নেতাজী নাকি নেহরু? ভগৎ সিং এর দৃষ্টিতে সেরা বিপ্লবী কে?

দেশের জন্য যে সব মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম - ভগৎ সিং, রাজগুরু এবং সুখদেব। ১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ অর্থাৎ আজকের দিনেই দেশের তিন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর মৃত্যু হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ফাঁসিতে ঝোলায় তাঁদের। হাসিমুখে দেশের জন্য ফাঁসির দড়ি গলায় পরেন সকলে। সেই থেকেই ২৩ মার্চ দিনটি ভারতে শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ভারতমাতার অমর সন্তান শহীদ ভগৎ সিং-এর অসামান্য জীবন কাহিনী যুগ যুগ ধরে দেশের আপামর যুব সমাজকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। অগণিত ভারতীয়দের হৃদয়ে গর্ব হয়ে চিরকাল বিরাজমান থাকবেন তিনি।

কিন্তু জানেন কি ভগৎ সিং নেতাজী ও নেহরুর সম্পর্কে কী ভাবতেন? ভগৎ সিং এর আদর্শ কারা ছিলেন? সুভাষ চন্দ্র বসু নাকি জওহরলাল নেহেরু? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

Netaji or Nehru? Who was the greater revolutionary according to bhagat singh?

১৯২৮ সালে, 'Kirati' পত্রিকায় 'Naye netaon ke alag-alag vichar' শিরোনামে ভগৎ সিং-এর একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২১। এই নিবন্ধে তিনি নেতাজী ও জওহরলাল নেহরুর মতামতের তুলনা করেছিলেন।

তখন অসহযোগ আন্দোলনের ব্যর্থতায় চারিদিকে বিষাদের পরিস্থিতি। হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে ভারতীয়দের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। সেই সময় পাঞ্জাবের তরুণদের রাজনৈতিক পথ বেছে নিতে সাহায্য করার জন্যই ভগত সিং লিখেছিলেন এই নিবন্ধটি।

এই নিবন্ধে ভগৎ সিং নেতাজীকে একজন আবেগপ্রবণ বাঙালী হিসেবে দেখিয়েছেন, যিনি ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতির একজন ভক্ত। আর নেহেরুকে একজন আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন নেতা বলে অভিহিত করেছেন।

ভগত সিং-এর দৃষ্টিতে, সুভাষচন্দ্র বসু নরম হৃদয় এবং রোমান্টিক চিন্তাধারার মানুষ। আর নেহেরু একজন বিপ্লববাদী। তিনি বলেছেন, এই দু'জন ব্যক্তি পূর্ণ স্বরাজের সমর্থক, কিন্তু তাঁদের চিন্তাধারায় বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।

সুভাষ চন্দ্র বসু ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা চান কারণ তাঁরা পশ্চিমী সভ্যতার এবং আমরা প্রাচ্যের। জওহরলাল নেহেরু স্বাধীনতা চান কারণ, স্ব-শাসনের মাধ্যমে আমরা আমাদের সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে পারি। নেহরুর মতে, সামাজিক পরিবর্তনের জন্য আমাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা এবং স্ব-শাসন প্রয়োজন।

ভগৎ সিং বলেছেন, সুভাষ চন্দ্র বসুর কাছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্ব কেবলমাত্র ভারতের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, নেহেরু জাতীয়তাবাদের সংকীর্ণ গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আন্তর্জাতিকতা নামক মুক্ত মঞ্চে এসেছেন।

ভগত সিং নেতাজীর জাতীয়তাবাদের চিন্তাধারায় প্রভাবিত হননি। বরং তিনি নেহেরুকে আরও চ্যালেঞ্জিং এবং সন্তোষজনক মনে করেছিলেন। তাঁর মতে, "পাঞ্জাবী যুবকদের বিপ্লবের প্রকৃত অর্থ বোঝার জন্য তাঁর (নেহরু) কাছে যাওয়া উচিত... তরুণদের উচিত তাঁদের চিন্তাভাবনাকে দৃঢ় করা যাতে তাঁরা এই পরাজয় ও হতাশার পরিবেশে বিচ্যুত না হয়।"

Disclaimer: এই আর্টিকেলটি সাধারণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। এখানে যে সব কথা বলা হয়েছে, তা যে পুরোপুরি সঠিক হবে, এমনটা দাবি করছে না বোল্ডস্কাই বাংলা।

X
Desktop Bottom Promotion