রাশি অনুসারে কে কোন জিনিসটা হারাতে ভয় পায় জানা আছে?

নিজের এবং অন্যদের মনে কেমন ধরনের ভয় বারে বারে সাপের মতো ফনা তুলছে, সে সম্পর্কে জেনে নিয়ে যদি নিজের জীবনকে নিরাপদ বানাতে হয়, তাহলে এই লেখায় চোখ রাখতে ভুলবেন না যেন!

যতক্ষণ শ্বাস চলছে, ততক্ষণ জীবন নামক যুদ্ধটারও তো কোনও অন্ত নেই। আর স্যাক্রিফাইস ছাড়া কোনও যুদ্ধই যে জয় করা সম্ভব নয়, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই তো আমাদের সবারই মনে সারাক্ষণ কিছু না কিছু হারিয়ে ফেলার ভয় গেড়ে বসে থাকে। কারও ক্ষেত্রে সেই ভয় প্রিয়জনদের হারিয়ে ফেলা, তো কেউ কেউ কর্মক্ষেত্রে হেরে যাওয়ার ভয়ে এগ্রেসিভ হয়ে ওঠেন। কিন্তু আপনি বা আপনার বন্ধুরা কিসে ভয় পায় জানা আছে?

আচ্ছা এ কেমন প্রশ্ন! কে, কিসে ভয় পায়, তা অন্যরা জানবেন কীভাবে বলুন! কে বললো জানতে পারবে না, আলবাৎ জানা সম্ভব! আর একবার কারও ভয়ের জায়গা সম্পর্কে জেনে ফেললে বিপদে-আপদে সেই মানুষটিকে নিজের আঙুলে নাচানো যে বেজায় সহজ হয়ে দাঁড়ায়, তা তো বলাই বাহুল্য!

আসলে বন্ধু, মানুষ হিসেবে আমাদের ভয়ের থেকে আর কোনও বড় দুর্বলতা আছে বলে তো মনে হয় না। আর আজকের দিনে নিজের আশেপাশে থাকা মানুষদের দুর্বলতা সম্পর্কে যদি একবার জেনে ফেলা যায়, তাহলে কর্মক্ষেত্র হোক কী পারিবারিক জীবন, সবক্ষেত্রেই নিজ অবস্থানটা যে বেজায় শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে! তাই তো বলি বন্ধু, নিজের এবং অন্যদের মনে কেমন ধরনের ভয় বারে বারে সাপের মতো ফনা তুলছে, সে সম্পর্কে জেনে নিয়ে যদি নিজের জীবনকে নিরাপদ বানাতে হয়, তাহলে এই লেখায় চোখ রাখতে ভুলবেন না যেন!

তাহল এখন প্রশ্ন হল, কোন রাশি কি হারিয়ে ফেলায় ভয়ে সারাক্ষণ ভীত থাকেন?

১. মেষরাশি:

১. মেষরাশি:

এরা জাত যোদ্ধা হন। মানে কোনও কিছুতেই হেরে যাওয়া এদের একেবারে পছন্দ নয়। তাই পাছে হারের স্বাদ পেতে হয়, এই চিন্তায় সারাক্ষণ এরা ভয়ে ভয়ে থাকেন। তবে এখানেই শেষ নয়, আরেকটা জিনিস নিয়েও এরা বেজায় ভয় পান, তা হল কোনও প্রিয় বন্ধুকে হারানোর ভয়। তাই মেষরাশির জাতক-জাতিকাদের যদি মানসিকভাবে ভেঙে দিতে হয়, তাহলে এই দুটি দুর্বল জায়গায় বারে বারে আঘাত করতে ভুলবেন না যেন!

২. বৃষরাশি:

২. বৃষরাশি:

অনেক অনেক টাকার মালিক হয়ে ওঠার স্বপ্ন সারাক্ষণ এদের অনুপ্রাণীত করে থাকে। আসলে এই রাশির জাতক-জাতিকারা আরামে থাকতে বেজায় পছন্দ করেন, আর টাকা ছাড়া আরামকে কেনা যে সম্ভব নয়, সে কথা এরা ভালই জানেন। তাই তো সারাক্ষণ নিজের সঞ্চয়ের দিকে সজাগ দৃষ্টি থাকে এই রাশির জাতকদের। কি বন্ধু, এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে গেছেন এদের ভয়টা কিসে। তাই সহজেই যদি বৃষরাশির মন জয় করতে হয়, তাহলে কীভাবে অনেক অনেক টাকা কামানো সম্ভব, সেই রাস্তা দেখান এদের। দেখবেন নিমেষে আপনি এদের প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠেছেন!

৩. মিথুনরাশি:

৩. মিথুনরাশি:

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এরা সারাক্ষণ দোটানায় থাকেন। তাই তো কোনও ডিসিশন ঠিক নিলেন কিনা, এই চিন্তায় এদের রাতের ঘুম উড়ে যায়। তাই মিথুনরাশির জাতক-জাতিকারা কীসে ভয় পায়, তা যদি প্রশ্ন করেন, তাহলে বলতে হয় কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এরা এতটাই ভীত থাকেন যে সুযোগ পেলেই লেজ তুলে পালান।

৪. কর্কটরাশি:

৪. কর্কটরাশি:

এরা এমন কোনও ফাঁদে পরতে চান না যার থেকে সহজে বেরনো সম্ভব নয়। তাই তো সারাক্ষণ এই নিয়ে ভয়ে ভয়ে থাকেন। আসলে এরা নিজেদের "সেফ জোনে" রাখতে খুব ভালোবাসেন। আর যখনই সেই সেফ জোন আর সেফ থাকে না, তখনই দুশ্চিন্তায় এদের মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার জোগার হয়। প্রসঙ্গত, কোনও অচেনা জায়গাতে যেতেও কিন্তু এরা বেজায় ভয় পান। তাই তো বলি বন্ধু, আপনার কোনও প্রিয় জন যদি এই রাশির জাতক বা জাতিকা হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের নিরাপদ জায়গার বাইরে নিয়ে যাওয়ার ভুল কাজটি করবেন না যেন!

