Neel Ranaut: প্রকৃতির জিনিস দিয়েই অভিনব কস্টিউম, ফ্যাশন দুনিয়ার এক অন্য নাম নীল

বেড়ে ওঠা ত্রিপুরার এক ছোট্ট গ্রামে। ছোটোবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল মডেল হওয়ার। কিন্তু দারিদ্রতাই সেই পথে মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে হার মানে নি সে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সবরকমভাবে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। বহু বাধা, বহু কটাক্ষকে জয় করে আজ তিনি সফল।

গতানুগতিক ভাবনা থেকে বেরিয়ে ফ্যাশনের এক অন্য দিক তুলে ধরেছেন নীল রানাউত। গাছের পাতা, ফুল দিয়ে খুব সহজেই বানিয়ে নেন বলিউড অভিনেত্রীদের পোশাকের আদলে নানা কস্টিউম। তাঁর এই অভিনব সব কস্টিউম আর মডেলিংয়ের ছবি ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপরই আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের হার না মানা লড়াইয়ের জেদ আজ তাঁকে পোঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে। চলুন, আজ তাঁর এই জীবন সংগ্রামের কিছু অজানা কথা জেনে নেওয়া যাক তাঁরই মুখ থেকে।

Neel Ranaut

প্রশ্ন: আসল নাম সর্বজিৎ সরকার। সেখান থেকে 'নীল রানাউত' কেন?

নীল: আমার নামটা একটু সেকেলে বলে মনে হতো। তাই সবসময়ই পরিবর্তন করতে চাইতাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলার পর নামটা চেঞ্জ করে ফেললাম। নীল আমার প্রিয় রং। আর কঙ্গনা রানাউত আমার প্রিয় অভিনেত্রী। দুই মিলিয়ে নীল রানাউত নামটা রাখা।

প্রশ্ন: ফ্যাশন বলতে ভিন্ন ধরনের পোশাক, জুয়েলারিই আমরা বুঝি। সব ছেড়ে একেবারে অন্যরকম এই ভাবনা কী ভাবে এলো?

নীল: খুব গরীব পরিবারে বেড়ে ওঠা আমার। কখনও ৫০০ টাকার উপরে শার্ট, প্যান্ট, জুতো পরা হয়ে ওঠেনি। তাছাড়া, সাধারণ পোশাক বরাবরই আমার তেমন একটা ভালো লাগতো না। কিন্তু ঠিক কি ভালো লাগতো সেটা বুঝতে পারতাম না। বিভিন্ন রঙের গাছের পাতা ও ফুল দেখে ভাবতাম এগুলো তো সাধারণ জামাকাপড়ের থেকেও বেশি সুন্দর। ব্যস, শুরু করে দিলাম প্রাকৃতিক জিনিস দিয়ে পোশাক বানানো। আর লোকে খুব পছন্দও করতে লাগলো আমার এই আইডিয়া।

প্রশ্ন: সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে এখন নামীদামী ফ্যাশন সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন। এই যে জার্নিটা, কেমন ছিল সেই পথ?

নীল: আমি বরাবরই আলাদা কিছু করতে চাইতাম। কিন্তু নিজেই জানতাম না যে আমি কোন কাজে সবচেয়ে ভালো। ছোটোবেলা থেকেই আমার মডেলিং-এর শখ। কিন্তু এত ছোটো গ্রামে থেকে এই ধরনের স্বপ্ন পূরণ করা অসম্ভব। প্রকৃতির জিনিস দিয়ে পোশাক বানাতে বানাতে হয়ে গেলো। তবে এটা সত্যি যে মুম্বইয়ে আমাদের কাজ কেউ দিতে চায় না। সেখানে খুব পার্শিয়ালিটি হয়। আমি যা কিছু করেছি সবটাই নিজের ক্ষমতায়। আর সেটা নিয়ে খুব গর্বিত বোধও করি।

প্রশ্ন: পথ চলা শুরু কী ভাবে? মানুষের কাছে প্রথম তোমার এই ভিন্ন আইডিয়া পৌঁছলো কী করে?

নীল: আগে থেকে কোনও পরিকল্পনা করে কিছু করি নি। আমি মজার ছলে ভিডিয়ো বানাতাম। কিন্তু লোকে আমার এই পাতার পোশাক, ফুলের পোশাকের ভিডিয়োগুলোই পছন্দ করতে শুরু করল। সকলের পজিটিভ কমেন্ট দেখে আমি আরও এই ধরনের পোশাক বানাতে শুরু করলাম।

মনে মনে এটা বিশ্বাস ছিলো যে কেউ না কেউ কোনওদিন আমাকে কাজ দেবে। আমার কাজকে চিনবে। তাই এখন মুম্বইয়ের ফ্যাশন ডিজাইনার আবু জানি-সন্দীপ খোসলার সঙ্গে কাজ করছি। ভগবান যা চায় সেটাই হয়। আমাদের শুধু নিজের কাজকে সম্মান করতে হবে।

প্রশ্ন: ফ্যাশন আইকন হিসেবে দীপিকা, সোনম কপূরকেই সবাই বেশি গুরুত্ব দেয়। সেই জায়গায় তোমার কাছে কঙ্গনা রানাওয়াত কেন?

নীল: কঙ্গনা রানাউত আমার প্রিয় অভিনেত্রী, ফ্যাশন আইকন নয়। কঙ্গনা আমার প্রিয় কারণ আমি তাঁর সঙ্গে নিজেকে কানেক্ট করতে পারি। উনি আজ যা হয়েছেন তা নিজের ক্ষমতাতেই।

প্রশ্ন: নিজের বানানো এই ইউনিক পোশাক উরফি জাভেদকেও পরিয়েছেন, সব হিরোইনদের ছেড়ে উনাকে কেনো বাছলেন?

নীল: উরফি জাভেদ একজন খুব ভালো এবং নম্র ব্যক্তি। উনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আমাকে বলেন যে উনি আমার সঙ্গে কাজ করতে চান। এখন উরফি আমার খুব ভালো বন্ধু। তাঁর পোশাক আমি খুব পছন্দ করি।

প্রশ্ন: উরফির ফ্যাশন সেন্সকে লোকে কটাক্ষ করে। সেই জায়গায় তোমার এই আইডিয়াকে লোকে কটাক্ষ করে না? অদ্ভুত কিছু বলে না?

নীল: আমার ফ্যাশন স্টাইলকে খুব কম লোকেই অপছন্দ করে। অধিকাংশ মানুষই প্রশংসা করে। কারণ আমি যা কিছু বানাই সেগুলো লোকে আগে কখনও দেখে নি। যে সব পাতা বা ফুল দিয়ে পোশাক বানাই, সেই পাতা এবং ফুল হয়তো মানুষ আগে দেখেছে, কিন্তু কখনও এটা কেউ ভাবতে পারে নি যে সেটা দিয়ে এত সুন্দর একটা পোশাক বানানো যেতে পারে।

প্রশ্ন: দীপাবলির জন্য ফ্যাশন নিয়ে নতুন কী কী ভাবনা রয়েছে?

নীল: কোনও ভাবনা নেই। আমি কিছু ভাবি না। এখন তো মুম্বইতে থাকি তাই প্রাকৃতিক জিনিস দিয়ে বেশি কিছু বানাতে পারি না। কিন্তু যখন গ্রামে যাই, তখন অনেক পোশাক একসঙ্গে বানিয়ে ফেলি।

X
Desktop Bottom Promotion