যাদের বাড়িতে আয়না আছে তারা এই লেখাটি না পড়লে কিন্তু ভুল করবেন...!

একটা আয়না যে আমাদের জীবনের ছবিটাকে কতটা বদলে দিতে পারে, তা বাস্তুশাস্ত্রের দিকে নজর ফেরালেই জানতে পারা যায়।

একটা আয়না যে আমাদের জীবনের ছবিটাকে কতটা বদলে দিতে পারে, তা বাস্তুশাস্ত্রের দিকে নজর ফেরালেই জানতে পারা যায়। প্রাচীন এই শাস্ত্রটি অনুসারে বাড়ির কোন জায়গায়, কেমন ধরনের আয়না রেখেছেন তার উপর নাকি আমাদের ভাল-মন্দ অনেকাংশেই নির্ভর করে থাকে। এমনকি বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে ঠিক ঠিক নিয়ম না মেনে যদি বাড়ির ইতিউতি আয়না লাগানো হয়, তাহলে নাকি মারাত্মক ক্ষতি পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই তো কী কী নিয়ম মেনে বাড়ির কোথায় কোথায়, কেমন ধরনের আয়না রাখা উচিত, সে সম্পর্কে জেনে না নিলে কিন্তু বিপদ!!!

তাই তো বলি বন্ধু, আয়নার কারণে মারাত্মক কোনও ক্ষতি হয়ে যাক, এমনটা যদি না চান, তাহলে যে যে নিয়মগুলি মেনে চলা জরুরি, সেগুলি হল...

১. অনেক অনেক টাকার মালিক হয়ে উঠতে:

১. অনেক অনেক টাকার মালিক হয়ে উঠতে:

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে অল্প সময়ে যদি প্রচুর টাকার মালিক হয়ে উঠতে চান, তাহলে যেখানে টাকা-পয়সা রাখেন, তার সামনে একটা আয়না রাখতে ভুলবেন না যেন! কারণ এমনটা করলে নাকি টাকার পরিমাণ বাড়তে সময় লাগে না।

২. বাড়ির মূল দরজার একেবারে সামনে আয়না রাখা চলবে না:

২. বাড়ির মূল দরজার একেবারে সামনে আয়না রাখা চলবে না:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে মূল ফটকের সামনে আয়না রাখলে গৃহস্থে প্রবেশ করতে চলা পজেটিভ শক্তি প্রতিফলিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়। ফলে বাড়ির প্রতিটি কোণায় পজেটিভ শক্তির জায়গায় বাড়াতে শুরু করে নেগেটিভ শক্তির প্রভাব। আর এমনটা হওয়ার কারণে নানাবিধ বিপদ ঘটার আশঙ্কা যে বেড়ে যায়, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

৩.আয়নার ধরণ:

৩.আয়নার ধরণ:

বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে বাড়িতে চৌকো নয়তো আয়তক্ষেত্রাকার আয়না রাখা উচিত। কারণ এমন ধরনের আয়না রাখলে গৃহস্থে পজেটিভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর এমনটা হওয়ার কারণে একাধিক উপকার পাওয়া সম্ভাবনাও যে বাড়ে, তা তো বলাই বাহুল্য! তবে এক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা হল আয়না ঝোলানোর সময় মাথায় রাখবেন তা যেন মাটি থেকে কম করে ৪-৫ ফুট উপরে হয় এবং আয়নাটা যেন ভুলেও ওভাল বা গোল আকারের না হয়।

৪. বাড়ির উত্তর এবং পূর্ব দিকের দেওয়াল:

৪. বাড়ির উত্তর এবং পূর্ব দিকের দেওয়াল:

বিশেষজ্ঞদের মতে আয়না, কাঁচের সোপিস এবং ঘড়ি সব সময় বাড়ির উত্তর বা পূর্ব দিকের দেওয়ালে ঝোলানো উচিত। কারণ এমনটা করলেই নাকি সবথেকে বেশি মাত্রায় সুফল পাওয়া যায়।

৫.অ্যাকুরিয়াম:

৫.অ্যাকুরিয়াম:

বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে অ্যাকুরিয়ামও কিন্তু একটা কাঁচের জিনিস, তাই বাড়িতে এটি রাখার সময় বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন রয়েছে। যেমন ধরুন- বাড়ির উত্তর বা পূর্ব দিকে অ্যাকুরিয়াম রাখা উচিত। কারণ এমনটা করলে গৃহস্তে পজেটিভ শক্তির মাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি সুখ-সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগে পরিবারে। প্রসঙ্গত, এই নিয়মটি মেনে যদি অ্যাকুরিয়াম না রাখেন, তাহলে কিন্তু বিপদ। কারণ সেক্ষেত্রে নেগেটিভ এনার্জির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে নানাবিধ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কিন্তু বেড়ে যেতে পারে।

৬. টিভি:

৬. টিভি:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে বাড়ির উত্তর দিকে সব সময় টিভি রাখা উচিত। আর যদি এমনটা সম্ভব না হয়, তাহলে পূর্ব দিকে রাখলেও চলবে। তবে যখন টিভি দেখবেন না, তখন টিভি স্ক্রিনটা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে ভুলবেন না যেন!

৭. ড্রেসিং টেবিল:

৭. ড্রেসিং টেবিল:

খেয়াল করে ট্রেসিং টেবিল সব সময় খাটের পাশে রাখবেন। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয়, এই জায়গায় ড্রেসিং টেবিল রাখাটা বেজায় শুভ।

৮. খাবার টেবির এবং আয়না:

৮. খাবার টেবির এবং আয়না:

যদি সম্ভব হয় তাহলে খাবার টেবিলের সামনে একটা আয়না রাখতে ভুলবেন না যেন! কারণ এমনটা করলে নাকি কেনও দিন খাবারের অভাব যেমন হয় না, তেমনি টাকা-পয়সা সংক্রান্ত নানা ঝামেলা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সম্ভাবনাও যায় কমে।

৯.শোওয়ার ঘরে আয়না:

৯.শোওয়ার ঘরে আয়না:

ড্রেসিং টেবিল ছাড়া শোওয়ার ঘরে আয়না রাখলে খেয়াল রাখবেন ঘুমনোর সময় শরীরের কোনও না কোনও অংশ যেন সেই আয়নার দেখা যায়। আর যদি এমনটা না হয়, তাহলে কিন্তু ভিষণ বিপদ। কারণ এক্ষেত্রে নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় বেড়ে।

১০. বাড়ির পশ্চিম দেওয়াল:

১০. বাড়ির পশ্চিম দেওয়াল:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে বাড়ির এই নির্দিষ্ট দেওয়ালে আয়না ঝোলালে নানবিধ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন বাড়ে, তেমনি বাচ্চাদের নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যায় বেড়ে। তাই সাবধান বন্ধু সাবধান...!

১১. সিঁড়ির সামনে:

১১. সিঁড়ির সামনে:

বাড়িতে সাঁড়ির সামনে ভুলেও কখনও আয়না রাখতে যাবেন না যেন! কারণ এমনটা করলে নেগেটিভ শক্তির মাত্রা তো বৃদ্ধি পাবেই, সেই সঙ্গে বাস্তু দোষ দেখাও দিতে পারে। আর একবার এমনটা হলে হাজারো সমস্যায় জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে কিন্তু সময় লাগবে না। তাই এই বিষয়টা খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে সিঁড়ি হল বাড়ির বাস্তুর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই তো বাড়ির কোন অংশে সিঁড়ি বানানো উচিত বা সিঁড়ি সংলগ্ন জায়গায় কীকী রাখা যেতে পারে, সে সম্পর্কে জেনে নেওয়াটা কিন্তু একান্ত প্রয়োজন।

Story first published: Friday, November 23, 2018, 12:44 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion