গসিপ না পাসান্দ! তাহলে জেনে নিন না কোন রাশি কী বিষয় নিয়ে পি এন পি সি করতে বেজায় পছন্দ করেন!

আজকে যেখানে নতুন প্রজন্মের সিংহভাগই পড়াশোনা জানা কেতাবি বিদ্বান, সেখানে দেখুন সবারই প্রায় গসিপের ফাঁদে পরে যান।

ওয়েস্টার্ন ফিলোজফির জনক হিসেবে খ্যাত সক্রেটিস একবার নিজের বাড়ির দালানে বসে কিছু একটা পড়ছিলেন। সে সময়ই এক ব্যক্তি এসে মহান গ্রীক দার্শনিককে বললেন, "সক্রেটিস তোমার এক বন্ধুর নামে আমার কিছু বলার আছে।" কথাটা শুনে বৃদ্ধ দার্শনিক বললেন, আচ্ছা বলো, তবে তার আগে "থ্রি ফিল্টার টেস্ট" দিতে হবে কিন্তু! কী এই থ্রি ফিল্টার টেস্ট? সক্রেটিস জানালেন তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পরলে তবেই আমি আমার বন্ধু প্রসঙ্গে যা বলতে চাও, তা শুনবো, নচেৎ তোমায় কাটতে হবে! তী প্রশ্ন? এক, যা তুমি বলতে চলেছ তাতে আমার বন্ধুর লাভ হবে? দুই, ভাল কিছু বলতে চলেছ কি? আর তিন, যা তুমি বলবে তাতে আমার বা আমার বন্ধুর কি কোনও লাভ হবে?

দুঃখের বিষয় সেই ব্যক্তি এই তিনটে প্রশ্নেরই উত্তর ছিল "না"। তাই তো সক্রেটিস সেই ব্যক্তির থেকে নিজ বন্ধু প্রসঙ্গে একটা কথাও শুনতে নারাজ ছিলেন। কিন্তু দেখুন আজকে যেখানে নতুন প্রজন্মের সিংহভাগই পড়াশোনা জানা কেতাবি বিদ্বান, সেখানে দেখুন সবারই প্রায় এই তিন প্রশ্নের উত্তর না জেনেই গসিপের ফাঁদে পরে যান। তাই তো যে কথাটা শুনছেন সেটা সত্য না মিথ্যা যাচাই না করেই কারও সম্পর্কে খারাপ ধারণা করে ফেলেন। ফলে মানুষে মানুষে সম্পর্ক তো খারাপ হয়ই, সেই সঙ্গে সমাজ অতলে চলে যাওয়ার ভয়টা যেন আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। তাই সাবধান বন্ধু সাবধান!

এখন প্রশ্ন হল, গসিপ তো আমরা কম-বেশি সবাই করি, তাহলে কারটা ক্ষতিকারক, আর কারটা নয়, তা জানার উপায় কি? উপায় তো আছে, তবে তার জন্য এই প্রবন্ধে একবার চোখ রাখতে হবে। কারণ রাশি অনুসারে কোন মানুষ কি জিনিস নিয়ে গসিপ করেন, তা জেনে ফেললে কার গসিপে কান পাতবেন, আর কারটায় নয়, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আপনার পক্ষে সহজ হয়ে দাঁড়াবে, কি তাই না?

তাহলে আর অপেক্ষা কিসের, তলুন চোখ রাখা যাক বাকি প্রবন্ধে...

১. মেষরাশি:

১. মেষরাশি:

কিহে আপনারা কি বিষয়ে "পি এম পি সি" করতে ভালবাসেন? বিশেষজ্ঞদের মতে এই রাশির জাতক-জাতিকাদের যা চারিত্রিক বৈশিষ্ট তাতে কোনও বন্ধু, কোনও কলিগটা কী কেলো করেছে, কে কার প্রেমিকাকে ছেড়েছে, কে খয়েছে অফিসে বাঁশ, এই নিয়েই এদের পরনিন্দা পরচর্চার বিষয় ঘোরাফেরা করে। সহজ কথায় চেনা মানুষদের চরিত্র এবং তাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে চুলছেড়া বিশ্লেষণ করাই আপনাদের পছন্দের অভ্যাস, তাই না!

২. বৃষরাশি:

২. বৃষরাশি:

নীল আকাশের নিচে যা কিছুই আছে, সেই সব কিছু নিয়েই সমালচনা করতে এরা পছন্দ করেন। বিশেষত এরা যেহেতু বেজায় একগুঁয়ে গোছের হন, তাই তো সব ক্ষেত্রেই এরা ঠিক, বাকিরা ভুল, এমন একটা মানসিকতাকে ভর করে এরা গসিপ করে থাকেন। তবে একথা বলা যেতে পারে, এদের সমালোচনার জন্য আর যাই হোক, কারও কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

৩. মিথুনরাশি:

৩. মিথুনরাশি:

