রাশি অনুযায়ী দূর্গা ঠাকুরের কোন অবতারের পুজো করা উচিত?

বাঙালি কেলেন্ডারের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবাই মেতেছে দেবীর অরাধনায়। আর জয় মা, জয় মা ধ্বনি আর মনের অন্দরে হরেক ইচ্ছার ঝাঁপি সাজিয়ে ভিড় বাড়ছে মন্দিরে মন্দিরে। কিন্তু আপনার মনের মণিকোঠায় যত্নে সাজানো একটা স্বপ্নও কি পূরণ হচ্ছে মায়ের আশীর্বাদে?

এমন প্রশ্ন করলে আঁতেলরা বলবেন মায়ের পুজোয় অংশ নেওয়াটাই বড় কথা, মনের সব ইচ্ছা দিনের আলো দেখছে কিনা, সেটা তো সেকেন্ডারি। তবে আম আদমির ভার্সানটা কিন্তু একেবারে অন্য! তাঁদের সারাক্ষণ মনে হয়, মা কেন তাদের আশীর্বাদ করছেন না। কেন তাঁদের জীবনে হারিয়ে যাওয়া আনন্দ ফিরে আসছে না! এমন হাজারো প্রশ্ন জাগে তাঁদের মনে প্রতিটা দশমির পরের দিনে। কিন্তু কেন মায়ের আশীর্বাদ মিলছে না সেই উত্তর জানার চেষ্টাটা কেউই যদিও করেন না। তবে আমি করেছি...!

Astrology: This Navratri, know which form of Durga you should pray to, according to your zodiac sign

এমন প্রশ্ন আমার মনেও জাগে, তাই তো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একদিন বেরিয়ে পরেছিলাম। আর এটা-সেটা বই ঘাঁটতে ঘাঁটতে যা জানতে পারলাম, তা বেজায় চমকপ্রদ! আসলে কী জানেন, শাস্ত্র মতে দেবীর অরাধনা করার আগে জেনে নিতে হবে রাশি অনুযায়ী মায়ের কোন রূপের পুজো করা উচিত আপনার। আর সেই মতো যদি দেবীর আরাধনা করতে পারেন, তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে! তাই তো বলি বন্ধু, পুজোর কটা দিন মা দুর্গার মন জয় করে যদি নিজের সব স্বপ্ন পূরণ করতে হয়, তাহলে এই লেখাটি একবার পড়ে ফলতে দেরি করবেন না যেন!

তাহলে এখন প্রশ্ন হল কোন রাশির জাতক-জাতিকাদের মা দুর্গার কোন রূপের আরাধনা করা উচিত?

১. মেষরাশি:

১. মেষরাশি:

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে এই রাশির জাতক-জাতিকাদের "স্কন্দ মাতা"র পুজো করা উচিত। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে মায়ের এই অবতারের পুজো করলে যে কোনও ধরনের বাঁধার পাহাড় সরে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে আরও নানাবিধ উপকার পাওয়া যায়। তাই তো বলি বন্ধু বাকি জীবনটা যদি আনন্দে কাটাতে চান, তাহলে মায়ের এই বিশেষ অবতারের আরাধনা করতে ভুলবেন না যেন!

২. বৃষরাশি:

২. বৃষরাশি:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে বৃষরাশির অধিকারীরা যদি "মহাগৌরী" এর পুজো করেন, তাহলে জীবনের ছবিটা বদলে যেতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, মনের মতো জীবনসঙ্গী পাওয়ার ইচ্ছাও পূরণ হয়। প্রসঙ্গত, এমনটাও বিশ্বাস করা হয় যে মায়ের আরাধনা করার পাশাপাশি যদি "ললিতা শাস্ত্র" পাঠ করা যায়, তাহলে আরও বেশি মাত্রায় উপকার পাওয়া যায়।

৩. মিথুনরাশি:

৩. মিথুনরাশি:

বিশেষজ্ঞদের মতে এই রাশির জাকত-জাতিকাদের মায়ের যে অবতারের আরাধনা করা উচিত, তা হল "ব্রহ্মচারিণী"। এমনটা মানা হয়ে থাকে যে দুর্গা পুজোর সময় দেবীর এই রূপের আরাধনা করার পাশাপাশি যদি মনে মনে মায়ের নাম কম করে ১০৮ বার উচ্ছারণ করা যায়, তাহলে মনের ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগে না।

৪. কর্কটরাশি:

৪. কর্কটরাশি:

ছোট ছোট বিষয়ে কি ভয় পেয়ে যান? সেই সঙ্গে সারাক্ষণ কোনও না কোনও চিন্তায় মন-মেজাজ বেজায় খিটখিটে হয়ে থাকে? তাহলে বন্ধু, মা দূর্গার শৈলপুত্রি অবতারের পুজো শুরু করুন। দেখবেন মনের জোর এতটা বেড়ে যাবে যে কোনও ধরনের ভয়েই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না। সেই সঙ্গে সুখে-শান্তিতে ভরে উঠবে জীবন।

৫. সিংহরাশি:

৫. সিংহরাশি:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় পুজোর চারদিন মা দূর্গার মন্ত্র জপ করার মধ্যে দিয়ে যদি আপনারা "কুশমন্দ" রূপের আরাধনা করতে পারেন, তাহলে দেখবেন খারাপ শক্তি ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। ফলে কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কা যাবে কমে। সেই সঙ্গে কালো যাদুর প্রভাবে কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও আর থাকবে না।

 ৬. কন্যারাশি:

৬. কন্যারাশি:

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে এই রাশির জাতক-জাতিকাদের লক্ষ্মী মন্ত্র জপ করতে করতে মা দুর্গার "ব্রহ্মচারী" রূপের আরাধনা করতে হবে। এমনটা করতে পারলে কর্মক্ষেত্রে উন্নতি লাভের সম্ভাবনা বাড়তে শুরু করবে। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নতি লাভের পথও প্রশস্ত হবে। তাই তো বলি বন্ধু অল্প সময়ে যদি অনেক অনেক টাকার মালিক হয়ে উঠতে চান, তাহলে মায়ের এই বিশেষ রূপের আরাধনা করতে ভুলবেন না যেন!

৭. তুলারাশি:

৭. তুলারাশি:

একের পর এক বাঁধা আসতে থাকার কারণে কি জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে? সেই সঙ্গে লেজুড় হয়েছে পরিবারিক অশান্তিও? তাহলে বন্ধু এক মনে "কালি চাল্লিসা" পাঠ করার মধ্যে দিয়ে দেবীর "মহাগৌরী" রূপের পুজো করুন। এমনটা নিয়মিত করতে থাকলে দেখবেন সব ধরনের সমস্যা নিমেষে কমে যাবে।

৮.বৃশ্চিকরাশি:

৮.বৃশ্চিকরাশি:

এই রাশির জাতক-জাতিকাদের স্কন্দ মাতার অরাধনা সকরতে হবে। কারণ এমনটা করলে জীবনের প্রতিদিন দিন অনন্দে তো ভরে উঠবেই, সেই সঙ্গে গৃহস্থের অন্দরে খারাপ শক্তির প্রভাব কমতে থাকার কারণে একদিকে যেমন রোগ-ব্যাধি দূরে পালাবে, তেমনি পরিবারের অন্দরে কোনও ধরনের কলহ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে।

৯. ধনুরাশি:

৯. ধনুরাশি:

শাস্ত্র মতে এই রাশির জাতক-জাতিকারা যদি ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে মা চন্দ্রঘন্টার আরাধনা করতে পারেন, তাহলে যে কোনও ধরনের বাঁধা পেরিয়ে যেতে সময় লাগে না।

১০. মকররাশি:

১০. মকররাশি:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই রাশির জাতক-জাতিকারা যদি নভর্না মন্ত্র পাঠ করার মধ্যে দিয়ে "দেবী কালরাত্রি" এর আরাধনা করেন, তাহলে প্রতিপক্ষদের ক্ষতি করার ক্ষমতা যেমন কমে যায়, তেমনি ছোট-বড় নানাবিধ রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে। ফলে আয়ু বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো।

১১. কুম্ভরাশি:

১১. কুম্ভরাশি:

মকররাশির জাতক-জাতিকাদের মতো কুম্ভরাশির অধিকারীদেরও দেবী কালরাত্রির আরাধনা করতে হবে। কারণ এমনটা করলে কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কা যাবে কমে।

১২. মীনরাশি:

১২. মীনরাশি:

পুজোর কটা দিন সকাল সকাল স্নান সেরে মা চন্দ্রঘন্টার মূর্তি বা ছবির সামনে ফুল নিবেদন করে যদি দেবীর অরাধনা করতে পারেন, তাহলে দেখবেন সব ধরনের ভয় দূর হবে। সেই সঙ্গে জীবন পথে চলতে চলতে সামনে আসা যে কোনও বাঁধার পাহাড় সরে যেতেও সময় লাগবে না।

Story first published: Tuesday, October 16, 2018, 11:00 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion