প্রতিদিন এই দেবতাদের সামনে প্রদীপ জ্বালালে যে কোনও সমস্যা মিটে যেতে দেখবেন সময় লাগবে না!

নিত্য পুজোর শেষে কম-বেশি সবাই আমরা প্রদীপ জ্বালিয়ে থাকি। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রদীব না জ্বালিয়ে কোনও পুজোই শেষ হয় না।

নিত্য পুজোর শেষে কম-বেশি সবাই আমরা প্রদীপ জ্বালিয়ে থাকি। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রদীব না জ্বালিয়ে কোনও পুজোই শেষ হয় না। কিন্তু একথা কি জানা আছে যে বিশেষ কিছু দেব-দেবীর সামনে নিয়মিত সকাল-বিকাল প্রদীপ জ্বালালে এ জীবনে যে যে সমস্যার কথা আমরা জানি বা শুনে এসেছি, তার কোনওটাই মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। শুধু তাই নয়, জীবন পথে চলতে চলতে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা যে কোনও বাঁধা সরে যেতেও সময় লাগে না। তাই তো বলি বন্ধু, বাকি জীবন সুখে-শান্তিতে যদি কাটাতে হয়, তাহলে এই প্রবন্ধটি পড়ে ফেলতে ভুলবেন না যেন!

প্রসঙ্গত, হিন্দু শাস্ত্রের উপর লেখা একাধিক বই অনুসারে বেশ কিছু দেব-দেবী আছেন, যারা প্রদীপের আলো বেজায় পছন্দ করেন, তাই তো তাঁদের আরাধনা করার পর যদি প্রদীপ জ্বালানো হয়, তাহলে দারুন সব উপকার মেলে। তাই তো এখন প্রশ্ন হল, কোন কোন দেব-দেবীর সামনে প্রদীপ জ্বালালে উপকার মিলতে পারে?

১. রোগ-ব্যাধিকে দূরে রাখতে:

১. রোগ-ব্যাধিকে দূরে রাখতে:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রতিদিন সূর্য দেবতার সামনে প্রদীপ জ্বালালে দেব এতটাই প্রসন্ন হন যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। প্রসঙ্গত, আপনাদের জানিয়ে রাখি রবিবার হল সূর্য দেবের দিন। তাই এদিন সাকাল সকাল উঠে স্নান সেরে যদি সূর্যদেবকে জল দান করতে পারেন, তাহলে আরও অনেক উপকার মেলে।

২. মনের মতো জীবনসঙ্গী পেতে:

২. মনের মতো জীবনসঙ্গী পেতে:

একথা তো সবাই জানেন যে প্রতি সোমবার দেবাদিদেবকে দুধ দিয়ে স্নান করালে মনের মতো জীবনসঙ্গী পাওয়া যায়। কিন্তু একথা কি জানা আছে যে প্রতিদিন রাধা-কৃষ্ণের সামনে প্রদীপ জ্বালালে মনের মতো লাইফ পার্টনার তো মেলেই, সেই সঙ্গে বৈবাহিক জীবনে কোনও সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। তা হল রাধা-কৃষ্ণের ছবির সামনে ভুলেও সকালবেলা প্রদীপ জ্বালাবেন না যেন! এক্ষেত্রে দিয়া জ্বালাতে হবে সন্ধ্যাবেলায়। কারণ এমনটা করলে তবেই কিন্তু উপকার মেলে।

৩. খারাপ স্বপ্ন যাতে না আসে:

৩. খারাপ স্বপ্ন যাতে না আসে:

একেবারে ঠিক শুনেছেন! দিনের পর দিন যদি খারাপ স্বপ্ন আসতে থাকে, তাহলে তা বন্ধ করারও কিন্তু উপায় আছে। এক্ষেত্রে পঞ্চমুখি হনুমানজির ছবি বা মূর্তির সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে ঘুমতে যেতে হবে। এমনটা করলে খারাপ স্বপ্ন আসার আশঙ্কা হ্রাস পাবে। সেই সঙ্গে মনের অন্দরে সুকিয়ে থাকা ভয় দূর হবে এবং গৃহস্থের অন্দরে খারাপ শক্তির আগমণ ঘটার সম্ভাবনাও যাবে কমে। ফলে কোনও ধরনের খারাপ ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আর থাকবে না।

