সাবধান: এই মন্দিরে ঢুকলেই কিন্তু পাথর হয়ে যাবেন!

ভারত হল এমন দেশ যেখানে জীবন এবং রহস্য যেন হাত ধরাধরি করে বাসবাস করে। তাই তো এদেশের অলিগলিতে কান পাতলে এমন রহস্য় মাখা অনেক গল্প শুনতে পাওয়া যা বাস্তবিকই রোমহর্ষক। যেমন আমার এই অভিজ্ঞতার কথাই ধরুন না। আনন্দের অন্ত ছিল না যখন বারমেরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলান। আরে মশাই ছোট থেকেই ফেলুদার ফ্যান আর এতদিন তার কর্মভূমি রাজস্থানে এসে পরেছি। তাও আবার বারমের যাচ্ছি, তাই আনন্দে বিগলিত মন নিয়ে চড়ে বসেছিলাম ট্রেনে। ভাবিনি এমন অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করে রয়েছে আমার জন্য!

কথায় আছে মরু শহরের বুকে এমন অনেক কেল্লা, এমন অনেক গ্রাম রয়েছে যেখানে সন্ধ্যার পর পা দেওয়া মৃত্যুর সমান। একটি মন্দিরের ক্ষেত্রেও যে এমন বিশ্বাস রয়েছে তা জানা ছিলা না। অনেকটা অজান্তেই তাই ধুরতে ঘুরতে সন্ধ্য়া নামার আগে পৌঁছে গিয়েছিলাম "কিরাডু" মন্দিরে। মন্দিরে কারুকার্য দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল যেন কোনও আর্ট গ্যালারিতে এসে পৌঁছেছি। সঙ্গে অত্যাধুনিক ক্যামেরাও ছিল। তাই দেদার উঠছিল ছবিও। হঠাৎ কোথা থেকে এক সাধু মতো লোক এসে আমাকে প্রায় টানত টানতে দূরে নিয়ে গেলেন। "আরে আমি যে মন্দিরটা দেখতে এসেছি। এমন করছেন কেন?" উত্তরে যা জানলাম তা অবাক করার মতো।

পাথর শুধু পাথর:

পাথর শুধু পাথর:

এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বাস করে সন্ধ্যার পর এই মন্দিরে প্রবেশ করলে নাকি কোনও এক অভিশাপের কারণে সঙ্গে সঙ্গে পাথর হয়ে যায় মানুষ। মানে মৃত্যু নিশ্চিত। বারমের থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত "কিরাদকোট" নামে পরিচিত এই পাঁচটি মন্দিরের সমষ্টি এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল তার শরীরে খুদিত কারুকার্যের জন্য। তাই তো এই মন্দিরটিকে রাজস্থানের খাজুরাহো বলেও ডাকা হয়ে থাকতো। কিন্তু এখন বিধবার মতো পরে রয়েছে মন্দিরগুলি। রাতে তো ছাড়ুন, দিনেও কারও দেখা পাওয়া যায় না। এমনকি যে হাতমা গ্রামে মন্দিরটি রয়েছে সেখানেও লোকের আনাগোনা বেশ কম।

Image Source

ইতিহাসও কী বলছে!

ইতিহাসও কী বলছে!

ছয় এবং আটের শতকে রাজপুতদের মধ্যে কিরাদ নামক গোষ্টিরা এই অঞ্চলে শাষণ করত। সেই সময়ই বানানো হয়েছিল এই মন্দিরগুলি। কিরাডু মন্দিরের অন্তর্ভুক্ত বেশ কিছু মন্দির ভগবান শিবের, বাকিতে পুজো করা হত ভগবান বিষ্ণুর। কিরাদ রাজাদের শাষনকালে এই জয়গা সমগ্র রাজস্থানে বেশ জনপ্রিয় ছিল। এর প্রমাণ পুরানো ইতিহাস বইতেও পাওয়া যায়। আর্কিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার বেশ কিছু নথি ঘেঁটে জানা গেছে ১১ এবং ১২ শতকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠেছিল এই অঞ্চল।

Image Source

মানুষ পাথর কেন হয়ে যায়?

মানুষ পাথর কেন হয়ে যায়?

সমেশ্বর রাজার শাষণকালে এক সাধু তার ছাত্রদের নিয়ে এই মন্দিরে থাকতেন। শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যেই সেই সাধুবাবা এখানে এসেছিলেন। একদিন তিনি সিদ্ধান নেন রাজস্থান ভ্রমণে বেরবেন। সেই মতো তিনি বেরিয়েও পরেন। মন্দির দেখভালের দায়িত্ব এসে পরে ছাত্রদের উপর। ঠিক সে সময়ই এক মহামারীর আক্রমণে একের পর এক ছাত্রের মৃত্যু ঘটতে থাকে। এদিকে মৃত্যু ভয়ে কোনও গ্রামবাসিই এগিয়ে আসে না তাদের সাহায্য় করতে। সে সময় কেবল একজন মহিলা দয়া পরায়ন হয়ে বাচ্চাদের সেবা করা শুরু করেন। ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যদ্ধার হতে শুরু করে ছাত্রদের। ততদিন কেয়ক বছর কেটে গেছে। সবই ঠিক চলছিল। হঠাৎ একদিন সেই সাধুবাবা ফিরে আসেন। নিজের চোখকে তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। প্রিয় ছাত্রদের এই অবস্থা হয়েছে! রাগে-দুঃখে তিনি অভিশাপ দেন গ্রামবাসীদের। অভিশাপ ছিল এই গ্রামে প্রাণের কানও অস্তিত্ব থাকবে না। সবাই পাথরে পরিণত হবে। কেবলমাত্র ওই মহিলা বেঁচে থাকবেন। "কিন্তু সাবধান এই মন্দির থেকে যাওয়ার সময় ভুলেও পিছনে ফিরে তাকাবে না, তাহলে তুমিও পাথর হয়ে যাবে।" সেদিন সেই মহিলা সাধুবাবার এই কথাটা মানতে পারেননি, তাই তিনিও পাথর হয়ে গিয়েছিলেন। আজও মন্দিরের মাঝে সেই মহিলার পাথুরে মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়।

Image Source

একবিংশ শতাব্দি:

একবিংশ শতাব্দি:

পাথর হয়ে যাওয়ার ভয়ে স্থানীয় কাউকেই এ অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায় না।এমনকি টুরিস্টদেরও এখানে আসতে মানা করা হয়েছে। তবু আমার মতো এক-দুজন অজান্তেই চলে আসেন এই পাথরের দুনিয়ায়।

Image Source

গল্প হলেও সত্যি:

গল্প হলেও সত্যি:

বেশ কিছুদিন আগে ইন্ডিয়ান প্যারানরমাল সোসাইটির বিশেষজ্ঞরা কিরাডু মন্দির চত্ত্বরে সমীক্ষা চালিয়েছিলেন তাতে একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে এই অঞ্চলে নেগেটিভ এনার্জি রয়েছে, তা আত্মা হতে পারে বা অন্য কিছু। এই অনুসন্ধানের পর থেকেই স্থানীয় প্রশাসন আরও কড়াকড়ি শুরু করেছে এই মন্দিরে আসার ব্যাপারে। আপনি যদি কোনও দিন বারমের ঘুরতে যান তাহলে সকাল সকাল কিরাডু মন্দির ঘুরে আসবেন। সন্ধ্যের পর ভুলেও না।

Image Source

Story first published: Friday, July 7, 2017, 18:07 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion