Latest Updates
-
Ajker Rashifal: কেমন যাবে আজকের দিন? দৈনিক রাশিফল ৩ মে ২০২৫ -
Ajker Rashifal: আজ কোন রাশির ভাগ্যে কী আছে? দৈনিক রাশিফল ২ মে ২০২৫ -
Ajker Rashifal: আজ সারাদিন আপনার কেমন কাটবে? দৈনিক রাশিফল ১ মে ২০২৫ -
Ajker Rashifal: কেমন যাবে আজকের দিন? দৈনিক রাশিফল ৩০ এপ্রিল ২০২৫ -
Ajker Rashifal: আজ কোন রাশির ভাগ্যে কী আছে? দৈনিক রাশিফল ২৯ এপ্রিল ২০২৫ -
Ajker Rashifal: কেমন যাবে আজকের দিন? দৈনিক রাশিফল ২৮ এপ্রিল ২০২৫ -
Ajker Rashifal: আজ সারাদিন আপনার কেমন কাটবে? দৈনিক রাশিফল ২৭ এপ্রিল ২০২৫ -
Ajker Rashifal: কেমন যাবে আজকের দিন? দৈনিক রাশিফল ২৬ এপ্রিল ২০২৫ -
Ajker Rashifal: আজ কোন রাশির ভাগ্যে কী আছে? দৈনিক রাশিফল ২৫ এপ্রিল ২০২৫ -
Ajker Rashifal: আজ সারাদিন আপনার কেমন কাটবে? দৈনিক রাশিফল ২৪ এপ্রিল ২০২৫
বোয়িং ৭৭৭ উড়ানের সবথেকে কম বয়সী এই মহিলা পাইলটের গল্প শুনলে অবাক হয়ে যাবেন!
"আচ্ছা সোনা তুমি বড় হয়ে কী হবে?" আমি...আমিইইই বড় হয়ে ডাক্তার হব! আদো আদো ভাষায় নিজের মনে হঠাৎ জন্ম নেওয়া এমন বড় বড় স্বপ্নের প্রকাশ তো আমরা এইভাবেই ছোট বেলা করে থাকতাম। তাই না! আজও মনে পরে আমার মামা যখন এমন প্রশ্ন করতেন, তখন প্রায় সময়ই আমি মিলিটারি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতাম। কিন্তু বড় হতে হতে কখন যে সেই স্বপ্ন হাত ফসকে পিছনে থেকে গিয়েছিল, তা বুঝে উঠতেও পারিনি। ছোটবেলার সেই স্বপ্ন এখন হয়তো কোনও ডাইরির পাতায় শ্বাস নিচ্ছে। আর আমি, মানে সেই এক সময়কার যোদ্ধা এখন অন্য কাজে ব্যস্ত।
আমার মতো অনেকেরই নিশ্চয় একই অবস্থা! কিন্তু এখানেই আর পাঁচ জনের সঙ্গে অ্যানির পার্থক্য়। অ্যানি দিভ্যিয়া। সবথেকে কম বয়সি ভারতীয় বোয়িং ৭৭৭ বিমানের চালক। হয়তো ভাবছেন বিমান চালানোর মধ্যে অবাক করার মতো কী আছে, তাই তো! তাহলে জনিয়ে রাখি আপনাদের, বোয়িং ৭৭৭ হল পৃথিবীর সবথেকে বিশালাকায় একটি টুইন ইঞ্জিন বিমান। এটি চালানোর প্রশিক্ষণ সারা বিশ্বে মাত্র গুটি কয়েক পাইলটেরই রয়েছে। আর তাদের মধ্যে অন্য়তম হলেন আমাদের অ্যানি। আমাদের মতোই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা একটি অতি সাধারণ মেয়ের স্বপ্ন পূরণের গল্প এটা, যা পড়তে পড়তে আমাদের সবারই আরও একবার নিজেদের স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস তৈরি হবে দেখবেন!
তাহলে আর অপেক্ষা কেন! চলুন এক স্বপ্নের দৌড়কে সামনে থেকে দেখার চেষ্টা চালানো যাক।

মাটি থেকে দূর দেশে:
সেনা অফিসারের ছোট্ট সংসারে জন্ম অ্যানির। বিজয়ওয়াড়ার কেন্দ্রীয় বিদ্য়ালয় থেকে শুরু পড়াশোনার। আর্মি অফিসারের মেয়ে হওয়ার কারণে অ্যানির ছোট বেলা ভারতের নানা প্রান্তে কেটেছে। কখনও উত্তরে তো কখনও দক্ষিণ অথবা পশ্চিমে। তাই কোনও সময়ই কোনও একটা জায়গার প্রতি ভালবাসা জন্মানোর সুযোগই পায়নি ছোট্ট মেয়েটা।

পড়াশোনায় খুব ভাল ছিলাম না!
স্কুল জীবন শেষ হতে হতে প্রায় সারা ভারতবর্ষই ঘোরা হয়ে গিয়েছিল অ্যানির। এমনভাবে একের পর এক স্কুল পরিবর্তনের কারণে পড়াশোনার উপরও প্রভাব পরেছিল। মনোনিবেশ করতে বেশ কষ্টই হত তার। ফলে উচ্চ মাধ্য়মিক পর্যন্ত কখনও-সখনও পাশের গণ্ডি পেরতেও বেশ কষ্ট করতে হত। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অ্যানি বলেছিলেন, "মায়ের পক্ষে আমাকে এবং বাকি ভাই বোনেদের পড়াশোনায় সাহায্য করা সম্ভব হত না। তাই আমরা নিজেরেই যা পারতাম তাই করতাম। তাতে যে রেজাল্ট সব সময়ই ভাল হত এমন নয় যদিও!"

উচ্চ মাধ্যমিকের পরই বদলে গেল ছবিটা:
ছোট থেকেই পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন অ্যানি। তাই ১২ ক্লাসের পরীক্ষা শেষ হতেই বিমান ওড়ানোর ট্রেনিং নিতে ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রীয় উড়ান একাডেমির প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করলেন। ঘটনা চক্রে অ্যাডমিশানও পেয়ে গেলেন। কিন্তু পড়তে গেলে যে অনেক টাকার প্রয়োজন পরবে। এত টাকা আসবে কোথা থেকে? শুরু হল আরেক লড়াই। শেষমেষ এডুকেশন লোন নিয়ে শুরু হল স্বপ্ন পূরণের যাত্রা। ভাববেন না এখানেই অ্যানির যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছিল। দক্ষিণ ভারতের মেয়েটি চোট থেকেই খুব ভাল ইংরেজিতে কথা বলতে পারতেন না। তাই ক্লাসে মাঝে মধ্যেই অপমান সহ্য করতে হত। বন্ধু-বান্ধবরাও মজা করতে ছাড়ত না। কিন্তু তারা একটা বিষয় জানতো না। এমন অপমান অ্যানিকে দুর্বল নয়, বরং ভিতরে ভিতরে আরও শক্ত করে তুলছিল। যার ফল পেলেন কিছু বছর পরে। পেলেন বড় অঙ্কের স্কলারশিপ। এখানেই থেমে গেলে চলবে না। আরও আরও পথ বাকি যে! চলল আরও মন দিয়ে পড়াশোনা।

অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ:
অ্যানির বয়স তখন সবে ১৯। হঠাৎই এয়ার ইন্ডিয়ায় পাইলট হিসেবে কাজ করার সুযোগ এসে গেল। সুযোগ ছাড়লেন না। শুরু হল উড়ান। এর পর পরই স্পেনে যাওয়া। সেখানে গিয়ে আরও অ্যাডভান্স ট্রেনিং-এর সুযোগ এল। ট্রেনিং শেষ করেই সব থেকে কম বয়সে বোয়িং ৭৩৭ ওড়ানোর হাতেখড়ি। সেই শুরু... তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি অ্যানিকে। আজ সে সারা বিশ্ব উড়ে বেড়াচ্ছে বোয়িং-এর স্টিয়ারিং হাতে।

অ্যানির বক্তব্য...
সংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে একবার অ্যানি বলেছিলেন, "সাফল্য পেতে মাটির সঙ্গে লেগে থাকতে হবে। কোথা থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে তা ভুলে গেলে চলবে না। সেই সঙ্গে বাবা-মাকে অনেক অনেক ভালবাসা দিতে হবে। আর সাফল হতে আজ পর্যন্ত শ্রমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে!"



Click it and Unblock the Notifications