৪. অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে:

৪. অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে:

শত চেষ্টা করেও কি টাকা জমাতে পারছেন না? এদিকে প্রতিদিন যেন খরচের মাত্রা বেড়েই চলেছে? তাহলে বন্ধু উত্তর দিকে ধন দেবতা কুবেরের ছবি বা মূর্তি রেখে প্রতিদিন দেবের সামনে প্রদীপ জ্বালানো শুরু করুন। দেখবেন অর্থনৈতিক সমস্যা তো মিটে যাবেই, সেই সঙ্গে অনেক অনেক টাকার মালিক হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হতেও দেখবেন সময় লাগবে না।

৫. কর্মক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করতে:

৫. কর্মক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করতে:

অল্প সময়ে কর্মক্ষেত্রে চরম উন্নতি লাভ করতে যদি চান, তাহলে বাড়ির ঠাকুর ঘরে রাখা গণেশ দেবের সামনে অফিস বেরনোর আগে প্রদীপ জ্বালানো শুরু করুন। দেখবেন মনের ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগবে না। প্রসঙ্গত, গণেশ দেব হলেন সমৃদ্ধির দেবতা। তাই তো প্রতিদিন বাপ্পার সামনে দিয়া জ্বালালে দেব বেজায় প্রসন্ন হন। ফলে পরিবারে সুখ এবং সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগতে সময় লাগে না।

৬. খারাপ শক্তিকে দূরে রাখতে:

৬. খারাপ শক্তিকে দূরে রাখতে:

রাম,লক্ষণ, সীতা এবং হনুমানজি একসঙ্গে রয়েছেন এমন ছবির সামনে প্রতিদিন প্রদীপ জ্বালালে গৃহস্থের অন্দরে উপস্থিত খারাপ শক্তি দূরে পালায়। ফলে পরিবারের অন্দরে কোনও কলহ বা বিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যেমন হ্রাস পায়, তেমনি ভায়ে-ভায়ে হওয়া বিবাদ বা ঝগড়া মিটে যেতেও সময় লাগে না।

প্রসঙ্গত, দেব-দেবীদের সামনে প্রদীপ জ্বালানোর সময় কতগুলি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। কারণ এই নিয়মগুলি না মানলে কিন্তু কোনও সুফলই পাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে যে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে, সেগুলি হল...

১. প্রদীপ জ্বালানোর সময় দুটো সোলতে ব্যবহার করতে হবে:

১. প্রদীপ জ্বালানোর সময় দুটো সোলতে ব্যবহার করতে হবে:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রদীপ জ্বালানোর সময় কম করে দুটো এবং সর্বচ্চ তিনটি সোলতে জ্বালানো উচিত। কারণ এমনটা করলে দূর্গা, লক্ষ্মী এবং সরস্বতী দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা সম্ভব হয়।

২. হাতের কাছে একটা পরিষ্কার কাপড় রাখতে ভুলবেন না:

২. হাতের কাছে একটা পরিষ্কার কাপড় রাখতে ভুলবেন না:

খেয়াল করে দেখবেন অনেকেই প্রদীপ জ্বালানোর সময় হাতে লাগা তেল হয় পরে থাকা জামায় মুছে ফেলেন, নয়তো চুলে লাগিয়ে নেন। কিন্তু এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে দিনের পর দিন এমনটা করলে মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই যদি এমন ঘটনা এড়িয়ে চলতে চান, তাহলে ঠাকুর ঘরে হাত মোছার একটা কাপড় রাখতে ভুলবেন না যেন!

৩. তেল:

৩. তেল:

প্রদীপ জ্বালানোর সময় কী ধরনের তেল ব্যবহার করা উচিত জানা আছে? বিশেষজ্ঞদের মতে দেবতাদের সামনে দিয়া জ্বালানোর সময় হয় সরষের তেল অথবা ঘি ব্যবহার করা উচিত। কারণ এমনটা করলে পরিবারে সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগে। সেই সঙ্গে গৃহস্তে সুখ-শান্তির পরিবেশ বিগ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

Story first published: Friday, May 25, 2018, 12:56 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion