৯৭ নট আউট!!!

তখন কজিমের বয়স ৪১ কি ৪২। হঠাৎই এক অ্যাক্সিডেন্টে কোমরে মারাত্মক চোট পেলেন। শরীরের নিচের অংশ একেবারে পঙ্গু হয়ে গেল। এবার কী হবে?

By Nayan

কাজিম গর্বুজ। মানুষটা নম্বইয়ের কোটা পেরিয়েছে। তবু যৌবন যেন তাঁর সঙ্গ ছাড়েনি। এখনও চুটিয়ে চলছে ব্যাটিং...আর এই ব্যাটিং সহজে থামবে না। আরও কয়েক দশক তিনি নাকি এমনভাবেই কাটিয়ে দেবেন। মানে! কয়েক দশক পেরতে পারলে তো বয়স ১৩০ পেরবে! একেবারেই! তাঁর বিশ্বাস মানুষ চাইলেই নাকি এত দূষণ-রোগের মাঝেও কম করে ১৩০ বছর বাঁচতে পারে। শুধু চাই নিয়মানুবর্তিতা আর যোগাসনের সঙ্গে বন্ধুত্ব। তাহলেই কেল্লাফতে!

কীভাবে সম্ভব সেঞ্চুরের গণ্ডি পেরনো? তুর্কির বিখ্যাত এই যোগগুরুর মতে, শরীর থাকতে থাকতে যোগাসন শুরু করতে হবে। তাহলেই শরীর এবং মস্তিষ্কের বয়স যাবে কমে, বাড়বে আয়ু, আর রোগ পালাবে দিগন্ত পারে! এটা য়ে শুধু কতার কথা নয়, বাস্তবেও যে এমনটা সম্ভব, তা কাজিম তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করে চলেছেন। সেই ১৯৬৮ সালে, ৪৮ বছর বয়সে যোগাসন শুরু। এখন বয়সের কাঁটা ৯৭ পেরিয়েছে। তবু তাঁকে দেখে এক মূহুর্তের জন্যও বোঝা সম্ভব নয় যে শরীরের বয়স এতটা বেড়েছে। চাইলে আপনিও কিন্তু সময়কে একইভাবে থমকে দিতে পারেন। ইচ্ছা হলে এই অপরূপ সন্দর নীল গ্রহে আরও, আরও অনেক বছর পেরতে পারেন। শুধু তার জন্য় চোখ রাখতে হবে এই প্রবন্ধে। তাহলেই দেখবেন জীবনে গেছে পাল্টে।

শুরুর দিনের গল্প:
তখন কজিমের বয়স ৪১ কি ৪২। হঠাৎই এক অ্যাক্সিডেন্টে কোমরে মারাত্মক চোট পেলেন। শরীরের নিচের অংশ একেবারে পঙ্গু হয়ে গেল। এবার কী হবে? সারা জীবন কী এমন ভাবেই অসহায় হয়ে পরে থাকতে হবে! না পঙ্গুত্ব কাজিমকে হারিয়ে দিতে পারেনি। সে এক বন্ধুর সহযোগিতায় প্রথমে ভাটিব্রা বোনকে ঠিক ছায়গায় প্রতিস্থাপন করল। তারপর থেকে আস্তে আস্তে শরীর ফিরে পেতে শরু করল হারিয়ে যাওয়া শক্তি।

শুরুর দিনের গল্প:

শুরুর দিনের গল্প:

তখন কজিমের বয়স ৪১ কি ৪২। হঠাৎই এক অ্যাক্সিডেন্টে কোমরে মারাত্মক চোট পেলেন। শরীরের নিচের অংশ একেবারে পঙ্গু হয়ে গেল। এবার কী হবে? সারা জীবন কী এমন ভাবেই অসহায় হয়ে পরে থাকতে হবে! না পঙ্গুত্ব কাজিমকে হারিয়ে দিতে পারেনি। সে এক বন্ধুর সহযোগিতায় প্রথমে ভাটিব্রা বোনকে ঠিক ছায়গায় প্রতিস্থাপন করল। তারপর থেকে আস্তে আস্তে শরীর ফিরে পেতে শরু করল হারিয়ে যাওয়া শক্তি।

এরপরই শুরু হল এক্সপেরিমেন্ট:

এরপরই শুরু হল এক্সপেরিমেন্ট:

ভাটিব্রা সস্থানে ফিরলেও শরীর যেন কিছুতেই সুর-তালে ফিরছিল না। আজ এই চিকিৎসা, তো কাল ওই চিকিৎসা করে কাজিম চেষ্টার অন্ত রাখেনি। এক সময়ে গিয়ে তো নিজের শরীরের উপর প্রায় ৬৩ রকমের চিকিৎসা করে ফেলেছিল নিজের উপর। তবু যেন পরিস্থিতি যে কে সেই! তবু মনের জোর হরালেন না। চললো প্রচেষ্টা। দেখতে দেখতে ৯ মাস কেটে গেল। আমি হাঁটতে পারবই! এমন মনের জোরকে সম্বল করে সত্যিই একদিন উঠে দাঁড়ালেন কাজিম গর্বুজ। এ প্রসঙ্গে একদিন তিনি বলেছিলেন, "মানব মস্তিষ্কে একটা পরমানু বোমা পয়েছে। কেউ যদি এই শক্তিকে ঠিক মতো কাজে লাগাতে পারে তাহলে পেশি এভং নার্ভের জালেরা শক্তি ফিরে পাবেই। এমনকি মরে যাওয়া কোনও অঙ্গও পুনরায় জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে।"

অবিশ্বাস বিশ্বাসের হাত ধরে:

অবিশ্বাস বিশ্বাসের হাত ধরে:

হাঁটার শক্তি ফিরে পাওয়ার পর শুরু হল একটু নতুন অভিযান। এই অভিযান নিজেকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযান। কিন্তু কী করে সম্ভব হবে এমনটা? এক বন্ধু জানালেন যোগাসনে অনেক শক্তি আছে। একবার পরখ করে দেখা যেতে পারে। শুরু হল সেই চেষ্টাও। তারপর আর কাজিমকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ভাঙাচোরা শরীরটা যে শুধু তরতাজা হয়ে উঠেছে, এমন নয়, সেই সঙ্গে শারীরিক ক্ষমতাও মারাত্মক বৃদ্ধি পয়েছে। তাই তো এক সময়ে পঙ্গু হয়ে যাওয়া কাজিম আজ টানা ৪৮ ঘন্টা "নট পজিশন"এ থাকতে পারেন। পারেন ৪-৫ মিনিট শ্বাস বন্ধ করে থাকতেও। আর এই সবই সম্ভব হয়েছিল যোগাসনের শক্তিবলে।

জীবনের মন্ত্র:

জীবনের মন্ত্র:

পুষ্টিকর খাওয়া-দাওয়া, সেই সঙ্গে শরীরের সচলতা বজায় রাখতে যোগাসন, এই নিয়ম মেনে যদি কেউ জীবন অতিবাহিত করতে পারে, তাহলে হাসতে হাসতে কম করে ১০০ বছর বেঁচে থাকা সম্ভব। কাজিমের এখন বয়স ৯৭। হয়তো সেও একদিন এই মাইল ফলক ছোঁবে। সেদিন হয়তো আরেকবার সমগ্র বিশ্ব যোগাসনের ম্যাজিক দেখবে কাজিম গর্বুজের হাত ধরে।

কোনও কিছুই অসম্ভব নয়:

কোনও কিছুই অসম্ভব নয়:

ভাববেন না বাড়িয়ে বলছি! সত্যিই কিন্তু অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন কাজিম। যোগাসনকে সঙ্গী করে জীবন কাটানো এই মানুষটার ফিটনেস দেখলে, শরীরের ভাষা দেখলে কারও মনে সন্দেহ থাকবে না যে অসম্ভবও কোনও কোনও সময় সম্ভবের হাত ধরে পৃথিবীর আলো দেখে।

ডায়েট সিক্রেট:

ডায়েট সিক্রেট:

যে কোনও মানুষেরই সুস্থ থাকার পিছনে তার খাওয়া-দাওয়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রেও কোনও ব্যতিক্রম দেখা যায় না। কাজিম গর্বুজের দীর্ঘায়ুর পিছনে যোগাসনের যতটা ভূমিকা রয়েছে, ততটাই রয়েছে ডায়েটেরও। কী খান ৯০ পেরনো এই যুবক? মাংস একেবারে মুখে তোলেন না কাজিম। তবে প্রতিদিনের ডায়েটে থাকে প্রচুর পরিমাণে সবজি, ফল, অলিভ, লঙ্কা, হার্বাল টি, বিনস এবং মধু। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে জলপান তো আছেই।

শুধু যোগ গুরু নন, আরও আনেক কিছু...

শুধু যোগ গুরু নন, আরও আনেক কিছু...

যোগাসন শেখানোর পাশাপাশি যখনই ফ্রি সময় পান, তখনই বেরিয়ে পরেন মধু সংগ্রহ করতে। এমনটা করার পিছনে আসলে কাজিমের নিজেরও একটা স্বার্থ আছে। কি সেই স্বার্থ? দিনে কাজিম প্রায় হাফ বোতল মধু খেয়ে থাকেন। তাই তো সময় পেলেই মধু সংগ্রহ করতে ভালবাসেন এই "তরুন" যোদ্ধা।

হিংসা হওয়ারই কথা!

হিংসা হওয়ারই কথা!

৫০ পরতে না পরতেই যেখানে সিংহভাগ মানুষ সামনে ঝুঁকে পরেন। সকাল-বিকাল মুঠো মুঠো ওষুধ খেয়ে শেষ দিনের অপেক্ষা কোনও মতে বেঁচে থাকেন, সেখানে কাজিম গর্বুজ এই ৯৭ তেও তরুণ। তাই একটু হিংসা তো হতেই পারে। তবে চাইলে কিন্তু আপনি আরেক কাজিম গর্বুজ হয়ে উঠতে পারেন। কী বলেন শুরু করবেন নাকি যোগা?

Story first published: Wednesday, July 26, 2017, 13:10 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion