পৃথিবীর এই জায়গাগুলিতে মৃত্যুর প্রবেশ নিষেধ!

Posted By:
Subscribe to Boldsky

কথায় আছে জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ নাকি আমাদের হাতে নেই। যখন কপালে লেখা আছে, তখন হবেই হবে। কিন্তু আপনি যদি ভুল বশত পৃথিবীর এই শহরগুলিতে জন্মে থাকেন তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ! কারণ এই শহরগুলিতে রীতিমতো আইন পাশ করে মৃত্যুর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাই তো এইসব জায়গায় বেরাতে গিয়ে আর যাই করুন ভুলেও মরে যাবেন না যেন! তাহলে কিন্তু...!

এতদূর পড়ার পর কি জানতে ইচ্ছা করছে কোন কোন জায়গায় এমন আজব রকমের আইন রয়েছে? তাহলে একবার উঁকি মারুন বাকি প্রবন্ধে। তাহলেই বুঝে যাবেন কোনও কোনও জায়গায় বুড়ো বয়সে ভুলেও যাওয়া চলবে না।

১.ইটসুকুসিমা:

১.ইটসুকুসিমা:

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়া জাপানের এই দ্বীপটিতে ইচ্ছা হলে বেরাতে যেতেই পারেন। কিন্তু কোনওভাবেই যোমরাজের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফিক্স করা চলবে না। কারণ একানকার বাসিন্দারা দ্বীপটিকে পবিত্র বলে মনে করেন। তাই এ জায়গায় কারও মৃত্যু হোক এমনটা তারা চান না। সেই কারণেই তো ১৮৭৮ সাল থেকে নিয়ম করে মৃত্যুর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সেখানকার সরকার।

২. সেলিয়া:

২. সেলিয়া:

ছবির মতো সুন্দর এই শহরটি ইতালিতে অবস্থিত। এখানে বড় জোর ৫৩৭ জনের বাস এবং সবারই বয়স ৬৫-এর কাছাকাছি। তাই তো এদের বেজায় চিন্তা! কারণ সরকার নিয়ম করে দিয়েছে রোগাক্রান্ত হওয়া একেবারেই চলবে না। আর রোগে ভুগে মৃত্যু তো একেবারে বেআইনি। তবে এখানেই থেমে থাকেননি সেখানকার মেয়ার। আরও একধাপ এগিয়ে আরেকটি নিয়ম পাশ করিয়ে নিয়েছেন। সেই নিয়ম অনুসারে এই শহরের বাসিন্দাদের বছরে একবার ফুল বডি চেকআপ করতেই হবে। আর যদি কেউ এমনটা না করেন তাহলে দিতে হবে ১০ ইউরো পর্যন্ত ফাইন।

৩. ল্য়ানজারন:

৩. ল্য়ানজারন:

৪০০০ মানুষের বাস হলেও স্পেনের এই শহরে একটিও শববাহী গাড়ির খোঁজ পাওয়া যায় না। কেন জানেন। কারণ এখানে যে কবরস্থানটি রয়েছে সেখানে আর মৃতদেহ কবর দেওয়ার জায়গা নেই। তাই কোনও উপায় না পেয়ে সরকার এ শহরের বাসিন্দাদের সেখানে মরতে মানা করে দিয়েছেন। ভলেও যাতে ল্য়ানজারন শহরে কেউ মারা না যান, তা সুনিশ্চিত করতে বিশেষ আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। ভাবুন কান্ড!

৪. লংগিয়ারবেন:

৪. লংগিয়ারবেন:

এখানে একেবারে এক অন্য কারণে মৃত্যুর উপর নিষেধাক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসলে নরওয়ের এই শহরটিতে প্রায় সারা বছরই প্রচন্ড ঠান্ডা থাকে। ফলে কেউ মারা গেলে তার মৃত দেহ ডিকম্পোস হতেই চায় না। এমনকী কবরস্থ করার পরেও শরীর একেবারে যেমনকার তেমন থেকে যায়। এদিকে মৃতদেহে বাসা বাঁধতে শুরু করে একাধিক জীবাণু, যা একেক সময় সুস্থ মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পরে মহামারির আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। যেমন ১৯১৭ সালে এই জায়গার বেশিরভাগ মানুষই ইনফ্লয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর এই ভাইরাসটা এসেছিল একজন মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে। তাই যারা বেঁচে আছেন তাদের যাতে কোনও রকমের রোগ না হয়, সে বিষয়টা সুনিশ্চিত করতেই লংগিয়ারবেন শহরে মৃত্যুর প্রবেশ মানা।

ফ্য়ালসিয়ানো ডেল মেসিকো:

ফ্য়ালসিয়ানো ডেল মেসিকো:

স্পেনের ল্য়ানজারন শহরের মতোই অবস্থা হয়েছে ইতালির এই শহরটিরও। এখানেও মৃতদেহ কবর দেওয়ার আর কোনও জায়গা নেই। ফলে যতদিন না পর্যন্ত নতুন জায়গার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন সবার মৃত্যুর উপর দারি লাগিয়ে দিয়েছেন ফ্য়ালসিয়ানো ডেল মেসিকো শহরের মেয়র।

সার্পিউরেক্স:

সার্পিউরেক্স:

যে কবরস্থানটি আছে সেটি আর আয়তনে বাড়ানো চলবে না। আদালতের এমন নির্দেশের পর ছবির মতো সুন্দর ফ্রান্সের সার্পিউরেক্স শহরের মেয়র কিছুটা বাধ্য হয়েই সেখানকার বাসিন্দাদের মরে যেতে মানা করেছেন। আরে উনি বললেন, আর কেউ মরল না, এমনটা তো হতে পারে না। তাই তো এই বিষয়ে বিশেষ আইনও পাশ করা হয়েছে।

বিরিটিবা-মিরিন:

বিরিটিবা-মিরিন:

জায়গা না থাকলে কী করা যাবে! তাই তোনও উপায়া না পেয়ে বিরিটিবা-মিরিন শহরের বাসিন্দাদের সে জায়গায় মরতে মানা করেছেন ব্রাজিলের সরকার।

লা-ল্যাভেনডিউ:

লা-ল্যাভেনডিউ:

পাহাড়-পর্বতে ঘেরা ফ্রান্সের এই শহরটির মেয়র সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমুদ্রের ধারে কবরস্থান বানানো চলবে না। এদিকে পুরনো কবরস্থানে আর জায়গা নেই। তাই তিনি একটি আইন জারি করেছেন, তাতে বলা হয়েছে অন্য কোনও দেশ থেকে কেউ এই শহরে বেরাতে এসে যদি মারা যান, তাহলে তার মৃতদেহ তার দেশে পিঠিয়ে দেওয়া হবে। ভুলেও লা-ল্যাভেনভিউ শহরে তাকে কবর দেওয়া চলবে না।

কগনক্স:

কগনক্স:

যতদিন না পর্যন্ত খালি পরে থাকা একটি ছোট বিমান বন্দরকে কবরস্থানে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ততদিন পর্যন্ত কগনক্স শহরের বাসিন্দাদের মরতে মানা ছিল। ভাবুন একবার, তখন যদি কারও মৃত্যু ঘটত, তাহলে কী হত!

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: জীবন বিশ্ব
    English summary

    কথায় আছে জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ নাকি আমাদের হাতে নেই। যখন কপালে লেখা আছে, তখন হবেই হবে। কিন্তু আপনি যদি ভুল বশত পৃথিবীর এই শহরগুলিতে জন্মে থাকেন তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

    When a person dies, there is a lot that is left behind by him. As we all know that death is inevitable, there are few meddling humans who have passed laws in certain places which prohibits a person from dying.
    Story first published: Friday, June 23, 2017, 15:47 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more