নবরাত্রি ২০১৮: মা দুর্গাকে কেমন প্রাসাদ নিবেদন করলে মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে পারে জানা আছে?

Subscribe to Boldsky

দুর্গা পুজোর সময় আপাত দৃষ্টিতে আমরা মায়ের একটা রূপেরই পুজো হতে দেখি। কিন্তু আদতে নবরাত্রির নয় রাতে, মায়ের নটি রূপের আরাধনা করা হয়ে থাকে। আর মায়ের এক এক রূপের পুজো যখন হয়, তখন নটি আলাদা আলাদা ধরনের ভোগ নিবেদন করা হয়ে থাকে। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে মা দুর্গার এক একটি রূপ এক এক ধরনের খাবার পছন্দ করেন, তাই তো সেই সব খাবার যদি প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করা যায়, তাহলে দেবী এতটাই প্রসন্ন হন যে ভক্তের মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি আরও নানাবিধ উপকার পাওয়া যায়। যেমন ধরুন- কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কা কমে, অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে, পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে এবং কর্মক্ষেত্র উন্নতি লাভের পথ প্রশস্ত হয়। তাই তো বলি বন্ধু বাকি জীবনটা যদি আরামে কাটাতে হয়, তাহলে এবারের দুর্গা পুজোর সময় এক এক দিন মায়ের এক এক রূপের অরাধনা করতে ভুলবেন না, সেই সঙ্গে কী কী প্রসাদ নিবেদন করতে হবে সে সম্পর্কেও জেনে নেওয়াটাও জরুরি।

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে মা দুর্গা এবং শিব ঠাকুর খুব অল্পতেই প্রসন্ন হয়ে যান। যেমন ধরুন প্রতি সোমবার শিব ঠাকুরের শরীরে গঙ্গা জল বা ঠান্ডা দুধ ঢালার পাশপাশি যদি বেল পাতা এবং আকন্দ ফুল সহকারে দেবের আরাধনা করা যায়, তাহলে শিব ঠাকুর এতটাই প্রসন্ন হন যে তাঁর আশীর্বাদ মিলতে সময় লগে না। একই রকম ভাবে দুর্গা ঠাকুরের মন জয় করতে হলে দেবীর মনের মতো খাবার নিবেদন করতে হবে, তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

তাহলে আর অপেক্ষা কেন? চলুন বন্ধু জেনে নেওয়া যাক নবরাত্রির নয়দিন দেবীর কান কোন রূপের অরাধনা করতে হবে এবং পুজোর সময় কেমন প্রসাদই বা নিবেদন করার প্রয়োজন রয়েছে...

১. দেবী শৈলপুত্রি:

১. দেবী শৈলপুত্রি:

নবরাত্রির প্রথম রাতে আরাধনা করতে হবে মা শৈলপুত্রির। শিবপুরাণ অনুসারে মা সতীর প্রথম অবতার হল দেবীর এই রূপটি। তাই তো দুর্গোৎসবের শুরুয়াত হয় মা শৈলপুত্রির নাম জপ করে। প্রসঙ্গত, এমনটা বিশ্বাস কা হয় যে মায়ের এই বিশেষ রূপটির পুজো করার সময় যদি ঘি দিয়ে তৈরি কোনও প্রসাদ নিবেদন করা হয় এবং দেবীর পায়ে ঘি ঢালা যায়, তাহলে নাকি রোগ-ব্যাধি সব দূরে পালাতে সময় লাগেই না। সেই সঙ্গে শরীর এবং মনও চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

২. ব্রহ্মচারিনী:

২. ব্রহ্মচারিনী:

এক হাতে কমন্ডলা এবং অন্য হাতে রুদ্রাক্ষধারী মায়ের এই বিশেষ রূপটির অরাধনা করার সময় চিনি, মিছরি এবং ফল নিবেদন করতে হবে। তাহলেই দেখবেন মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগবে না। আসলে শাস্ত্র মতে মা পার্বতী এবং সতীর এই রূপ হল ত্যাগের প্রতীক। তাই তো মা অল্প কিছুতেই খুশি হয়ে যান।

৩. চন্দ্রঘন্টা:

৩. চন্দ্রঘন্টা:

দেবীর তৃতীয় রূপ হল চন্দ্রঘন্টা। এই অবতারে দেবীর দশ হাত এবং রাগত অভিব্যক্তি। শুধু তাই নয়, মায়ের খোপায় জায়গা করে নিয়েছে অর্ধ চন্দ্র আর দেবী আসন নিয়েছেন সিংহের পিঠে। পুরান অনুসারে মহিষাসুরকে বধ করার সময় দেবী এই রূপ নিয়েছিলেন। তাই তো এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে মায়ের চন্দ্রঘন্টা রূপের অরাধনা করলে খারাপ শক্তির প্রভাব কমতে শুরু করে। ফলে কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি কালো যাদের প্রভাব কেটে যেতেও সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, মায়ের এই বিশেষ রূপটির আরাধনা করার সময় যদি দুধ, মিষ্টি এবং ক্ষির নিবেদন করা যায়, তাহলে দেবী এতটাই প্রসন্ন হন যে নানাবিধ সুফল মিলতে সময় লাগে না।

৪. কুশমান্ড:

৪. কুশমান্ড:

নবরাত্রির চতুর্থ দিনে দেবীর এই রূপের আরাধনা করতে হবে এবং পুজোর সময় নিবেদন করতে হবে মালপোয়া। তাহলেই দেখবেন অর্থনৈতিক উন্নতির পথ প্রশস্ত হবে। সেই সঙ্গে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত নানাবিধ ঝামেলা মিটে যেতেও সময় লাগবে না। শুধু তাই নয়, বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি যার শরীর থেকে হয়েছে, দেবীর সেই কুশমন্ডা রূপের অরাধনা করলে যে কোনও সমস্যা মিটে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া মানসিক শান্তিও ফিরে আসে। তাই তো বলি বন্ধু, বাকি জীবনটা যদি দুঃখ-কষ্ট থেকে দূরে থাকতে চান, তাহলে নবমীর দিন ঘটা করে দেবীর এই বিশেষ রূপের পুজো করতে ভুলবেন না যেন!

৫. স্কন্দমাতা:

৫. স্কন্দমাতা:

সিংহের উপরে বসে মা। একেবারে শান্ত অবতার। হাতে ধরা রয়েছে পদ্মফুল, কোলে কার্তিক দেব। দেবীর এই রূপকেই শাস্ত্রে স্কন্দমাতা অবতার নামে ডাকা হয়েছে। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে দেবীর এই বিশেষ রূপটির পুজো করার সময় যদি ভোগ হিসেবে কলা নিবেদন করা হয়, তাহলে দেবী এতটাই খুশি হন যে আয়ু বাড়ে চোখে পরার মতো। শুধু তাই নয়, পরিবারের অন্দরে কোনও ধরনের সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও যায় কমে। প্রসঙ্গত, মায়ের স্কন্দমাতা রূপের অরাধনা করতে হবে নবরাত্রির পঞ্চম রাত্রে।

৬. কাত্যায়নী:

৬. কাত্যায়নী:

নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে দেবীর এই রূপের অরাধনা করা হয়। গুরু কাত্যায়নের মেয়ে রূপে এই ধরাধামে আসা দেবীর এই রূপের পুজো করার সময় ভোগ হিসেবে নিবেদন করতে হবে মধু। সেই সঙ্গে এক মনে দেবীর নাম নিতে হবে। তাহলেই দেখবেন মায়ের আশীর্বাদে জীবনের প্রতিটা দিন এতটাই আনন্দে ভরে উঠবে যে দুঃখ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। প্রসঙ্গত, এই রূপেও মা সিংহের উপর আসন নিয়েছেন। তবে দশ হাতের জায়গায় দেবীর মাত্র চার হাত, আর তাতে অস্ত্র সজ্জিত।

৭. মা কালরাত্রি:

৭. মা কালরাত্রি:

দেবীর হাতে অস্ত্র, কিন্তু সঙ্গে সিংহ নেই। বরং দেবী আসন পেতেছেন গাধার পিঠে। প্রসঙ্গত, মায়ের এই বিশেষ রূপটির অরাধনা করা হয় নবরাত্রির সপ্তম দিনে। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে গুড় অথবা গুড় দিয়ে দিয়ে বানানো কোনও মিষ্টি নিবেদন করে যদি এক মনে দেবীর আরাধনা করা যায়, তাহলে খারাপ শক্তির প্রভাব কেটে যেতে সময় লাগে না। ফলে কোনও ধরেনর বিপদ ঘটার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি নেগেটিভ শক্তির প্রভাবে খারাপ সময়ের খপ্পরে পরার সম্ভাবনাও দূর হয়। প্রসঙ্গত, এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে দেবীর অরাধনা করার পর যে ব্রাহ্মণদের খাওয়ানো যায়, তাহলে নাকি আরও উপকার মেলে।

৮. দেবী মহাগৌরী:

৮. দেবী মহাগৌরী:

দুর্গাষ্টমী বা নবরাত্রির অষ্টম দিনে মায়ের এই অবতারের অরাধনা করা হয়। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে নারকেল নিবেদন করে যদি মায়ের এই অবতারের অরাধনা করা হয়, তাহলে দেবী এতটাই প্রসন্ন হন যে ভক্তের মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি বাবা-মা হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হয়। তাই তো বলি বন্ধু যারা হাজারো চেষ্টা করেও মা-বাবা হতে পাচ্ছেন না, তারা এবারের নবরাত্রির সময় মহাগৌরী মায়ের পুজোর আয়োজন করতে ভুলবেন না যেন!

৯. দেবী সিদ্ধিদাত্রী:

৯. দেবী সিদ্ধিদাত্রী:

পদ্ম ফুলের উপর বয়ে রয়েছেন দেবী। তাঁর চোখে-মুখে বিরাজ করছে এক আজব শান্তি। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে নবরাত্রির শেষ দিনে সারা দিন উপোস করে দিনের শেষে তীল নিবেদন করে যদি দেবীর পুজো করা যায়, তাহলে কর্মক্ষেত্র এবং পড়াশোনায় দারুন ফল মিলতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, পরিবারের কোনও বিপদ ঘটার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: বিশ্ব
    English summary

    Sharad Navratri 2018: Nine forms of Durga and special bhog to offer them

    'Navratri' is a Sanskrit translation to 'the nine auspicious nights' dedicated to nine forms of Goddess Durga. This festival is celebrated with much enthusiasm in Northern, East and West parts of Indian Sub-Continent. These nine days the 'Nav Durga' or the nine forms of Durga are worshipped, revered and celebrated. Much dear to the Hindus, this festival in its grandeur is of much importance to Bengali and Gujarati culture.Here, in a list, are Nine forms of Durga and their favourite food items to offer them as a prasad and get their blessings.
    Story first published: Monday, October 8, 2018, 13:07 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more