরাশি:

১. মেষরাশি:

এই রাশির জাতক-জাতিকারা একেবারেই ডিপ্লোম্যাটিক হন না। বরং অতিরিক্ত মাত্রায় সোজাসাপটা হওয়ার কারণে এদের প্রতিপক্ষের সংখ্যা যেমন মাত্রাছাড়া হয়, তেমনি বন্ধু সংখ্যাও হয় বেজায় হাতে গোনা। এখানেই শেষ নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে মেষরাশির অধিকারীরা সহজেই মাথা গরম করে ফেলেন। ফলে হিট অব দা মোমেন্টে এমন কিছু কাজ করে ফেলেন যে পরবর্তী সময় তা নিয়ে রিগ্রেট করতে হয়। তাই তো বলি বন্ধু আজকের দুনিয়ায় সুখে-শান্তিতে যদি বাঁচতে হয়, তাহলে নিজের এই দুর্বলতাগুলিকে কীভাবে দূর করা যেতে পারে, সে বিষয়ে ভাবুন। না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

২. বৃষরাশি:

২. বৃষরাশি:

এরা বেজায় একরোখা হন। নিজেরা যেটা ঠিক করেন তাই করেন। তাতে কোনও ক্ষতি হলেও অন্যের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নিতে এরা প্রস্তুত থাকেন না। তাই তো জীবন পথে চলতে চলতে বারে বারে এদের নানাবিধ বাঁধার সম্মুখিন হতে হয়। তবে এখানেই শেষ নয়। এদের চরিত্রের আরেকটি খারাপ দিক রয়েছে, তা হল এরা কোনও মতেই চটজলদি কাজ করতে চান না। নিজের মতো করে সময় নিয়ে কাজ করতে এরা বেজায় ভালবাসেন। তাই তো চাকরি হোক কী ব্যবসা, যে কোনও কিছুতেই বৃষরাশিদের সফলতার স্বাদ অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়।

৩. মিথুনরাশি:

৩. মিথুনরাশি:

এই রাশির জাতক-জাতিকাদের পছন্দ-অপছন্দ খুব অল্প সময়ে বদলে যায়। তাই আজ যা পছন্দ করেছেন, কাল একই জিনিস মিথুনরাশির জাতকেরা পছন্দ করবেন, এমন কথা জোর দিয়ে বলা সম্ভাব নয়। তাই তো এদের পরিবারিক এবং সামাজিক জীবন একেবারেই স্থিতিশীল হয় না। প্রসঙ্গত, চঞ্চল মানসিকতার হওয়ার কারণে কর্মক্ষেত্রে মন লাগিয়ে কাজ করতেও এরা সক্ষম হন না। ফলে যা হওয়ার তাই হয়! তাই তো বলি বন্ধু জীবনে যদি চটজলদির সফলতার স্বাদ পেতে চান, তাহলে নিজের স্বভাব বদলান। না হলে কিন্তু...!

৪. কর্কটরাশি:

৪. কর্কটরাশি:

এর আনন্দে থাকতে ভালবাসে ঠিকই। কিন্তু দুখি মানসিকতাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে এরা একেবারেই সক্ষম হন না। তাই তো বারে বারে ডিপ্রেশনের শিকার হতে হয় এদের। সহজ কথায় এদের জীবনে যতই আনন্দের মুহূর্ত আসুক না কেন, কোনও না কোনও অজুহাতে এরা দুঃখের হাত ঠিক ধরেই ফেলেন। তাই তো বিশেষজ্ঞদের মতে এই রাশির জাকত-জাতিকারা যদি নিজেদের এমন নেগেটিভ মানসিকতাকে একবার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে জীবন অনন্দে ভরে উঠতে সময় লাগে না।

৫. সিংহরাশি:

৫. সিংহরাশি:

টাকা সঞ্চয় কীভাবে করতে হয়, তা এদের জানা নেই। তাই তো হাতে টাকা আসা মাত্র কীভাবে তা খরচ করে ফেলা যায়, তা নিয়েই সারাক্ষণ ভাবতে থাকেন এরা, যা একেবারেই ভাল অভ্যাস নয়। কারণ টাকাই হল সেই শক্তি, যা বিপদের সময় সুরক্ষা প্রদান করতে পারে। প্রসঙ্গত, সিংহরাশির অধিকারীদের আরেকটি চারিত্রিক দোষ রয়েছে, তা হল এরা কোনও সময়ই জীবনসঙ্গীকে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন না। কারণ সিংহ, প্রতিযোগিতা একেবারেই মেনে নিতে পারেন না। তাই বন্ধু, সিংহরাশির জাতক-জাতিকাদের যদি জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে চান, তাহলে এই বিষয়গুলি মাথায় রাখতে ভুলবেন না যেন!