৫. সিংহরাশি:

৫. সিংহরাশি:

সারাক্ষণ লাইম লাইটে থাকতে এরা বেজায় পছন্দ করেন। তাই কোনওভাবেই যাতে এদের থেকে বাকি সমাজের দৃষ্টি সরে না যায়, তা সুনিশ্চিত করতে দামি দামি ড্রেস পরতেও এরা পিছপা হন না। তাই তো বলি বন্ধু, সিংহরাশির জাতক-জাতিকাদের যদি ভয় পাইয়ে কোনও কাজ হাসিল করতে হয়, তাহলে তাদের থেকে লাইম লাইট সরিয়ে নেওয়ার ভয় দেখান। দেখবেন বোতল থেকে ঘি বার করতে আর আঙুল বাঁকাতে হবে না।

৬. কন্যারাশি:

৬. কন্যারাশি:

এরা বেজায় ডিসিপ্লিন্ড! তাই তো কোনওভাবেই গৈনন্দিন জীবন যাতে নিয়মের বাইরে না যায়, সেদিকে এদের সদা নজর থাকে। কিন্তু সেই সঙ্গে ভয়ও থাকে যে কোনও কারণে যাতে এদের এই সুচিন্তিত জীবন বদলে না যায়। প্রসঙ্গত, ঘর-দোর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেও এরা বেজায় ভালোবাসেন। তাই কন্যারাশির জাতকদের যদি নিমেষে রাগিয়ে তুলতে হয়, তাহলে এদের পরিষ্কার ঘরকে নোংড়া করতে ভুলবেন না যেন!

৭. তুলারাশি:

৭. তুলারাশি:

এরা একা থাকতে খুব ভয় পান। কারণ একাকিত্ব এদের কাছে অনেকটা বিষের সমান। তাই তুলরাশির জাতক-জাতিকাদের যদি ভয় পাওয়াতে হয়, তাহলে প্রিয়জনেদের থেকে এদের দূরে করে দিন। তাহলেই দেখবেন এরা ধীরে ধীরে শেষ হয় গেছে।

৮. বৃশ্চিকরাশি:

৮. বৃশ্চিকরাশি:

"আমার প্রিয়জনেরা আমাকে ছেরে যাবে না তো", এই চিন্তায় এরা সারাক্ষণ মজে থাকেন। কারণ প্রিয় জনেদের হারাতে এরা কোনও মতেই চান না। তাই তো এই নিয়ে সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকেন।

৯. ধনুরাশি:

৯. ধনুরাশি:

এরা অনেকটা তেজিয়াল ঘোরার মতো। আর্থাৎ স্বাধীনতাই এদের কাছে সব কিছু। তাই তো কোনওভাবেই যাতে এই স্বাধীনতা হারিয়ে না যায়, সেদিকে এদের সদা নজর থাকে। শুধু তাই নয়, কোনও ধরনের কর্তব্যে জড়িয়ে পরতেও এরা পছন্দ করেন না। তাই তো সারা জীবন নিজ দায়িত্ব এবং কর্তব্যে থেকে দূরে পালাতেই দেখা যায় ধনুরাশির জাতক-জাতিকাদের। তাই তো বলি বন্ধু, এদের যদি ভয় পাওয়াতে হয়, তাহলে অনেক অনেক কাজের দায়িত্ব ঘারে চাপিয়ে দিন। তাহলেই দেখবেন এরা নিজে থেকেই শেষ হয়ে গেছে।

১০. মকররাশি:

১০. মকররাশি:

এরা কাজ করতে যেমন ভালোবাসেন, তেমনি সফলতা রোজের সঙ্গী হয়ে উঠুক, এমন স্বপ্নও সারাক্ষণ দেখেন। তাই তো চাকরি হারিয়ে ফেলার ভয় ছাড়া আর কিছুতেই এরা তেমন একটা ভয় পান না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে মকররাশির আরেকটি দুর্বল দিক রয়েছে, তা হল এরা বাবাকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন। তাই তো "বাবা কোনও বিপদে নেই তো", এই চিন্তা এদের সারাক্ষণ মাথায় ঘুরতে থাকে।

১১. কুম্ভরাশি:

১১. কুম্ভরাশি:

এরা কোনও সময়ই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত হন না। তাই কুম্ভরাশির জাতক-জাতিকাদের যদি ভয় পাওয়াতে হয়, তাহলে কিছু কঠিন কাজের দায়িত্ব এদের উপর চাপিয়ে দিন, তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

১২. মীনরাশি:

১২. মীনরাশি:

এরা নিজেদের স্বপ্নের জগত থেকে একেবারেই বেরতে চান না। তাই তো জীবন যখন এদের কঠিন সময়ের সামনে এনে দাঁড় করায়, তখন এরা এতটাই ভেঙে পরেন যে নানাবিধ নেশায় জড়িয় পরেন। তাই তো মীনরাশির জাতক-জাতিকাদের বাকি জীবনটা যদি অনন্দে কাটাতে হয়, তাহলে নিজেকে স্বপ্নের জগত থেকে বের করে এনে বাস্তবের সম্মুখিন হন। না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ বন্ধু!

X
Desktop Bottom Promotion