For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর : তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কিছু তথ্য

|

যাঁর জন্য আমরা আজ লেখাপড়া শিখেছি, যিনি আমাদের অক্ষর, বর্ণ চিনতে সাহায্য করেছেন, আমাদের শিক্ষিত করতে সাহায্য করেছেন, যাঁর জন্য আমরা আজ উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি, শৈশবে হাতেখড়ির পর যাঁর হাত ধরে বাংলা বর্ণমালার সঙ্গে পরিচয় ঘটে, সেই বীর,পণ্ডিত মানুষটির আজ দ্বিশত জন্মবার্ষিকী। আজ, ২৬ সেপ্টেম্বর 'বর্ণপরিচয়'-এর রূপকার পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্মবার্ষিকী।

Ishwar Chandra Vidyasagar birth anniversary

মঙ্গলবার বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহ গ্রামে গিয়ে 'স্মৃতি মন্দির' উদ্বোধনের মাধ্যমে দ্বিশত জন্মবার্ষিকী উদযাপনের সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ঘোষণা করেছেন, বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। সেই অনুযায়ী কলকাতা পুরসভার তরফ থেকেও আজ একটি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার। তাঁর প্রকৃত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য প্রথম জীবনেই তিনি 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন। সংস্কৃত ছাড়াও বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় বিশেষ দখল ছিল তাঁর। বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার তিনিই। তিনি রচনা করেছেন জনপ্রিয় শিশুপাঠ্য বর্ণপরিচয় সহ একাধিক পাঠ্যপুস্তক, সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থ। সংস্কৃত, হিন্দি ও ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ সাহিত্য ও জ্ঞানবিজ্ঞান সংক্রান্ত বহু রচনা করেছেন তিনি।

এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারকও। বিধবা বিবাহ ও স্ত্রীশিক্ষার প্রচলন, বহুবিবাহ ও বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণে তাঁর সংগ্রাম আজও স্মরণীয়। বাংলার নবজাগরণের এই পুরোধা ব্যক্তিত্ব দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে পরিচিত ছিলেন 'দয়ার সাগর' নামে।

দরিদ্র, আর্ত ও পীড়িত কখনই তাঁর দ্বার থেকে শূন্য হাতে ফিরে যেত না। এমনকি নিজের চরম অর্থসংকটের সময়ও তিনি ঋণ নিয়ে পরোপকার করেছেন। তাঁর পিতা-মাতার প্রতি তাঁর ভক্তি ছিল অসীম। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর মধ্যে দেখতে পেয়েছিলেন প্রাচীন ঋষির প্রজ্ঞা, ইংরেজের কর্মশক্তি ও বাঙালি মায়ের হৃদয়বৃত্তি।

বাঙালি সমাজে বিদ্যাসাগর মহাশয় আজও এক প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরে তাঁর স্মৃতিরক্ষায় স্থাপিত হয়েছে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়। কলকাতার আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বিদ্যাসাগর সেতু তাঁরই নামে উৎসর্গিত।

১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাতা ভগবতী দেবী। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি শিক্ষা, সংস্কার, আন্তরিকতা, কঠোরতা, দয়ালুতা, নিষ্ঠা, জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর মনোভাব ছিল একদম দৃঢ় |

ছাত্রাবস্থায় তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্র। ১৮২৮ সালের নভেম্বর মাসে পাঠশালার শিক্ষা সমাপ্ত করে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য তিনি কলকাতায় আসেন। শোনা যায়, মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় আসার সময় পথের ধারে মাইলফলকে ইংরেজি সংখ্যাগুলি দেখে তিনি সেগুলি অল্প সময়ের মধ্যেই আয়ত্ত করেছিলেন।

১৮২৯ সালের জুন মাসে কলকাতার একটি সরকারী সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন তিনি। ১৮৩০ সালে সংস্কৃত কলেজের ইংরেজি শ্রেণীতেও ভর্তি হন। এরপর, বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য মাসিক পাঁচ টাকা হারে বৃত্তি পান।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান ছাত্র এবং ১৮৩৯ সালের মধ্যেই 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন। পরে তিনি দু-বছর ওই কলেজে ব্যাকরণ, সাহিত্য, অলঙ্কার, বেদান্ত, ন্যায়, তর্ক, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিন্দু আইন এবং ইংরেজি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। তাছাড়া প্রতি বছরই তিনি বৃত্তি এবং গ্রন্থ ও আর্থিক পুরস্কার পান। পণ্ডিত জয়গোপাল তর্কালঙ্কারের একজন বিশেষ ছাত্র ছিলেন বিদ্যাসাগর।

১৮৪১ সালে সংস্কৃত কলেজে শিক্ষা সমাপ্ত হবার পর সেই বছরই মাত্র একুশ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান পণ্ডিতের পদে যোগদান করেন বিদ্যাসাগর মহাশয়। এরপর, সংস্কৃত কলেজের সহকারী সম্পাদকের ভার গ্রহণ করেন। তখন তাঁর বয়স পঁচিশ বছর। ১৮৪৭ সালে স্থাপন করেন সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরি নামে একটি বইয়ের দোকান। ১৮৪৭ সালের জুলাই মাসে কলেজ পরিচালনার ব্যাপারে মতান্তর দেখা দেওয়ায় সংস্কৃত কলেজের সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ছিলেন নারীশিক্ষার বিস্তারের পথিকৃৎ। সংস্কৃত শাস্ত্রের বিরাট পণ্ডিত হয়েও পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি গ্রহণে দ্বিধা করেননি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। নারীমুক্তি আন্দোলনের প্রবল সমর্থক ছিলেন তিনি। হিন্দু বিধবাদের অসহনীয় দুঃখ, তাঁদের প্রতি পরিবারবর্গের অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল তাঁকে। এই বিধবাদের মুক্তির জন্য তিনি আজীবন সর্বস্ব পণ করে সংগ্রাম করেছেন।

তাঁর আন্দোলন সফল হয়েছিল। ১৮৫৬ সালে সরকার বিধবা বিবাহ আইনসিদ্ধ ঘোষণা করেন। তবে শুধু আইন প্রণয়নেই ক্ষান্ত থাকেননি বিদ্যাসাগর মহাশয়। তাঁর উদ্যোগে একাধিক বিধবা বিবাহের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। তাঁর পুত্রও এক ভাগ্যহীনা বিধবাকে বিবাহ করেন। এজন্য সেযুগের রক্ষণশীল সমাজ ও সমাজপতিদের কঠোর বিদ্রুপ ও অপমানও সহ্য করতে হয় তাঁকে। বিধবা বিবাহ প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বহুবিবাহের মতো একটি কুপ্রথাকে নির্মূল করতেও আজীবন সংগ্রাম করেন বিদ্যাসাগর মহাশয়। প্রচার করেন বাল্যবিবাহ রোধের সপক্ষেও।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের চরিত্র ছিল কঠোর ও কোমলের সংমিশ্রণ। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন প্রবল জেদী ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন। দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য সর্বদা তাঁর হৃদয় সহানুভূতি পূর্ণ থাকত। তিনি দরিদ্রদের মনের ব্যথা অনুভবও করতে পারতেন। কেউ অর্থসংকটে পড়ে তাঁর দরজায় এলে তিনি কখনোই তাঁকে শূন্য হাতে ফেরাতেন না। কত দরিদ্র ছাত্রের অন্ন-বস্ত্র দায়িত্ব তিনি নিয়েছিলেন। দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অন্নসত্র খুলে সকলকে দুই বেলা খাওয়াতেন। তাঁর দয়ার কারণেই তিনি ছিলেন সকলের কাছে 'দয়ার সাগর'।

English summary

Some Facts About Ishwar Chandra Vidyasagar

Ishwar Chandra Vidyasagar birth anniversary is observed on September 26 every year.
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more