৬. কন্যারাশি:

৬. কন্যারাশি:

এরা যেমন কম কথা বলেন, তেমনি নতুন নতুন মানুষদের সঙ্গে মেলামেশা করতে একেবারেই পছন্দ করেন না। তাই তো এদের বন্ধু সংখ্যা বেজায় কম হয়। প্রসঙ্গত, এই রাশির জাতক-জাতিকারা নিজেদের সম্পর্কে খারাপ কিছু শুনতে একেবারেই ভালবাসেন না। শুধু তাই নয়, নিজেদের খারাপ দিক সম্পর্কেও এরা ওয়াকিবহাল হন না। তাই তো লোকসমাজে কীভাবে নিজেকে ডিফেন্ড করা যেতে পারে, সে নিয়েই সম্পর্কে সারাক্ষণ ভাবতে থাকেন।

৭. তুলারাশি:

৭. তুলারাশি:

এরা খুব অলস হন। তাই তো কর্মক্ষেত্রে সফলতা লাভ করতে এদের বেজায় সময় লেগে যায়। তাই তো বলি বন্ধু, লক্ষ জন্ম পেরিয়ে পাওয়া এই মানব জীবনকে যদি সফলতার চাদরে মুড়িয়ে ফলতে চান, তাহলে একটু এগ্রেসিভ হন। না হলে কিন্তু চোখের সামনে জীবন শেষ হয়ে যাবে, আর সে সময় দুঃখ করা ছাড়া আর কিছু কিন্তু করার থাকবে না।

৮. বৃশ্চিকরাশি:

৮. বৃশ্চিকরাশি:

প্রতিপক্ষকে সমূলে উফড়ে ফেলতে এরা সদা প্রস্তুত থাকেন। শুধু তাই নয়, এদের যদি কেউ কোনও ক্ষতি করে থাকেন, তাহলে সে সম্পর্কে তারা আজীবন ভুলতে পারেন না। এই কারণেই তো বৃশ্চিকরাশির জাতক-জাতিকাদের কোনও ধরনের ক্ষতি করতে মানা করা হয়। প্রসঙ্গত, এদের চরিত্রের আরেকটি দিকও রয়েছে। তা হল, এরা মুখের উপর সত্যি কথা বলে দেন। এমনটা করার কারণে কেউ দুঃখ পেল কিনা, সে সম্পর্কে ভাবতে কিন্তু একেবারেই প্রস্তুত থাকেন না।

৯. ধনুরাশি:

৯. ধনুরাশি:

এরা চোখ বন্ধু করে যে কাউকে বিশ্বাস করে ফেলেন। ফলে প্রতিদিন ঠকতে হয় এদের। তাই একটু সাবধান হতে হবে। কারণ আজকের দুনিয়া কিন্তু একেবারেই ঠিক নয়। শুধু তাই নয়, এরা ভাল মনের মানুষ হলেও খুব সহজে মাথা গরম করে ফেলেন। তাই তো অনেকেই এদের ভুল বুঝে ফেলেন। তবে এখানেই শেষ নয়, আরেকটি খারাপ দিক রয়েছে এদের চরিত্রের। তা হল, এরা টাকা সঞ্চয় করতে একেবারেই পারেন না। ফলে বিপদে এদের হাল, বেহাল হতে সময় লাগে না।

১০. মকররাশি:

১০. মকররাশি:

নিজের সম্পর্কে ভাল কথা শুনতে এরা বেজায় ভালবাসেন। তাই তো অনেকেই ভাল ভাল কথা বলে মকররাশির জাকর-জাতিকাদের থেকে কাজ হাসিল করে নেন। তাই তো বলি বন্ধু, আপনি যদি এই রাশির অধিকারী হয়ে থাকেন, তাহলে এই বিষয়টি নজরে রাখা একান্ত প্রয়োজন।

১১. কুম্ভরাশি:

১১. কুম্ভরাশি:

এরা কোনও কিছুতেই সিরিয়াস নন। শুধু তাই নয়, বেজায় চঞ্চল মানসিকতার হওয়ার কারণে কোনও কিছুতেই এদের বেশি দিন মন টেকে না, তা চাকরি হোক কি বন্ধুত্ব। তাই এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনসঙ্গী বানানোর ক্ষেত্রে একটু ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

১২. মীনরাশি:

১২. মীনরাশি:

নিজের কমফোর্ট জোনে থাকতে এরা খুব ভালবাসেন। কারণ কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে কীভাবে সামলে রাখতে হয়, সে বিষয়ে এরা একেবারেই জানেন না। তাই তো নিজের স্বপ্নের দুনিয়ার বাইরে বেরাতে এরা একেবারেই প্রস্থুত থাকেন না। তবে নিজের এই দুর্বল দিকটিকে যদি শক্তিশালী করে তুলতে পারেন, তাহলে জীবন সুন্দর হয়ে উঠতে দেখবেন সময় লাগবে না।

Story first published: Monday, July 23, 2018, 12:56 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion