সুখে, শান্তিতে এবং নিরাপদে যদি থাকতে চান তাহলে ভুলেও বাড়ির এই কোণাগুলিতে এই জিনিসগুলি রাখবেন না!

বাড়ির কোন কোণায় কী জিনিস রাখা চলবে না, সে সম্পর্কে জেনে নেওয়াটা একান্ত প্রয়োজন, আর এ কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে এই প্রবন্ধটি।

বাস্তু শাস্ত্র অনুসারে বাড়ির প্রতিটি কোণাতেই নাকি কোনও না কোনও ভগবান বাস করেন। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু কোণায় পজেটিভ শক্তির মাত্রা বেশি তো কোথায় কোথায় নেগেটিভ এনার্জি এত মাত্রায় দাপাদাপি করে যে সেই সব কোণে ঠাকুর ঘর বানালে বা টাকা পয়সা রাখলে নানাবিধ ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই তো বাড়ির কোন কোণায় কী জিনিস রাখা চলবে না, সে সম্পর্কে জেনে নেওয়াটা একান্ত প্রয়োজন, আর এ কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে এই প্রবন্ধটি। তাই তো বলি বন্ধু বাকি জীবনটা যদি সুখে,শান্তিতে এবং নিরাপদে কাটাতে হয়, তাহলে এই প্রবন্ধে চোখ রাখতে ভুলবেন না যেন!

তাহলে এখন প্রশ্ন হল বাড়ির কোন কোণায় নানাবিধ জিনিস রাখা শুভ এবং কোথায়া কিছুই রাখা চলবে না?

১.

১. "দা মানি কর্নার":

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকটি হল বেজায় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই কোণাতেই সবথেকে বেশি মাত্রায় পজেটিভ শক্তির খোঁজ পাওয়া যায়। তাই তো এই কোণে টাকার আলমারি রাখলে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যাও মিটে যায় চোখের পলকে। তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন, তা হল ভুলেও কখনও বাড়ির এই নির্দিষ্ট অংশটি অন্ধকার করে রাখবেন না। কারণ এমনটা করলে গৃহস্থের অন্দরে খারাপ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে নানাবিধ বিপদ ঘটার সম্ভাবনা যায় বেড়ে।

২. বাড়ির দক্ষিণ দিক:

২. বাড়ির দক্ষিণ দিক:

বাড়ির এই নির্দিষ্ট কোণে যমরাজ অধিষ্ঠান করেন। তাই তো এই অংশে যেমন দরজা বানানো উচিত নয়, তেমনি টাকা পয়সা রাখাও চলবে না। কারণ এমনটা করলে নানাবিধ অর্থনৈতিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি পরিবারের অন্দরে কলহ এবং অশান্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সম্ভাবনাও থাকে। শুধু তাই নয়, প্রিয় কোনও মানুষের মৃত্যু পর্যন্তও ঘটে যেতে পারে। তাই তো বলি বন্ধু, সপরিবারে যদি নিরাপদে থাকতে হয়, তাহলে এই বাস্তু নিয়মটি মাথায় রাখতে ভুলবেন না যেন!

৩.দক্ষিণ-পূর্ব দিক:

৩.দক্ষিণ-পূর্ব দিক:

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বাড়ির এই অংশে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের ঘর বানানো চলবে না। কারণ এমনটা করলে সারা বাড়িতে নেগেটিভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। আর এমনটা হলে কী কী ক্ষতি হতে পারে, সে সম্পর্কে নিশ্চয় আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না। প্রসঙ্গত, বাড়ির এই নির্দিষ্ট অংশটি একেবারেই শুভ নয়। তাই যদি সম্ভব হয়, তাহলে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কোনও ঘর না বানানোই ভাল।

৪. উত্তর-পূর্ব কোণ:

৪. উত্তর-পূর্ব কোণ:

নানাবিধ অর্থনৈতিক সমস্যায় জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠুক, এমনটা যদি না চান তাহলে ভুলেও বাড়ির এই নির্দিষ্ট কোণে রান্না ঘর তৈরি করবেন না যেন! আসলে এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই অংশে রান্না ঘর তৈরি করলে নানা কারণে খরচের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে সঞ্চয় একেবারে তলানিতে এসে ঠেকে।

প্রসঙ্গত, এই নিয়মগুলি মেনে চলার পাশাপাশি নিজেকে এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের সুরক্ষিত রাখতে ঘর-বাড়ি সাজানোর সময় আরও যে যে নিয়মগুলি মেনে চলা জরুরি, সেগুলি হল...

১. মূর্তি এবং ছবি:

১. মূর্তি এবং ছবি:

বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে ঝর্না, ফুল এবং সূর্যদয়ের মতো ছবি বাড়িতে রাখা বেজায় শুভ। কিন্তু ভুলেও যুদ্ধ সম্পর্কিত কোনও ছবি বা মূর্তি রাখা চলবে না। বিশেষত মহাভারত এবং রামায়ণে উল্লেখিত যুদ্ধের ঘটনা সম্পর্কিত কোনও ছবি রাখা চলবে না। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই ধরনের ছবি বাড়িতে নেগেটিভ শক্তির প্রকোপ বাড়িয়ে তোলে। ফলে নানাবিধ সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যায় বেড়ে।

২. জুতো কোথায় রাখবেন:

২. জুতো কোথায় রাখবেন:

অনেকেই বাড়ির এদিকে সেদিক জুতো রেখে থাকেন। কেউ কেউ তো বাড়ির সদর দরজার ভিতরে এবং বাইরেও জুতে রাখার ভুল কাজটি করে থাকেন। সুখি গৃহস্থের স্বপ্ন যদি দেখে থাকেন, তাহলে বাড়ির এইসব জায়গায় ভুল করেও জুতো রাখবেন না। পরিবর্তে বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রাখতে হবে জুতোর আলমারি। এমনটা করলে খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কা কমবে।

৩. এসি এবং ফ্রিজ:

৩. এসি এবং ফ্রিজ:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এইসব উপকরণগুলি যদি বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে রাখা যায়, তাহলে নেগেটিভ শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা কমে।

৪. বিছানা রাখতে হবে:

৪. বিছানা রাখতে হবে:

বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে শোয়ার ঘরে বিছানা রাখতে হবে দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে। কারণ এই নিয়মটি মানলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের যেমন উন্নতি ঘটবে। তেমনি গৃহস্থের অন্দরে নেগেটিভ শক্তির প্রকোপ কমতে থাকবে। ফলে খারাপ কোনও ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা যাবে কমে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। তা হল বাড়ির অন্দরে সুখ-শান্তি বজায় রাখতে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথকে প্রশস্ত করতে ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কোনও আসবাব রাখবেন না যেন!

৫. ঠাকুরের মূর্তি:

৫. ঠাকুরের মূর্তি:

খেয়াল করে দেখবেন অনেকেই লিভিং রুম এবং শোয়ার ঘরে নানা ডিজাইনের ঠাকুরের মূর্তি রেখে থাকেন। অনেকে তো ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে নানা ধরনের বুদ্ধ মূর্তিও রেখে থাকেন। এমনটা করা উচিত নয়, কারণ ঠাকুরের মূর্তি রাখতে হবে ঠাকুর ঘরে। এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা হল শোয়ার ঘরে ভুলেও ঠাকুরের মূর্তি রাখা চলবে না। কারণ এমনটা করলে নানাবিধ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যাবে বেড়ে।

৬. আলমারি:

৬. আলমারি:

এমনটা বিশ্বাস করা হয়, যে আলমারিতে টাকা-পয়সা বা মূল্যবান জিনিস রাখা হয়, সেটি যদি বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রাখা যায়, তাহলে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ফলে পকেট ভর্তি টাকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না।

৭. সোফা এবং চেয়ার:

৭. সোফা এবং চেয়ার:

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বাস্তু নিয়ম মেনে যদি গৃহস্থকে সাজিয়ে তোলেন, তাহলে খারাপ কোনও ঘটনা ঘটার আশঙ্কা হ্রাস পায়। তাই তো সবাইকেই এই নিয়মগুলি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন ধরুন বাস্তু দোষ কাটাতে লিভিং রুমে রাখা চেয়ার এবং সোফা সেট দক্ষিণমুখে অথবা পশ্চিম দিকে রাখতে হবে। তাহলেই দেখবেন সুখ-শান্তির ছোঁয়া লাগবে বাড়িতে।

৮. গ্যাস স্টোভ, মাইক্রোওয়েভ এবং ওভেন:

৮. গ্যাস স্টোভ, মাইক্রোওয়েভ এবং ওভেন:

এই সব উপকরণগুলি রাখতে হবে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মুখ করে। কেন এমনটা করতে হবে? আসলে বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে আমাদের বাড়ির অন্দরে থাকা প্রতিটি জিনিস কোন জয়গায়, কীভাবে রাখা হয়েছে তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে থাকে। যেমন ধরুন ঠিক ঠিক জায়গায় যদি ঠিক ঠিক জিনিস রাখা না যায়, তাহলে গৃহস্থের অন্দরে নেগেটিভ শক্তির প্রভাব বাড়তে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খারাপ কোনও ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যায় বেড়ে।

৯. কোথায় রাখতে হবে ডাইনিং টেবিল:

৯. কোথায় রাখতে হবে ডাইনিং টেবিল:

কেউ কেউ রান্না ঘরে, তো কেউ লিভিং রুমের এক কোণে ডাইনিং টেবিল রেখে থাকেন। এমনটা করা কি উচিত? বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে যদি খাওয়ার টেবিল রাখতে পারেন, তাহলে নানাবিধ উপকার পাওয়া যায়।

Story first published: Wednesday, August 29, 2018, 16:02 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion