নাকে দড়ি দিয়ে খাটাচ্ছে এদিকে মাইনে বাড়ছে কয়েক পয়সা! তাহলে বন্ধু এই বাস্তু নিয়মগুলি মানতেই হবে!

প্রবন্ধে আলোচিত বাস্তু নিয়মগুলি মানলে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি তো হয়ই, সেই সঙ্গে অফিসে পদন্নতির সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

দেখুন দাদা খুব মাথায় গরম। আনাব-শানাব কথা বললে কিন্তু পেঁদিয়ে পেছন লাল করে দেব। জানেন আপনি, শনিবার নেই, রবিবার নেই নয় ঘন্টা, দশ ঘন্টা কাজ করে যেতে হয় অফিসে। কেন? টার্গেট অ্যাচিভ না করলে যে বছর শেষে মাইনে বাড়বে না। আর করলেও নানা অজুহাতে স্যালারি বাড়ে কয়েক সিকি মাত্র। এদিকে ম্যানেজারের হাতে অ্যাপেল ওয়াচ, পকেটে চল্লিশ হাজারি মোবাইল। আর আমাদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর সেদ্ধ ভাত খাওয়ার পর্যন্ত টাকা থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে আপনি বলছেন কয়েকটি বাস্তু নিয়ম মানলে নাকি পরিস্থিতি বদলে যাবে। বলুন তো এমন মানসিক পরিস্থিতিতে ভাল লাগে শুনতে এমন মজা!

না বন্ধু মজা করছি না। সত্যিই কিন্তু এই প্রবন্ধে আলোচিত বাস্তু নিয়মগুলি মানলে উপকার পাওয়া যায়। কী উপকার? প্রথমত অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি তো হয়ই, সেই সঙ্গে অফিসে পদন্নতির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ফলে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর শুধু হাতে টাকা থাকে না, বছরে একবার সিমলা-কুলু মানালি ট্যুর পর্যন্ত নিশ্চিত হয়ে যায়। তাই তো বলি বন্ধু, বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন হোক, এমনটা যদি চান, তাহলে এই প্রবন্ধটি পড়তে ভুলবেন না যেন!

প্রসঙ্গত, যে যে বাস্তু নিয়মগুলি মানলে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বাড়তে সময় লাগে না, সেগুলি হল...

১.সোপিস যাতে রয়েছে জল:

১.সোপিস যাতে রয়েছে জল:

খেয়াল করে দেখবেন আজকাল বেশ সুন্দর দেখতে ছোট ছোট সব ফাউন্টেন পাওয়া যায়। এমন শোপিস কিন্তু ভুলেও বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রাখবেন না যেন! কারণ এমনটা না করলে নাকি অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, নানা কারণে ধার-দেনাও বাড়তে শুরু করে। ফলে সুখ-শান্তি দূরে পালাতে সময় লাগে না।

২.লকার বা টাকার আলমারি:

২.লকার বা টাকার আলমারি:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে টাকার ব্যাগ অথবা যে লকারে টাকা রাখেন তা বাড়ির দক্ষিণ দিকে নয়তো দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রাখে উচিত, যাতে লকারটা উত্তর দিকে মুখ করে খোলে। আসলে উত্তর দিকেই ধন দেবতা কুবের নিজ আসন পাতেন। তাই তো উত্তর দিকে মুখ করে টাকার ব্যাগ বা লকার রাখলে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না।

৩. আয়নার যাদু:

৩. আয়নার যাদু:

শুনতে আজব লাগতে পারে। কিন্তু বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এই আয়নার ট্রিকটা নাকি টাকা-পয়সা সংক্রান্ত উন্নতির পথকে প্রশস্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে যেখানে টাকার ব্যাগ বা পয়সা রাখেন, তার ঠিক সামনে একটা আয়না ফিট করে দিতে হবে। এমনটা করলেই নাকি ব্যাংক ব্যালেন্স দ্বিগুণ মাত্রায় বেড়ে যেতে সময় লাগে না।

৪. বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ:

