পরিবারের মৃত সদস্যদের ছবি বাড়ির কোথায় রাখা উচিত নয় জানা আছে?

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বাড়িতে মৃত মানুষদের ছবি রাখলে কতটা সুফল মেলে সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় ঠিকই।

অনেকে বিশ্বাস করেন, যে প্রিয়জনেরা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের ছবি বাড়ির ইতি-উতি রাখলে কোনও খারাপ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যায় কমে। কারণ সেই সব প্রিয় মানুষেরা নাকি সারাক্ষণ তাদের নেকদৃষ্টি আমাদের উপর রেখে থাকেন। ফলে তাঁদের আশীর্বাদ মেলে জীবনের প্রতিটি ধাপে। সেই সঙ্গে দুঃখ-কষ্টের ফাঁদে পরার সম্ভাবনাও যায় কমে। কিন্তু প্রশ্ন হল আদৌ কি এমনটা ঘটে তাকে নাকি?

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বাড়িতে মৃত মানুষদের ছবি রাখলে কতটা সুফল মেলে সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় ঠিকই, তবে একটা কথা বলা যেতেই পারে যে বাড়ির বিশেষ কিছু জায়গায় যদি এই ধরনের ছবি রাখেন, তাহলে উপকার তো ছাড়ুন, উল্টে একের পর এক খারাপ ঘটনা ঘটতে শুরু করে। শুধু কী তাই! মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় বেড়ে। সেই সঙ্গে লেজুড় হয় অসফলতাও। তাই তো বলি বন্ধু, আপনিও যদি আপনার বাড়িতে প্রিয় মানুষ, যারা ইতিমধ্যেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন, তাদের ছবি রেখে থাকেন, তাহলে এই প্রবন্ধটি একবার পড়তেই হবে। কারণ এমনটা যদি না করেন, তাহলে খারাপ সময়ের ছোবল থেকে যে বাঁচতে পারবেন না, সে কথা হলফ করে বলতে পারি।

এখন তাহলে প্রশ্ন হল বাড়ির কোন কোন জায়গায় মৃত মানুষদের ছবি রাখা যাবে এবং কোথায় যাবে না?

১. ঠাকুর ঘর:

১. ঠাকুর ঘর:

অনেকেই ঠাকুর ঘরে মৃত মানুষদের ছবি রেখে থাকেন। কোনও কোনও বাড়িতে তো দেব-দেবীদের ছবির সঙ্গেই এক আসনে জায়গা পান প্রিয়জনেরা। কিন্তু একথা জানিয়ে রাখি আপনাদের যে এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে ঠাকুর ঘরে মৃত মানুষদের ছবি রাখলে সারা বাড়িতে অশুভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই একের পর এক খারাপ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যায় বেড়ে। তাই আপনিও যদি এই ভুল কাজটি করে থাকেন, তাহলে আজই ঠাকুর ঘর থেকে সেই সব ছবি সরিয়ে ফেলুন। না হলে কিন্তু!

২. বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোন:

২. বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোন:

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোনে পূর্ব পুরুষদের ছবি রাখা যেতেই পারে। কারণ বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে বাড়ির এই অংশে এমন ছবি রাখলে কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। বরং বাস্তবিকই অন্য দুনিয়ায় চলে যাওয়া মানুষদের আশীর্বাদ লাভ করার সম্ভব হয়। তবে এক্ষেত্রে অরেকটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে। তা হল বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকে যেন ঠাকুর ঘর না থাকে। কারণ যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে ঠাকুর ঘর অথবা তার অশেপাশে এমন ছবি রাখা মোটেও উচিত নয়।

৩. উত্তর কোন:

৩. উত্তর কোন:

উত্তর-পূর্ব দিকের পাশাপাশি বাড়ির আর যেখালে পূর্ব পুরুষদের ছবি রাখা যেতে পারে, তা হল উত্তর দিক। প্রসঙ্গত, অনেকেই বাড়ির উত্তর দিকে পুজোর ঘর তৈরি করে থাকেন। কারণ বাস্তুশাস্ত্র মতে উত্তর দিক হল ঠাকুর ঘর তৈরির জন্য আদর্শ জায়গা। তাই আপনি যদি বাড়ির এই অংশে ঠাকুর ঘর তৈরি করে না থাকেন, তাহলে এই অংশটি মৃত মানুষদের ছবি রাখার জন্য ব্যবহার করতেই পারেন।

৪. দক্ষিণ-পশ্চিম কোন:

৪. দক্ষিণ-পশ্চিম কোন:

ভুল করেও বাড়ির এই অংশে পূর্বপুরুষদের ছবি ঝোলাবেন না যেন! কারণ বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এমন ছবি রাখলে পরিবারের অন্দরে অশান্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যায় বেড়ে। সেই সঙ্গে বৈবাহিক জীবনেও নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি ডিভোর্স হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই তো এই অংশে মৃত মানুষদের ছবি রাখতে মানা করেন বিশেষজ্ঞরা।

৫. বাড়ির একেবারে মাঝামাঝি:

৫. বাড়ির একেবারে মাঝামাঝি:

আপনি কি চান কোনও দুর্ঘাটনা ঘটুক আপনার বাড়িতে? উত্তর যদি না হয়, তাহলে বাড়ির মাঝামাঝি ভুলেও মৃত মানুষদের ছবি রাখবেন না যেন! আসলে এমনটা করলে গৃহস্থের অন্দরে নেগেটিভ এনার্জির মাত্রা বাড়তে শুরু করে। যার প্রভাবে একের পর এক খারাপ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যায় বেড়ে। সেই সঙ্গে পরিবারে হঠাৎ করে করে কারও মৃত্যু ঘটারও আশঙ্কা থাকে। তাই সাবধান বন্ধু সাবধান!

৬. শোওয়ার ঘরে নৈব নৈব চ:

৬. শোওয়ার ঘরে নৈব নৈব চ:

সুখ-শান্তিতে যদি বাঁচতে চান, তাহলে ভুল করেও শোওয়ার ঘরে পূর্ব পুরুষদের ছবি রাখবেন না যেন! কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে বেড রুমে এমন ছবি রাখলে অশুভ শক্তির প্রবেশ ঘটার আশঙ্কা যায় বেড়ে। ফলে একদিকে যেমন ইনসমনিয়ার মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে, তেমনি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেকার সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে। শুধু তাই নয়, দিনের পর দিন খারাপ স্বপ্ন আসার আশঙ্কাও যায় বেড়ে। তাই তো বলু বন্ধু, রাতের ঘুম উড়ে যাক, এমনটা যদি না চান, তাহলে...!

X
Desktop Bottom Promotion