মহাকাশচারিদের বাঁচতে হবে এবার নিজেদের পটি খেয়ে!

শুনতে অবাক লাগলেও এমনটা কিন্তু হতে চলেছে খুব শীঘ্রই। সম্প্রতি একটি গবেষণায় একদল বিজ্ঞানী পটির চরিত্র বদল করে তাকে খাবারে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছে

By Nayan

শুনতে অবাক লাগলেও এমনটা কিন্তু হতে চলেছে খুব শীঘ্রই। সম্প্রতি একটি গবেষণায় একদল বিজ্ঞানী পটির চরিত্র বদল করে তাকে খাবারে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং তার পর থেকেই এই নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে গুঞ্জন। নাসার তরফ থেকে জানানো হয়েছে ভিনগ্রহে অভিযান চালানার সময়ে প্রয়োজনে কাজে লাগানো যেতে পারে এই নতুন প্রযুক্তিকে।

মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় প্রজেক্ট হল মঙ্গলের মাটিতে পা রাখা। আর এমনটা করতে গিয়ে যে হাজারো প্রতিবন্ধকতা আসবে সে বিষয়ে বিজ্ঞানী মহলের কোনও সন্দেহ নেই। আর এই বাঁধার লিস্টে প্রথমেই রয়েছে খাবারের যোগান। পৃথিবী থেকে প্রায় ৫৪.৬ মিলিয়ান কিলোমিটারে দূরে মঙ্গলের মাটিতে রোবটকে পৌঁছানো এক কথা। কিন্তু মাহাকাশচারিদের এতটা রাস্তা পেরতে বহু সময় লেগে যাবে। তারপর মার্সের মাটিতে গবেষণা চালাতেও লাগবে বেশ কিছু দিন। এত দিন পর্যন্ত খাবারের যোগান ঠিক রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই তো বিকল্প খোঁজার কাজে লেগে পরেছে নাসা, আর তার মাঝেই এই আবিষ্কার।

কিন্তু কীভাবে মানুষের বর্জ্য বদলে যাবে খাবারে? বিজ্ঞানীরা বিশেষ ধরনের কিছু মাইক্রোবস ব্য়বহার করে পটির অন্দরে থাকা প্রোটিন এবং ফ্যাটকে ভেঙে আলাদ করে নেবে। সেই সঙ্গে মাইক্রোবসরা এমন একটি বায়োমাস তৈরি করবে, যা সরাসরি বা কোনও কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যাবে। শুধু তাই নয় প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে এই খাবার খেলে শরীরের সচলতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে।

এখানেই শেষ নয়...

এখানেই শেষ নয়...

"লাইফ সায়েন্স ইন স্পেস রিসার্চ" জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা পত্রে আরও বলা হয়েছে এই খাবার যে শুধু পেট ভরাবে, এমন নয়। সেই সঙ্গে পুষ্টির ঘাটতি দূর করতেও সাহায্য করবে। প্রসঙ্গত, মহাকাশে থাকাকালীন এমনিতেই শরীরের উপর মারাত্মক চাপ পরে। ফলে এই সময় এমন খাবার খাওয়ার প্রয়োজন পরে, যাতে শরীর না ভেঙে যায়। আর এই লক্ষ পূরণে যে এই নতুন ধরনের খাবারটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত পেনসিলভিনিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা, যারা পটি থেকে খাবার বানানোর প্রক্রিয়াটির আবিষ্কার করেছেন।

কিন্তু এইভাবে পটি খাওয়া কি আদৌ স্বাস্থ্যকর?

কিন্তু এইভাবে পটি খাওয়া কি আদৌ স্বাস্থ্যকর?

যে মাইক্রোবসকে ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা বর্জ্যকে খাবারে রূপান্তরিত করেছেন, তা যে বেজায় কার্যকরি সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু বিজ্ঞানী মহলের মতে এই ধরনের প্রয়াস বেজায় ভয়ঙ্কর। কারণ বর্জ্য যদি ঠিক মতো খাবারে রূপান্তরিত না হয়, তাহলে শরীরে টক্সিক উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াদেরও প্রবেশ ঘাটতে শুরু করে। ফলে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। প্রসঙ্গত, পটিতে যে যে ব্যাকটেরিয়াগুলির সন্ধান পাওয়া যায় সেগুলি হল ক্যাম্পাইলোব্য়াকটার, এ.কোলাই, স্যালমোনেলা এবং সিগেলা। আর এই জীবাণুগুলি শরীরে প্রবেশ করলে সাধারণত যে যে লক্ষণগুলি প্রকাশ পেয়ে থাকে, সেগুলি হল মাথা ঘোরা, ডায়ারিয়া, বারং বার বমি, জ্বর প্রভৃতি।

হতে পারে আরও নানান শারীরিক সমস্যা:

হতে পারে আরও নানান শারীরিক সমস্যা:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে মানুষের বর্জ্যে অনেক সময় হেপাটাইটিস এ এবং ই ভাইরাসের সন্ধানও পাওয়া যায়। আর এই দুটি ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে আরও মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এক্ষেত্রে ক্লান্তি বেড়ে যাওয়া, মারাত্মকভাবে ওজন কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, পেটে যন্ত্রণা, ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, পেশীতে যবন্ত্রণা এবং জ্বরের মতো লক্ষণগুলি প্রকাশ পয়ে থাকে। আর মহাকাশে থাকাকালীন যদি এমনসব ভাইরাসের আক্রমণ ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি যে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না।

তাহলে এই গবেষণার ভবিষ্য়ত কী?

তাহলে এই গবেষণার ভবিষ্য়ত কী?

মানুষের বর্জ্য থেকে খাবারের সৃষ্টি বাস্তবিকই একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। কিন্তু এই বিষয়ে যে আরও গবেষণায় প্রয়োজন রয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে একটা বিষয়ে বিজ্ঞানী মহল নিশ্চিত যে আগামী দিনে মঙ্গলের মাটিতে মানুষের পা রাখার মতোই বর্জ্য থেকে খাবার সৃষ্টির ঘটনাও যে মহাকাশ অভিযানের চরিত্রকে বদলে দেবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই!

Story first published: Tuesday, January 30, 2018, 10:51 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion