কোভিডের কাছে হার মানলেন ‘উড়ন্ত শিখ’ মিলখা সিং, রইল তাঁর জীবনের কিছু অজানা তথ্য

দর্শক ভর্তি ময়দান। ট্র্যাকে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবের এক তরুণ তুর্কি। ইশারা মেলা মাত্রই মুহুর্তের মধ্যে ছুটে বেরিয়ে গেলেন তাঁর লক্ষ্যের দিকে। ফিরলেন জয়ের হাসি নিয়ে। তিনি আর কেউ নন, ক্রীড়া জগতের অন্যতম নক্ষত্র মিলখা সিং। যাঁকে গোটা বিশ্ব চেনে 'ফ্লাইং শিখ' নামে। দৌড়ের মাধ্যমেই তিনি বিশ্ব দরবারে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তাঁর দৌড়োনোর গতি দেখে পাকিস্তানের প্রাক্তন ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান নাম দিয়েছিলেন 'ফ্লাইং শিখ'।

facts about Milkha Singh

কিন্তু করোনার কাছেই হার মানলেন 'ফ্লাইং শিখ' মিলখা। শুক্রবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই দৌড়বিদ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তিনি কেবল একজন বিখ্যাত অ্যাথলেটই ছিলেন না, একজন দুর্দান্ত মানুষও ছিলেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক তাঁর জীবনের কিছু অজানা কথা।

১) ১৯২৯ সালের ২০ নভেম্বর পাকিস্তানের গোবিন্দপুরায় জন্ম হয় মিলখা সিং-এর। দেশভাগের সময় দাঙ্গায় পরিবারের অনেকেই মারা যান। সেই সময় পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে আসেন দিদির কাছে।

২) মিলখা সিং ১৯৫২ সালে ভারতীয় সেনায় সুযোগ পান। তখন তাঁর মাইনে ছিল ৩৯ টাকা ৮ আনা।

৩) ১৯৫৬ সালে মেলবোর্নে প্রথম অলিম্পিক্সে নামেন তিনি, কিন্তু প্রথম পর্বেই ছিটকে যান।

৪) ১৯৫৮ সালের কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন মিলখা সিং। সেটাই ছিল স্বাধীন ভারতে কোনও ভারতীয় অ্যাথলিটের প্রথম সোনা জয়। ৪০০ মিটার দৌড় জয়ের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু তাঁকে কিছু পুরষ্কার চাওয়ার জন্য বলেন, তিনি কেবল এক দিনের জন্য 'জাতীয় ছুটি' চেয়েছিলেন।

৫) ১৯৬০ সালে রোম অলিম্পিক্সে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন মিলখা, একটুর জন্য পদক পাননি। তবে জাতীয় রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি।

৬) ১৯৯৯ সালে, মিলখা সিং কার্গিল যুদ্ধে শহীদ হওয়া বিক্রম সিং-এর সাত বছরের ছেলেকে দত্তক নিয়েছিলেন।

৭) নিজের সমস্ত পদক, ট্রফি দান করে দিয়েছেন এই দৌড়বিদ। পাটিয়ালার একটি যাদুঘরে রাখা আছে সেই সমস্ত পুরস্কার।

৮) বিনা টিকিটে ট্রেনে যাত্রার জন্য জেলেও যেতে হয়েছিল মিলখাকে এবং তাঁকে ছাড়িয়ে আনার জন্য গয়না বিক্রি করতে হয়েছিল মিলখার দিদিকে।

৯) মিলখা সিং শেষ অবধি স্পোর্টস ওয়ার্ল্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি পাঞ্জাব সরকারের অধীনে ক্রীড়া পরিচালক হিসেবে কাজ করার সময় অসংখ্য তরুণ ক্রীড়াবিদকে গাইড করেছিলেন।

১০) ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত 'মিলখা সিং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট', সেই তরুণ ক্রীড়াবিদদের সহায়তা করছে যাঁদের কাছে ক্রীড়া সংস্থান নেই।

১১) ২০১৩ সালে তাঁর জীবনী নিয়ে বলিউডে 'ভাগ মিলখা ভাগ' নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছিল।

১২) মিলখা সিং তাঁর আত্মজীবনীর রাইটস চলচ্চিত্র নির্মাতাকে এক টাকায় বিক্রি করেছিলেন, তবে একই সঙ্গে এটাও নিশ্চিত করেছিলেন যে, চলচ্চিত্র থেকে হওয়া লাভের একটি অংশ ফাউন্ডেশনের জন্য যাতে যায়।

১৩) এশিয়ান গেমসে চারবার সোনা জেতেন মিলখা। ১৯৫৯ সালে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয় তাঁকে। ২০০১ সালে অর্জুন পুরস্কার পান মিলখা সিং।

X
Desktop Bottom Promotion