তাজ মহলের সেই ছায়ারা!

Posted By:
Subscribe to Boldsky

পূর্ণিমার চাঁদ তখন মধ্য গগনে। আলোর বিচ্ছুরণ এত যে দেখে মনে হয় সারা পৃথিবী যেন সাদা চাদরের নিচে। আকাশ মুখি হয়ে দাঁড়িয়ে শুধু সুউচ্চ সৌধটি। আর তার সাদা শরীরে তখন নিজের খেয়ালে আলোপনা কাটছে চাঁদের আলো। কিন্তু ওরা কারা...শরীরের অবয়ব ব়ড়ই চেনা চেনা। কিন্তু ঠিক স্পষ্ট নয়। শুনেছি অনেকেই নাকি এমন রাতে বেগম সাহেবা আর সম্রাটকে দেখেছেন এখানে, মানে তাজ মহলের অন্দরে। ভাবি, দেখবেন নাই বা কেন! এটা তো ওদেরই জয়গা। ওদের প্রেম, বিশ্বাস ঘাতকতা এবং মৃত্যুর জায়গা। তাহলে কেন দেখা যাবে না মমতাজ বেগম আর জাহাপানা শাহ জাহানকে! ছেলের হাতে নির্মম ভাবে অত্যাচারিত এক বাবা যদি তার ভালাবাসর সঙ্গে একটু সময় কাটান তাতে আমাদের ক্ষতি কী! সত্যিই কোনও ক্ষতি নেই। বরং সেই সব অজানা কথাগুলো জানলে অবাক হতে হয়। এমনও হতে পারে!

তাই তো আজ এই প্রবন্ধে তাজ মহল, শাহ জাহান এবং মমতাজ বেগমের জীবনের নানা অজানা কথা তুলে ধরা চেষ্টা করা হল আপনাদের সামনে। এই প্রবন্ধটি ইতিহাসের সেইসব অজানা অন্ধকার গলির সন্ধান দিতে চলেছে যা বাস্তবিকই কন্টকময়।

সব তো সম্ভব নয়। তাই বিশেষ কিছু তথ্য তুলে ধরা হল এই লেখায়। তবু বলব তাজ মহলকে এই ফিরে দেখার এই অভিজ্ঞতা আপনাদের মন্দ লাগবে না।

তথ্য ১:

তথ্য ১:

মুঘল তক্তে বসার পর শাহ জাহানের নামের সঙ্গে অনেক উপাধি যোগ হয়। সে সময় তার পুরো নাম গিয়ে দাঁড়ায় তিন লাইনে। একবারে ঠিক শুনেছেন তিন লাইন জুড়ো ছিল ভারত সম্রাটের নাম। তাঁকে ডাকা হত "শাহেনশাহে আল-সুলতান আত- আজাম ওয়াল খোয়ান আত-মুখাররাম, মালিক-উল-সালতানাত, আলা হাজারাত আবুল মুজাফার শাহাব উদ্দিন মহম্মদ শাহ জাহান ১, শাহিব-ই-কুরান-ই-শানি, পাদশাহ গাজি জিলুলাহ, ফরদৌস-আশিয়ানি, শাহেনসাহ-ই-সালতানাত উল হিন্দিয়া ওয়াল মিঘলয়া।" কী ক-লাইন হল! একবারে পড়তে পারলেন কি!

তথ্য ২:

তথ্য ২:

শাহ জাহান তার জীবনে মোট ৭ বার বিয়ে করেছিলেন। আর মমতাজ ছিলেন তার চতুর্থ স্ত্রী।

তথ্য ৩:

তথ্য ৩:

মুঘল সম্রাটকে বিয়ে করার আগে মমতাজের অন্য একজনের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। তাহলে শাহ জাহানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হল কীভাবে? মমতাজ মহলের রূপে মহিত শাহ জাহান তার চতুর্থ স্ত্রীর প্রথম স্বামীকে খুব নির্মমভাবে মেরে ফেলেন। তরপর ধুমধাম করে বিয়ে করেন মমতাজের সঙ্গে। বাস্তবিকই ভালবাসা আর যুদ্ধে সব কিছুই বৈধ হয়, তাই না!

তথ্য ৪:

তথ্য ৪:

মমতাজের মৃত্যু হয় তার ১৪ তম সন্তান জন্ম নেওয়ার সময়।

তথ্য ৫:

তথ্য ৫:

শুনলে অবাক হয়ে যাবেন, যে স্ত্রীকে শাহ জাহান এতটা ভালবাসতেন তার মৃত্যুর পর পরই তার ছোট বোনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মুঘল সম্রাট। তাই তো প্রশ্ন জাগে মনে, মমতাজ এবং শাহ জাহানের ভালবাসা কি সত্য়িই অতটা গভীর ছিল, যতটা বিভিন্ন ঐতিহাসিকের লেখনি থেকে জানতে পারা যায়।

তথ্য ৬:

তথ্য ৬:

১৬৫৭ সালে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পরেন শাহ জাহান। এবার মুঘল তক্তে বসবে কে এই নিয়ে শুরু ভায়ে বায়ে লড়াই, যা ইতিহাসে সামুগড়ের যুদ্ধ নামে খ্যাত। সেই যুদ্ধে একদিকে ছিলেন শাহ জাহানের বড় ছেলে দারা শেক। আর অন্যদিকে ছিলেন তার দুই ভাই ঔরঙ্গজেব এবং মুর্দ বাক্স। সেই যুদ্ধে চলেছিল প্রায় ১ বছর (১৬৫৮-১৬৫৯)।

তথ্য ৭:

তথ্য ৭:

শেষমেষ মঘল তক্তে আসীন হন ঔরঙ্গজেব। যদিও তাঁর বাবা, শাহ জাহানকে বন্দি বানানোর পর।

তথ্য ৮:

তথ্য ৮:

একাকিত্ব এবং দীর্ঘ রোগভোগের পর শাহ জাহানের মৃত্যু হয়। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস দেখুন শাহ জাহানের মৃত্যুর পর তারা ছেলে ঔরঙ্গজেব যাথাযথ সম্মানটুকুও জানাননি তার বাবাকে।

তথ্য ৯:

তথ্য ৯:

এখানেই শেষ নয়, বাবার জন্য সমাধিক্ষেত্র বানাতে যে অনেক খারচ হয়ে যাবে। সেটুকু খরচ করার জন্যও প্রস্তুত ছিলেন না ঔরঙ্গজেব। তাই তো শাহ জাহানের ঠাই হয়েছিল তার প্রিয় বেগম মমতাজ মহলের ঠিক পাশেই, তাজ মহলের এক গোপন কুঠুরিতে। যেখানে আজও শায়িত আছে মমতাজ এবং শাহ জাহানের শরীর।

তথ্য ১০:

তথ্য ১০:

ছেলের বিশ্বাসঘাতকতা একটা ভাল কাজ করেছিল। যে স্ত্রীর ভালবাসায় এক সময় পাগল ছিলেন শাহ জাহান, মৃত্য়ুর পরেও তার সঙ্গে থেকে যাওয়ার সুযোগ পয়েছিলেন পঞ্চম মঘল সম্রাট, যিনি ইতিহাসে কোনও যুদ্ধের জন্য নয়, বরং পরিচিতি পেয়েছিলেন তাঁর অপার ভালবাসার জন্য।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: জীবন বিশ্ব
    English summary

    তাজ মহলের সেই ছায়ারা!

    When you hear the words "Taj Mahal", the first thing that strikes your mind is that it is such a beautiful symbol of love. But do we know all the facts about this beautiful monument?
    Story first published: Thursday, June 15, 2017, 15:20 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more