৪. বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ:

বাস্তু শাস্ত্র অনুসারে বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিক থেকে কুবের দেবতার আগমণ ঘটে। তাই তো এই নির্দিষ্ট দিকটা যতটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, এদিকে কোনও ভারি আসবাব পত্র রাখবেন না। আসলে এই নিয়মগুলি মানলে গৃহস্থে কুবের দেবের প্রবেশ ঘটতে সময় লাগে না। ফলে দেবের আশীর্বাদে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটার সম্ভাবনা যায় বেড়ে।

৫. দক্ষিণ কোণে বড় বড় গাছ লাগাতে হবে:

৫. দক্ষিণ কোণে বড় বড় গাছ লাগাতে হবে:

এমন বিশ্বাস রয়েছে, যে বাড়ির দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বড় বড় গাছ রয়েছে, সেই পরিবারের কারোরি কোনও ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন থাকে না, তেমনি দুর্ভাগ্য পিছু নেওয়ার সম্ভাবনাও যায় কমে। ফলে অনেক খাটার পরেও মাইনে তেমন একটা না বাড়ার মতো ঘটনা পুনরায় আর ঘটে না।

৬. বাড়ির জানলা-দরজা:

৬. বাড়ির জানলা-দরজা:

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বাড়ি-ঘর নিয়মিত পরিষ্কার না করলে মা লক্ষ্মী গৃহস্থ ত্যাগ করেন, সেই সঙ্গে ধন দেবতাও লেজুড় হন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় বেড়ে। তাই তো বলি বন্ধু, মা লক্ষ্মী এবং কুবের দেবের নেক নজরে থাকতে একদিন অন্তর একদিন ভালো করে বাড়ি-ঘর পরিষ্কার করতে ভুলবেন না যেন!

৭. কল থেকে যেন টিপ টিপ করে জল না পরে:

৭. কল থেকে যেন টিপ টিপ করে জল না পরে:

বাড়ির কোনও কল থেকে যদি টিপ টিপ করে জল পরতে শুরু করে, তাহলে চটজলদি সেই কলটা চেঞ্জ করে নিতে ভুলবেন না যেন! কারণ এমনভাবে জল পরতে থাকলে নাকি টাকা-পয়সা সংক্রান্ত নানা ঝামেলা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে এতদিন সঞ্চয় করা টাকাও নাকি জলের মতো বেরিয়ে যায়।

৮. অ্যাকুরিয়াম:

৮. অ্যাকুরিয়াম:

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বাড়ার উত্তর-পূর্ব কোণে যদি একটি অ্যাকুরিয়াম রাখা যায়, তাহলে নাকি বাস্তু দোষ কেটে যেতে সময় লাগে না। আর এমনটা যখন হয়, তখন যে শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে, এমন নয়, সেই সঙ্গে কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কাও যায় কমে।

৯. পাখির জন্য জল এবং খাবার রাখুন:

৯. পাখির জন্য জল এবং খাবার রাখুন:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে নিয়মিত পাখিদের জন্য জল এবং খাবার রাখলে গৃহস্থে পজেটিভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে গুড লাক রোজের সঙ্গী হয়ে ওঠে। ফলে মনের ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূরণ হতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি অর্থনৈতিক উন্নতিও ঘটে চোখে পরার মতো।

১০. মানি প্লান্ট:

১০. মানি প্লান্ট:

বাস্তু শাস্ত্র নিয়ে যারা চর্চা করেন, তাদের মতে বাড়ির পূর্ব দিকে একটা মানি প্লান্ট গাছ রাখলে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটতে নাকি সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, টাকাপয়সা সংক্রান্ত কোনও ধরনের ঝামেলায় জড়িয়ে পরার আশঙ্কাও যায় কমে। প্রসঙ্গত, মানি প্লান্টের পাশাপাশি যদি বেগুনি রঙের কোনও গাছ বাড়িতে রাখা যায়, তাহলে নাকি দারুন উপকার মেলে।

Story first published: Friday, September 28, 2018, 15:52 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion