Rabindra Jayanti 2023: রবি ঠাকুরের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ৫টি রোমান্টিক উপন্যাস

বাংলা সাহিত্যের কথা বললে প্রথমেই উঠে আসে রবি ঠাকুরের নাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকর্ম ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর রচিত কাব্য, উপন্যাস, ছোটো গল্প, নাট্যসাহিত্য, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ, চিত্রকলা ও সঙ্গীতের মধ্যে। প্রায় দুই হাজার গান লিখেছিলেন তিনি। এ ছাড়াও, ১৩টি উপন্যাস, ৯৫টি ছোটো গল্প, ৩৬টি প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ এবং ৩৮টি নাটক রচনা করেছিলেন।

তিনি তাঁর লেখার মাধ্য়মে প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, বাস্তব চেতনা, সামাজিক ভেদাভেদ, রাজনৈতিক, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি তুলে ধরেছেন। প্রেম-ভালবাসা নিয়ে রবি ঠাকুর বেশ কয়েকটি উপন্যাস লিখেছেন। তার মধ্যে এখানে সেরা ৫টি প্রেমের উপন্যাসের কথা বলা হল, যেগুলি আমাদের মানব জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

rabindranath tagore novels

শেষের কবিতা
'শেষের কবিতা' বিংশ শতকের বাংলার নব শিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা। এই উপন্যাসের পটভূমি শিলং। উপন্যাসের নায়ক বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার অমিত রায় একজন প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত যুবক। একই সঙ্গে রোম্যান্টিকও। তর্কে প্রতিপক্ষকে হারাতে সিদ্ধহস্ত। শিলং-এ বেড়াতে গিয়ে মোটর-দুর্ঘটনায় পরিচয় হয় লাবণ্যের সঙ্গে। ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক প্রেম-ভালবাসায় পরিণত হয়। কিন্তু এরই মধ্যে একদিন বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো কেতকীর আগমন হয়। কেতকী দাবী জানায় সে অমিতের বাগদত্তা। ভেঙে যায় অমিত-লাবণ্যের প্রেম।

চোখের বালি
রবি ঠাকুরের লেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রেমের উপন্যাস 'চোখের বালি'। সংসারের সর্বময় কর্ত্রী মা, এক অনভিজ্ঞ বালিকাবধূ, এক বাল্য বিধবা ও তার প্রতি আকৃষ্ট দুই পুরুষকে কেন্দ্র করেই এই উপন্যাস। সম্পর্কের টানাপড়েন, সমাজ ও যুগযুগ ধরে চলে আসা সংস্কারের সঙ্গে ব্যক্তি জীবনের বিরোধ, এই গল্পে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। মূল চরিত্রগুলি হল - মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, বিনোদিনী, রাজলক্ষ্মী, অন্নপূর্ণা।

নৌকাডুবি
'নৌকাডুবি' উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলি হল - রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, নলিনাক্ষ ও অন্নদাবাবু।

রমেশের সঙ্গে তাঁর বন্ধু যোগেন্দ্রর বোন হেমনলিনীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু তাতে বাধ সাধে রমেশের পিতা। রমেশের জন্য তাঁর বাল্যবন্ধুর মেয়ের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেন তিনি। বাবার জেদের কাছে হার মেনে, বাবার পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করে রমেশ। বিয়ে করে নদীপথে ফেরার সময়ই ঘটে বিরাট দুর্ঘটনা। প্রচন্ড ঝড়ে ডুবে যায় বরযাত্রীর নৌকা। বলা যায় গল্পের শুরু এখানেই।

আকস্মিক দুর্ঘটনায় বরযাত্রীর সবাই মারা গেলেও, ভাগ্যগুণে বেঁচে ফেরে রমেশ ও তার সদ্য বিয়ে করা নতুন বউ কমলা। নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই চলছিল রমেশ-কমলার সংসার। কিন্তু একদিন রমেশ জানতে পারে কমলা তার বিয়ে করা স্ত্রী নয়। এখানেই আসে গল্পের নতুন মোড়। ধীরে ধীরে গল্পে যোগ হতে থাকে নতুন চরিত্র।

ঘরে বাইরে
রবি ঠাকুর ঘরে-বাইরে উপন্যাস রচনা করেন মূলত স্বদেশী আন্দোলনকে উপজীব্য করে। এই উপন্যাসে একদিকে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বাদেশিকতার সমালোচনা, অন্যদিকে আছে সমাজ ও প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নারী পুরুষের সম্পর্ক। জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নিখিলেশ-বিমলা-সন্দীপের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে রচিত ভিন্নধর্মী এক আখ্যান। রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনের দ্বন্দ্ব, এই দুই মিলে উপন্যাস।

যোগাযোগ
নায়ক ও নায়িকার ব্যাক্তিত্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে 'যোগাযোগ' উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। চট্টোপাধ্যায় পরিবারের বিপ্রদাস এক সময় অভিজাত ছিল। তবে এখন তার বৈভব পতনের দিকে। অন্যদিকে ঘোষাল পরিবারের মধুসূদন নব্য ধনী ও উদ্ধত। এই দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ নিয়েই এই উপন্যাস।

কুমুদিনী বিপ্রদাসের বোন এবং মধুসূদনের স্ত্রী। ফলে তাকে উভয় দিক সামলাতে হয়। বিয়ের পর একজন নারীকে কী ভাবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে শ্বশুর বাড়িতে থাকতে হয়, তা উঠে এসেছে এই উপন্যাসে।

কুমুদিনীর মনে স্বামী সম্পর্কে ধারণা হল স্বামী হবে দেবতুল্য, যাকে সে পূজা করবে। কিন্তু মধুসূদনের প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা প্রদর্শনে তার বিশ্বাস নড়েচড়ে যায়। বিয়ের পর কুমুদিনীর মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

X
Desktop Bottom Promotion