জামাইষষ্ঠী নাকি অরণ্যষষ্ঠী? জেনে নিন এর পিছনে লুকিয়ে থাকা অজানা ইতিহাস

By Bhagysree Sarkar

গায়ে নতুন পোশাক, সুগন্ধি। হাতে মিষ্টির হাঁড়ি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে জামাই আপ্যায়ণের রীতির সঙ্গে বাঙালিরা ওতোপ্রোতোভাবে পরিচিত। দুপুরে খাবার থালায় সাজানো রকমারি পদ। ইলিশ-চিংড়ি থেকে শুরু করে মাংস কষা, থরেথরে সাজানো সব সুস্বাদু খাবার। শেষপাতে আবার মিষ্টি। প্রতিবছর শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে জামাইষষ্ঠী পালন করা হয়। অনেকেই এই দিনটিকে অরণ্য ষষ্ঠীও বলেন। এবছর জুন মাসের ১২ তারিখে পালিত হবে জামাইষষ্ঠী। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ সাল। কিন্তু জানেন কীভাবে এই প্রথা শুরু হয়েছিল?

হিন্দু সনাতন ধর্ম মতে, জামাইষষ্ঠী আসলে একটি লোকায়ত প্রথা। ষষ্ঠীদেবীর পার্বণ থেকেই এই প্রথার সূচনা ঘটে। বৈদিক সমাজ থেকে জামাইষষ্ঠী পালন করার রীতি-নীতি মেনে। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের ষষ্ঠী তিথির প্রথম প্রহরে ষষ্ঠীদেবীর পুজোর আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস, ষষ্ঠীদেবী মাতৃত্বের প্রতীক, তাঁর বাহন বিড়াল। সাধারণত, সন্তানের কল্যাণ ও সংসারের সুখ-শান্তি বজায় রাখতেই এই পুজো করা হয়ে থাকে। বর্তমানে যে পরিবারে সদ্য বিবাহিতা কন্যা রয়েছে, সেখানে তো ঘটা করে পালন করা হয় এই পার্বণ।

লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, এক গৃহবধূ স্বামীগৃহে নিজে মাছ চুরি করে খেয়ে দোষ দিয়েছিল বিড়ালের উপর। এরপর হঠাৎই একদিন তাঁর সন্তান হারিয়ে যায়। এই ঘটনা ওই নারীর পাপের ফল বলে মনে করা হয়। এরপর তিনি বনে গিয়ে ষষ্ঠীদেবীর আরাধনা শুরু করেন। তাঁর আরাধনায় দেবী তুষ্ট হন। এরপর তিনি তাঁর সন্তানকে সেই বনেই ফিরে পান। তখন থেকেই ষষ্ঠীদেবীর অপর নাম অরণ্যষষ্ঠী বলা হয়।

এদিকে মাছ চুরি করে খাওয়ার অপবাদে মেয়েটির শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁর পিতৃগৃহে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এমত অবস্থায় মেয়েকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন তাঁর মা-বাবা। সেই সময় ষষ্ঠীপুজোর দিন মেয়ে-জামাইকে সাদরে নিমন্ত্রণ জানান তাঁরা। পুজোর দিনে সস্ত্রীক জামাই শশ্বরবাড়িতে উপস্থিত হলে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় পরিবারে। আর সেই থেকেই ষষ্ঠীপুজো রূপান্তরিত হয় জামাইষষ্ঠীতে। যা আজীবন পালন করে আসছেন বাঙালিরা।

Story first published: Saturday, June 8, 2024, 18:18 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion