মহারাজের দাদাগিরি এবার ভারতীয় ক্রিকেট মসনদে

কথায় আছে, এভাবেও কি ফিরে আসা যায়! বেহালা থেকে বিশ্বজয়, সবকিছুর চাবিকাঠি এখন প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ওরফে 'দাদা'-র হাতে। রাজকীয় মসনদ থেকে ব্যাট হাতে ভারতীয় দলে প্রবেশ, তারপর দলের অধিনায়ক। বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানের ক্রিকেট জীবনের যাত্রাপথ সহজ ছিল না মোটেই। তাঁর জীবনে নানান চড়াই-উতরাই এলেও হার মানেননি কখনই। এই হার না মানার জেদ থেকেই আজ তিনি ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের সর্বোচ্চ সম্মানজনক মসনদের রাজা।

Sourav Ganguly To Become BCCI Head

এ এন আই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, মুম্বইয়ে BCCI (The Board Of Control For Cricket In India) সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, "ভারতীয় ক্রিকেটের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাই আমার লক্ষ্য। নতুন কমিটির মূলমন্ত্র হবে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলাভাবে কাজ করার"।

শক্ত হাতে অধিনায়ক হিসেবে দলের দায়ভার নিয়েছিলেন ২০০০ সালে। এনেছিলেন অনেক পরিবর্তন, গড়ে উঠেছিল 'টিম ইন্ডিয়া'। ১৯ বছর পর ভারতীয় দলের ভাবমূর্তিকে শক্ত হাতে গড়ে তুলতে অধিনায়কত্বের মত দায়িত্বভার নিয়ে BCCI-এর শীর্ষ পদে বসতে চলেছেন বাংলার মহারাজ।

সচরাচর একজন খেলোয়াড় খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পর কোনরকম লাইমলাইটে তাদের আর দেখা যায় না। তবে, ব্যতিক্রমী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। মাঠের দাদাগিরি থেকে পর্দার দাদাগিরি সবেতেই সোনার ছেলে তিনি। ভারতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পর আই পি এল-এ কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর অধিনায়ক হিসেবে শুরু করেন খেলা। এরপর অন্য দলের হয়ে খেলোয়াড় হয়েছেন, হয়েছেন মেন্টরও। সসম্মানে কাজ করে গেছেন তিনি। CAB-র প্রধান হিসেবেও সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কয়েক বছর ধরে। এমনকি, একটি চ্যানেলের রিয়্যালিটি শো থেকে খেলার ধারাবিবরণী সবেতেই হাই টি আর পি মহারাজের দাদাগিরির।

সৌরভের প্রতিভা এবং স্নেহস্বরূপ অসাধারণ নেতৃত্বের জন্য "বেঙ্গল টাইগার", "কলকাতার রাজপুত্র"এবং "গড অফ অফসাইড ক্রিকেট"-এর মত জাতীয় খেতাব অর্জন করেছেন তিনি।

যখনই ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাস উল্লেখ করা হয়, এই ব্যক্তির নাম সর্বদাই উল্লিখিত হয়। মাঠে তাঁর আগ্রাসন, উৎসাহ, খেলার প্রতি আবেগ ভারতীয় ক্রিকেটের চেহারা চিরতরে বদলে দিয়েছিল। একজন ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর জীবন ছিল আকর্ষণীয় এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ, যা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও প্রযোজ্য। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার জিওফ্রে বয়কট(Geoffrey Boycott) সৌরভ-কে "কলকাতার রাজপুত্র" খেতাব দিয়েছিলেন।

ক্রিকেট জীবনে সৌরভের টেস্ট এর ব্যাটিং গড় কখনও ৪০ -এর নিচে নামেনি। ওয়ানডে ক্রিকেটে অষ্টম সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ও ভারতীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় তিনি। ওয়ানডে-তে তিনি ১১,৩৬৩ রান এবং টেস্ট ম্যাচে ৭,২১২ রানের আধিকারী। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় একমাত্র ক্রিকেটার যিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে একের পর এক 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ' পুরস্কার জিতেছিলেন। ২০০৪ সালে তাঁকে 'পদ্মশ্রী' পুরস্কারে এবং ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে 'বঙ্গবিভূষণ' পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নতুন পদের জন্য টুইট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন-" BCCI প্রেসিডেন্ট হওয়ায় সৌরভকে আন্তরিক অভিনন্দন। শুভেচ্ছা রইল আগামী দিনের জন্য। বাংলাকে গর্বিত করেছো তুমি। CAB-র প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তুমি আমাদের গর্বিত করেছ। দুর্দান্ত নতুন ইনিংসের অপেক্ষায় রইলাম।"

নিন্দুকেরা বলে বাঙালি নাকি লড়াকু না। ময়দানে নামার আগেই হেরে বসে থাকে। কিন্তু, বাঙালি আবারও তার ভুল প্রমাণ করলো লড়াইয়ের ময়দানে নেমে। তার একমাত্র জীবন্ত উদাহরণ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

X
Desktop Bottom Promotion