এক নম্বর গোসিপ ক্যাম্পেইনের জন্য কাউকে যদি পুরস্কার দিতে হয়, তাহলে এক নম্বরে থাকবে মিথুনরাশির জাতক-জাতিকারা। তাই এবার সিদ্ধান্তটা আপনার যে এমন ধরনের মানুষদের সঙ্গে আপনি বন্ধুত্ব পাতাবেন নাকি এড়িয়ে যাবেন।

৪. কর্কটরাশি:

৪. কর্কটরাশি:

এরা সচরাচর কারও সমালোচনা করতে পছন্দ করেন না। তবে চুপ করে এক কোণায় বসে আশেপাশে থাকা প্রতিটি মানুষদের চারিত্রিক দোষ-গুণ সম্পর্কে সব তথ্য সংগ্রহ করেন। আর প্রয়োজন পরলে সেই নিয়ে সমালোচনা করতেও পিছপা হন না। তাই আপনি যদি চান কর্কটরাশি কেউ আপনার সমানোচনা না করুক, তাহলে তার লেজে পারা দেওয়ার ভুল কাজটি করবেন না যেন!

৫. সিংহরাশি:

৫. সিংহরাশি:

এক কথায় এরা হলেন গসিপ কিং বা কুইন। অর্থাৎ যে কোনও মানুষকে নিয়ে যে কোনও সময় এরা সমালোচনা শুরু করে দিতে পারেন। কারণ পরনিন্দা পরচর্চা করতে এরা এতটাই পছন্দ করেন যে, সে কারণে যদি কারও ক্ষতিও হয়ে যায়, তাতেও এদের কিছু এসে যায় না। তাই তো বলি বন্ধু , সিংহরাশির মানুষদের থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করুন। কারণ কে বলতে পারে হয়তো কখনও আপনাকে নিয়েই এরা কখনও খারাপ কোনও সমালোচনায় এরা জড়িয়ে পরতে পারে।

৬. কন্যারাশি:

৬. কন্যারাশি:

যারা এদের থেকে কম দক্ষতাপূর্ণ বা কম জ্ঞানী তাদের নিয়ে এরা সমালোচনা করতে বেজায় পছন্দ করেন। কারণ সবার উপরে থাকার এক খারাপ মানসিকতা রয়েছে এদের, যা পরনিন্দা করতে এদের অনুপ্রানিত করে থাকে।

৭. তুলারাশি:

৭. তুলারাশি:

মজার কথা কী জানেন এরা অর্ধেক সময় বুঝেই উঠতে পারেন না যে এরা কাউকে নিয়ে সমালোচনায় জড়িয়ে পরেছেন। মধ্যা কথা এরা পরনিন্দা করতে ভালবাসেন, যা এদের কাছে আর পাঁচটা কাজের মতোই একটা। অর্থাৎ এরা সমালোচনাকে খারাপ চোখে দেখতে সদা নারাজ।

৮. বৃশ্চিকরাশি:

৮. বৃশ্চিকরাশি:

সমালোচনার নিরিখে এরা যে কতটা নিচে যেতে পারেন, সে ধরণা কেউই করে উঠতে পারবেন না। কোনও মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আর পাঁচ জনের সামনে খারাপ ভাবে সমালোচনা করতেও এরা পিছপা হন না। তাই এই রাশির জাতক-জাতিকাদের কারণে যে কত মানুষের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়, তা আর বলার কথা নয়!

৯. ধনুরাশি:

৯. ধনুরাশি:

এদের মুখ যেমন খারাপ হয়, তেমনি নানা বিষয় নিয়ে গসিপ করতেও এদের টেক্কা দেওয়া ভার। তাই তো বলি বন্ধু, কথার মারে মরতে যদি না চান, তাহলে ধনু রাশির জাতক-জাতিকাদের চোখে খারাপ হতে যাবেন না যেন!

১০. মকররাশি:

১০. মকররাশি:

ঠিক গসিপ করতে নয়, বরং বলা যেতে পারে এরা না বুঝেই অনেকের সম্পর্কে এমন অনেক কথা বলে ফেলেন, যা আদতে পরনিন্দার ক্যাটাগরিতেই পরে ঠিকই, তবে এই কারণে কারও ক্ষতি হওয়ার যদিও কোনও সম্ভাবনা থাকে না।

১১. কুম্ভরাশি:

১১. কুম্ভরাশি:

ঝর্না দেখেছেন তো? এরা অনেকটা ঝর্নার মতো হয়ে থাকেন। অর্থাৎ আশেপাশে যা দেখেন তাই নিয়েই এরা সমালোচনা করেন। তবে এদের সমালোচনা একেবারেই বিষাক্ত গোছের হয় না।

১২. মীনরাশি:

১২. মীনরাশি:

এরা কখনও সখনও বন্ধুদের বলে ফেলা বেজায় গোপন কথাও অনেককে জানিয়ে দিতে পিছপা হন না। ফলে এমন সমানোচনার কারণে কারও মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই তো বলি বন্ধু, নিজের মনের কথা ভুলেও মীনরাশির কাউকে বলতে যাবেন না যেন!

X
Desktop Bottom Promotion